somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টেলিটক ব্যবহার করবো, কিন্তু কেন???

২০ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ৯:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
(এই পোস্টটি ১৪/১২/২০১০ পোস্ট করা হয়েছিলো। আজ নতুন করে পোস্ট দিলাম। )



আমার তখন ছাত্র জীবনের শেষ পর্যায়। ১ টি গ্রামীনের সিম কিনলাম। মাত্র ছয় হাজার টাকা দাম। তবে কেবল মোবাইল টু মোবাইল কল করা যাবে। ল্যান্ডফোনের কোন কল আসবেও না । ল্যান্ডফোনে কোন কল যাবেও না। মিনিট কলের জন্য কাটে ৭ টাকা । মিস কলে ধরা খেলেও ৭ টাকা শেষ। সেই সময় মোবাইল নম্বর ছিল ০ সহ ৯ ডিজিটের।

এক সময় সারা দেশে চাউর হল যে টিএন্ডটি মোবাইল ছাড়বে। কলরেট অনেক কম হবে। সব চেয়ে বড় কথা এটা কেবল মোবাইল টু মোবাইল নয়। ল্যান্ডফোনে কল করা যাবে। ল্যান্ডফোন থেকেও কল আসবে। কি যে মজার ফোন হবে সেটা। এক দিন পত্রিকার খবরে জানতে পারলাম টিএন্ডটি মোবাইল ছাড়তে পারবে না। নতুন একটি কোম্পানী গঠন করতে হবে। তারাই মোবাইল ছাড়বে। পরে আরো জানতে পারলাম সরকারী ব্যবস্থাপনায় দেশী মোবাইলের কোম্পানী গঠিত হয়েছে। তবে নামটা দেয়া হয়েছেঃ টেলিটক যা মোটেই দেশী নাম নয়। আরো অনেক পরে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হল টেলিটক সিম ছাড়বে। তবে প্রচলিত বাজার পদ্ধতিতে নয়। তাদের সিম পেতে হলে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আমার তখন নেট ব্যবহারের কোন সুযোগ ছিল না। ফলে ই-মেইল ঠিকানাও আমার ছিল না। আমার এক বন্ধু ছিল যে ঢাকায় চাকরি করত তার অফিসে নেট ব্যবহারের সুযোগ ছিল। তার মাধ্যমে আবেদন করলাম। কিন্তু আমার নাম লটারীতে উঠল না। তবে পরের কিস্তিতে আমি একটি সিম পাবার সুযোগ লাভ করি। কিন্তু সিমটি সংগ্রহ করতে আমার ৩ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। সিমটি হাতে পাবার পর যেন আকাশের চাদ হাতে পেলাম। কিন্তু হ্যান্ডসেটে সিমটি বসানোর পর কল করতে গিয়ে দেখি সহজে কল যায় না। কম পক্ষে ১৫ বার কল করার পর কল যায়। সেই অসহনীয় অবস্থায়ও আমি গ্রামীন ফোনের সিম বাদ দিয়ে টেলিটক ব্যবহার করতাম । কারণ একটাই । আমি যদি একটি টাকাও খরচ করি তা যেন দেশেই থাকে।

২০০৭ সালে আমি দেশ ছাড়ার সময় আমার টেলিটক সিমটি আমার বাবাকে দিয়ে আসি । যাতে বিদেশ থেকে সহজে কল করতে পারি। কিন্ত এক সময় কোন এক অজ্ঞাত কারণে সিমটি বন্ধ হয়ে যায়। আমি দেশে না থাকাতে সিমটি আর চালু করা যায়নি। ফলে এখন আমার সেই পুরাতন নম্বর ০১৭-৯৫৮২৫৩ টি আবার চালু করতে হয়।

অন্যান্য অপারেটরদের গ্রাহক কোটি ছাড়িয়ে গেলেও টেলিটক এখনো অনেক হতাশাজনক গ্রাহক নিয়েই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। অথচ টেলিটক কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলেই এর গ্রাহক সংখ্যা কোটিতে নেয়া সম্ভব। টেলিটক যদি অন্যান্য মোবাইলের চেয়ে সামান্য একটু বেশী সুবিধা দেয় তাহলে লাখ লাখ মানুষ যারা এক সময় টেলিটক সিম কেনার জন্য ব্যাংকের সামনে ভোররাতে লাইন দিয়েছিল তারা আবার ব্যবহার করতে শুরু করবে। আমি কয়েকটি সুবিধার প্রস্তাব করতে পারি।

১। এক জোড়া সিমে ফ্রি কল করার সুবিধা দেয়া যেতে পারে। তাতে করে যে কোন লোক কর্মস্থল থেকে তার প্রিয়জনের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখতে পারবে। মাসে ৩০০ টাকার কার্ড খরচ করে এই সুবিধাটি পেলে জোড়ায় জোড়ায় সিম বিক্রি হবে। কেননা, গৃহকর্তা সহজেই গৃহকর্ত্রীর সাথে কথা বলতে পারবে।

২। কম খরচে বিদেশে কল করার সুবিধা দিতে হবে। বর্তমানে বিদেশে বাংলাদেশের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ থাকে। কিন্তু বেশীর ভাগ লোকই দেশ থেকে কোন কল পায় না। মাঝে মাঝে দেশ থেকে মিসড কল আসে। তারপর তারা বিদেশ থেকে কলব্যাক করে। কিন্তু সহজ প্যাকেজ করে বিদেশে কল করার সুবিধা দিতে পারলে দেশ থেকেই মানুষ বিদেশে কল করবে। উদাহরণ স্বরুপ আমি আমার নিজের কথা বলতে পারি। আমি শ্রীলঙ্কার মোবিটেল সিম ব্যবহার করি। কলম্বো থেকে আমি দেশে ল্যান্ডফোনে মাত্র বাংলাদেশী টাকায় সাড়ে ৪ টাকায় কথা বলতে পারি। বাংলাদেশ থেকে কেউ কল করলে লাগে প্রায় ২৫ টাকা মিনিট। তাই দেশ থেকে কল পাবার বদলে আমি দেশে কল করাতেই বেশী আরামবোধ করি। কারণ দেশ থেকে কল এলে কিংবা দেশে কল দিলে উভয় ক্ষেত্রেই বিলের টাকা যাবে আমার পকেট থেকেই । তাই কল করাই ভাল।

৩। টেলিটক সব চেয়ে ভাল মানের মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ দেবার সুযোগ রাখে । কারণ তাদের তাদের মাদার কোম্পানী বিটিসিসি থেকেই বাকি অপারেটররা কিনে নিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছে।

৪। ভাল মানের কল সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহক সেবা দিতে হবে। গ্রাহক সেবার লাইনগুলো হতে হবে টোল ফ্রি। মেইলে অভিযোগ পেলে তার সমাধান দ্রুত দিতে হবে। শ্রীলংকায় গ্রাহক সেবার সব লাইনে ফ্রি কল দেয়া যায়। সাথে সাথে সমাধান দেয়। মেইলে অভিযোগ করলে পরে গ্রাহক সেবা বিভাগ থেকে কল করে গ্রাহকের সব সমস্যার সমাধান দেয় ।

৫। আমি যে মোবিটেল অপারেটরের সিম ব্যবহার করি তাদের একটি কার্ড পাওয়া যায় যার নাম Mobitel Hot IDD. এই কার্ডটি ব্যবহার করলে ২০ টি এসএমএস আর ১৫ মিনিট মোবিটেল টু মোবিটেল কল ফ্রি। বিদেশে কল দেবার বিশেষ সুবিধা সংবলিত TeleTalk Hot IDD কার্ড বের করে তাতে যদি ২০ টি এসএমএস ফ্রি আর ১৫ মিনিট টেলিটক টু টেলিটক ফ্রি কথা বলার সুযোগ দেয়া হয় তাহলে অনেকতেই তা আকর্ষণ করবে।
৬। কেউ যদি এসএমএস পাঠায় তাহলে ফিরতি এসএমএসটি ফ্রি করার সুযোগ দিতে হবে। কেননা, কেউ টাকা খরচ করে এসএমএস এর রিপ্লাই দিতে চায় না।

টেলিটকের অনেক সুবিধার মধ্যে সব চেয়ে বড় সুবিধাটি হল তার রয়েছে লাখ লাখ দেশ প্রেমিক গ্রাহক। অনেক গ্রাহকের সিমই এখন মানি ব্যাগের চিপায় ঢুকে পড়েছে। তারা যদি ভাল মানের সেবা দিতে পারে আবারো সেই সব সিম মানি ব্যাগ থেকে বের হয়ে মোবাইল সেটে ঢুকে পড়তে পারে।

পত্র-পত্রিকা কিংবা বেতার টিভির বিজ্ঞান নয় সবার আগে প্রয়োজন ভাল মানের সেবা। উত্তম সেবার নিশ্চয়তা দিতে পারলে বিজ্ঞাপন দরকার হবে না। মানুষই হুমড়ি খেয়ে পড়বে টেলিটক ব্যবহার করার জন্য । টেলিটক কর্তৃপক্ষ কি চান না যে সবাই টেলিটক সিম ব্যবহার করুক, দেশের টাকা দেশেই থাকুক??
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ৯:৪৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ দহনবেলার কহন কথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:১৫




বুকের অভিমান, ক্ষত লুকিয়েছি মনে


নিঝুম রাতের সঙ্গী তারা গভীর গোপনে।


অচেনা নক্ষত্র জ্বলে নেভে দুরে একাকী 


বিচ্ছিন্নতার উপমা হিসেবে নিজেকেই রাখি। 


আসমুদ্রহিমাচল জ্বালা বুকে তবু দায়িত্ববান 


হাজার দহনে পুড়ে খাঁটি শিখা অনির্বাণ।


© রফিকুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভাড়াটে কান্নাকারী

লিখেছেন রাজসোহান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



লোকে ভাবে আমরা কান্না বিক্রি করি। আমরা কান্না বিক্রি করি না। আমরা শব্দ বিক্রি করি।

শোকসভায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীরবতা। বক্তা বক্তৃতা শেষ করে বসে পড়লেন, পরের বক্তা এখনো মাইকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের টিভি তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭




ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×