এক দিন সন্ধ্যা বেলায় স্বাস্থ্য ঠিক রাখার ভ্রমণের উদ্দেশে পথে হাঁটার সময় কোন এক দেশী ভাইয়ের সাথে দেখা। (বাংলাদেশী শ্রমিকরা কোন বাংলাদেশীকে পেলে দেশী ভাই বলে সম্বোধন করেন)।
ভদ্রলোক বেশ চটপটে। যেখানে কাজ করেন সেটা একটা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। অনেক বেশী কাজ করেন বলে মালিকের আস্থা আছে তার উপর। অন্যান্য শ্রমিকের চেয়ে তার আয় অনেক বেশী। কথায় কথায় তার মাসিক ইনকামের অঙ্কটাও বলেই ফেললেন। তাকে বেশ সফল আর তৃপ্ত মনে হলো।
শুনে খুব ভালো লাগলো আমার। বললাম- টাকাগুলো খুব চিন্তাভাবনা করে খরচ করবেন।সম্ভব হলে আয়ের একটা অংশ কোন ভালো ব্যাংকে সঞ্চয় করুন। এখন আপনার ভালো রোজগার আছে। সামনে হয়তো বা থাকবে না। সেই সময় এখনকার টাকাগুলো আপনাকে বটগাছের মতো ছায়া দেবে।
সেটা জানি ভাই। আমার কোন বদঅভ্যাস নেই। বিড়ি সিগারেট খাই না। কোন নেশা করি না। বাজে খরচের মধ্যে যেটা করি সেটা হলো- দেশে প্রচুর কল করি। পরিবারের সবার সাথে কথা বলি। কাজের শেষে যখন রুমে যাই তখন খুব একা একা লাগে। ইমোওয়ালা একটা ফোন কিনেছি। স্ত্রীকেও কিনে দিয়েছি। কথা বলার সময় সবাইকে দেখতে পাই। এটাতে খুব বেশী খরচ হয় না। তবে খুব শান্তি লাগে।
এক সময় ফোন করা কত কঠিন ছিল। পুরো গ্রামে একটা ফোন ছিল না। এখন বলতে গেলে হাতে হাতে ইমো আর ফেসবুকওয়ালা ফোন।
*************************************************************
মালয়েশিয়ার পুলিশ আর ইমিগ্রেশন ব্যাপক ধরপকড় করে। সব পুলিশ ভালো নয়। কাগজপত্র থাকলেও ধরে। না থাকলেও ধরে। পাসপোর্ট থাকলেও ধরে। না থাকলেও ধরে। অনেকেই ব্যাখা করে ছাড়া পায়। ছাড়া পায় না এমন লোকও খুব কম নয়।
খুব খারাপ লাগে যখন দেখি অনেক দেশী ভাইকে পুলিশ ধরে পথের পাশে কোন একটা জায়গায় বসিয়ে রেখেছে। আর দেশী ভাইয়েরা অসহায় হয়ে বসে আছে।
আমার মাঝে মাঝে মনে হয়- দেশের শ্রমিক দেশে কাজ করে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘর সংসার করতে পারলে কতই না ভালো হতো। কয় দিনের মানব জীবন। পেটের দায়ে ২০/২৫ বছর একা একা বিদেশে বিভুইয়ে কাটিয়ে দিচ্ছে কত তরুণ আর যুবা। দেশে তাদের জন্য প্রচুর কলকারখানা থাকা খুবই দরকারী। যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়া খুবই জরুরী।
মানুষ হাসিখুশী থাকুক। সবার মন হোক ভালো। হিংসা দূর হোক।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০১৯ ভোর ৫:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





