somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

লাল-সবুজের দেশে বিশ্বকাপ.... লাল-সবুজ পতাকা কই ???

১২ ই মার্চ, ২০১৪ দুপুর ২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০১১ সাল । প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক বাংলাদেশ । তখন আমি একটি ফ্যান ক্লাবের সাথে যুক্ত । মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত উত্তেজনা ! উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগের দিন ক্লাবের মিটিং বসলো। তখন ই কথা টা উঠল ! ফুটবল বিশ্বকাপে সমগ্র বাংলাদেশ নানান দেশের পতাকায় ভরে যায় ! যেই দেশ আমাদের নাম পর্যন্ত শুনে নাই তাদের পতাকা নিয়ে আমরা মাতামাতি করি ! যেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ এখন ও প্রি-কোয়ালিফাইং ম্যাচ খেলে( দুঃখজনক) সে বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা উন্মাতাল! আমি নিজেও শেষ ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ১৫০ ফুট পতাকা নিয়ে মিছিল করেছি ! অথচ নিজের দেশ এ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ! নিজের দেশ খেলছে ! শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলছে ! কিন্তু কোথাও তেমন পতাকা দেখা যাচ্ছে না ! অদ্ভুত ! কি করা যায় ভাবতে ভাবতে অনেক টা ঝোঁকের বশেই ক্লাবের পক্ষ থেকে লিফলেট ছাপানো হল । বিষয় বস্তু বাড়ির ছাঁদে , বারান্দায় , গাড়ি তে দেশের পতাকা লাগানো এবং পতাকা কে সঠিক ভাবে সম্মান প্রদর্শন ! লিফলেটের সংখ্যা ঢাকার জনসংখ্যার তুলনায় অনেক কম । ভরসা ছিল গেরিলা মার্কেটিং ( মার্কেটিং এর ছাত্রছাত্রী রা ভালো বুঝবে ) ।

আমার জীবনের স্মরণীয় অসংখ্য রাতের মধ্যে ওই রাত একটি । আমি এবং আমার এক বন্ধু ২ ঘণ্টার মধ্যে ড্রাফটিং , এডিটিং শেষ করে লিফলেট ছাপাতে দিলাম আরামবাগের একটি প্রেস এ । ৬ ঘণ্টার মধ্যে লিফলেট ছাপা হল । রাত ৩টায় লিফলেট হাতে পেলাম । সারাদিন খেলা দেখার প্রস্তুতি শেষ করে সারারাত জেগে পেপারে লিফলেট ভরার কাজ শেষ করলাম । ভারত - বাংলাদেশ উদ্বোধনী ম্যাচের দিন সকালে মানুষ পত্রিকার সাথে লিফলেট হাতে পেল । আমরা টানা ৫৬ ঘণ্টা না ঘুমানো অবস্থায় খেলা দেখতে গেলাম !

লিফলেট দেওয়ার ফলে সামগ্রিক ফলাফল কি হয়েছিল জানি না । কিছু টুকরো টুকরো ফিডব্যাক এর কথা বলতে পারি । প্রথম ফোন টা পাই মালয়সিয়া থেকে । ফোন কর্তার ভাই লিফলেট পেয়ে বাসার ছাঁদে পতাকা লাগায় এবং ফোন দিয়ে তার ভাই কে এটার কথা বলে । সে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য আমাদের নাম্বার জোগাড় করেছে ! কথোপকথন যথেষ্ট আবেগ্ ময় ছিল । ২য় ফোন পাই অতিশ দিপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের কাছ থেকে । ওই মুহূর্তে প্রচণ্ড গর্ব অনুভব হচ্ছিল তার কথা গুলো শুনে । এর পর একের পর এক ফোন - মেসেজ আসতে থাকল ।

আবার ও বিশ্বকাপ এসেছে ! এবার বাংলাদেশ আগের থেকে অনেক শক্তিশালী এবং পরিণত দল । সবচেয়ে বড় কথা নিজের দেশ । আবেগ টা সরবোচ্চ থাকার কথা ! দেশের খেলা তো যুক্তি তর্ক নিয়ে দেখতে বসি না , আবেগ নিয়ে দেখতে বসি। আমার পক্ষে সম্ভব হলে সব বিল্ডিং গুলো লাল সবুজ করে দিতাম ! বেক্তিগত ভাবে আমি বিশ্বকাপের ওই সময় টায় ব্যাগে এবং হাতে পতাকা বেধে ঘুরে বেড়াতাম। অন্যরকম শান্তি লাগত। সাহস পেতাম ।

সবার কাছে বিনিত নিবেদন থাকল যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে নিজের বাসার ছাদ , বারান্দা , গাড়ি , বাইক , সাইকেল যেখানেই হোক দেশের পতাকা লাগাই । নিজের অন্তরে লাল সবুজ ধারন করি । সমগ্র দেশ যেন লাল সবুজে ভরে যায় । আমরা আমাদের এই ছোট্ট দেশ টাকে অসম্ভব ভালবাসি । বিশ্ব কে সেটা দেখানোর প্রয়োজন আছে ।

হয়ত পতাকা আইনের কথা আসতে পারে । আমার দৃষ্টি ভঙ্গি এ ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন । আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে যা বুঝি পতাকা কে যথাযথ সম্মান দিয়ে যদি আমি ভালোবেসে সেটা ধারন করি তাতে সমস্যা থাকার কথা না ! আমাদের জাতীয় সঙ্গীত , জাতীয় পতাকা এসব তো আমাদের অহংকার ! মাঝে মধ্যে এ ধরনের অহংকার বহন করতে হয় ।

চোখ বন্ধ করলেই আমি শুধু লাল সবুজ দেখি আর কানে বাজে- বাংলাদেশ ! বাংলাদেশ !! বাংলাদেশ !!! এই অনুভুতি ভাষায় বর্ণনা করার মতো না ! আমি ভাগ্যবান আমি বাংলাদেশী ! আমি গর্বিত আমি বাংলাদেশী !! অবশ্যই আমি অহংকারী কারন আমি বাংলাদেশী !!!
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×