somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তোর জন্য , প্রিয়তা -০১

২৩ শে মার্চ, ২০১৪ দুপুর ১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখন রাত ১২-৩৫ । আয়োজন করে তোকে চিঠি লিখতে বসেছি । আধপোড়া একখান মোম বাতি জোগাড় হয়েছে । অন্ধকার ঘরের চার দেয়ালে আলো ছায়ার খেলা খেলতে খেলতে নিজের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে সে।পাশে কোনা ভাঙ্গা কাপ আর ফ্লাক্স ভর্তি চা । গুনে গুনে তিন কাপ চা খেয়ে লিখতে বসেছি । জানিস তো তিন হচ্ছে ম্যাজিকাল প্রাইম সংখ্যা । তিন মানে আমি-তুমি-সে । তিন মানে স্বর্গ-মর্ত-নরক । সাথে সিগারেট নেই । নিচে গিয়ে আনতে ইচ্ছা করছে না । সম্ভবত বয়সের সাথে আলস্যের সম্পর্ক সমানুপাতিক । ২৯০০০ সিগারেটকে চুম্মন করে ঠোঁট আজ এম্নিতেও ক্লান্ত । তুই কখনোই সিগারেট পছন্দ করতি না । একদিন ক্লাস শেষে সিগারেট ধরাতেই হটাত মুখের মধ্যে পানি ছুঁড়ে মেরেছিলি ! মেরে এমন ভাব করলি যেন এটাই স্বাভাবিক । আমাকে পানি মেরেই তোর দিন কাটে ! ভেজা শার্ট নিয়ে তোর পিছে পিছে ঘুরলাম একটা সরি কখন গ্রহণ করবি তার আশায় । সেই সরি গ্রহণ করতে তোর সে কি শর্তের বহর ! সরি পাওয়ার সাথে সাথে উদাসিন ভাবে আরেকটা সিগারেট ধরালাম ! দেখে তুই ফিক করে হেসে দিলি । কখনও তোকে বলা হয় নি প্রিয়তা , ওই হাসি দেখার জন্যই আমার ভার্সিটি আসা হত। নাহলে কে আসে দেড় ঘণ্টার বিরক্তিকর ক্লাস গুলো করতে ! শেষ বেঞ্চে বসে তোকে দেখা আর কবিতা লেখা ছাড়া কখনও কিছু করেছি বলে তো মনে পড়ে না ! তুই প্রথম বেঞ্চে বসে কি মনোযোগ দিয়ে লেকচার তুলতি আর ফাঁকে ফাঁকে কলমের মুখ টা ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরে রাখতি ! কি যে হিংসা হতো ওই অপদার্থ কলম টাকে !!

তোকে নিয়ে লেখা আমার প্রথম কবিতা ছিলো "চোখ" । তখন ও আমাকে ঠিক চেনা হয়ে ওঠেনি তোর । শুধু জানতি চশমা পড়া এই ছেলেটা হটাত হটাত ক্লাসে এসে লাস্ট বেঞ্চে মাথা নিচু করে ঘুমায় আর স্যাররা কিছু জিজ্ঞেস করলে রাজ্যের লজ্জা নিয়ে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকে। কবিতাটা লিখে যখন তোকে দিলাম সে কি বিস্ময় তোর চোখে ! ভাবিস নি একদম অপরিচিত একটা ছেলে এভাবে তোকে নিয়ে ৩৮ লাইনের কবিতা লিখে বসে আছে ! আমি অপলক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম সেদিন তোর দিকে। এই বিস্মিত চোখ আর ঝর্নার মতো হাসি বুকে নিয়েই তার পর থেকে এক একটা দিন কাটত আমার । সম্ভবত তুই জানতি । আর জানতি বলেই সকাল ৭-১৫ তে আমাকে ফোন দিয়ে ঘুম ভাঙ্গিয়ে বলতি - এই হারামি উঠ! ক্লাসে আসবি না??? সারারাতের খেয়ালিপনা শেষে হয়ত ঘুমিয়েছি ভোর ৬ টায় ! ফোনটা ধরেই বালিশের পাশে রেখে দিতাম । তুই চিল্লাচিল্লি করতি । আমার কাছে ঘুম পাড়ানির গান মনে হত । তারপর যখন এলোমেলো চুল নিয়ে খালিব্যাগ কাঁধে কোন মতে এসে ১২-৩০ এর ক্লাসটা ধরতাম তুই ছোট ছোট চোখ করে বলতি - তুই এমন কেনো !! কখনও জিজ্ঞেস করা হয় নি - আমি কেমন প্রিয়তা ???এমন কত শত কথা আজো জিজ্ঞেস করা হয় নি তোকে ! এই যে এত কথা বলা হল অথচ চিঠির প্রথম লাইনটাই গুছিয়ে লেখা হল না । আমি এমন ই প্রিয়তা ... আমি এমন ই ।

৩ টা বাজছে । মোটামুটি রহস্যময় সময় । এই সময়ে আবেগের পারদ সবচেয়ে উপরে থাকে । মোমের আলো পুড়ে পুড়ে ক্লান্ত । ক্লান্ত আমার মনের দেয়ালে জমে থাকা অবশ অনুভুতিগুলো । কিছু সময়ের জন্য তোকে "তুমি" তে আবদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলাম । সম্ভব হয় নি । আসলে কিছু সম্পর্ক কখনও তুমি তে আবদ্ধ থাকে না । তোকে নিয়ে লেখা ৫৭ তম কবিতায় বলেছিলাম- "আমি একটা “তুই” চাই/একটা সত্যিকারের “তুই” চাই/যে জানবে আমার পুরো ভেতর টা/যে কোনও দিন “তুমি” কিংবা “আপনি” তে হারিয়ে যাবে না ।" সত্যিই কি আমি তাই চেয়েছিলাম প্রিয়তা ? নিজেকে মাঝে মধ্যে বড্ড অচেনা মনে হয়। কি চাই কি চাওয়া উচিৎ কিছুই বুঝে উঠতে পারি না ।

জানালা খুলে দিয়েছি । আকাশে জ্যোৎস্নার ঘ্রাণ । একবার তোকে ফোন দিয়ে হটাত বলেছিলাম চাঁদ টা দ্যাখ প্রিয়তা । তোর মতো কাব্যিক না হলেও খারাপ না দেখতে । বিরক্ত হয়ে তুই মুখের উপর ফোন কেটে দিলি । আমি জানি বারান্দায় বসে সেদিন চাঁদটা তুই ঠিকই দেখেছিলি ।বাতাসে তোর চুল গুলো উড়ে মুখের উপর এসে পরছিল । সমুদ্রের মতো গভীর চোখ দুটোতে রাজ্যের মায়া এসে ভর করেছিলো। পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে তুই চাঁদ দেখছিলি । আর কল্পনার চোখে আমি দেখছিলাম তোকে ।

চিঠি লিখতে বসে রাজ্যের আবর্জনা লিখে যাচ্ছি । জানি বরাবরের মতো তুই ঠোঁট উল্টে বলবি - ঢং !! আমি আবার নতুন করে প্রেমে পড়বো তোর সেই তাচ্ছিল্য মাখা ঠোঁটের ।

( চলবে )
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×