১৯৭১ সালে হায়েনা কামারুজ্জামানদের হাতে কত স্বজন হারিয়েছে জাতি। কত মা বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে এরা। এদেরকে বাঙালী জাতি আজ বিচারের মুখোমুখি করেছে। বিচার হয়েছে। বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। আইনের সর্বোচ্চ সুবিধাও দেয়া হয়েছে। এই হায়েনার দলের মুরুব্বিরা ১৯৭১ সালে যেভাবে স্নেহ দিয়েছে, একই প্রক্রিয়ায় ২০১৫ সালে স্নেহ মায়া মমতা দিয়ে যাচ্ছে। এই মুরুব্বিদের বাঙালী জাতি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৭১ সালের ঘাতক হায়েনাদের বিচার করে জাতিকে শাপমোচন করছে। শাপমোচনের দ্বিতীয় ধাপে কামারুজ্জামানের ফাঁসি। এর আগে কসাই কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতির কাঁধে থাকা জগদ্দল পাথর সমান কলঙ্ক মোচনের পথ প্রসারিত হয়েছে। কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত তারুণ্যের দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শেষ হলো। ঘাতক কামারুজ্জামান একাত্তরে টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর এই তিন জেলার আলবদর বাহিনীর কমান্ডার। নরঘাতক কামারুজ্জামান মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ফেরিওয়ালা ছিল। দোকানে দোকানে মাল ফেরি করে বিক্রি করত। কামারুজ্জামান ১৯৭১ সালে প্রথম আঘাত হানে শেরপুর জেলা শহরের সুরেন্দ্র মোহন সাহার বাড়িতে। সুরেন মোহনের বাড়িটি দখল করে রাজাকার বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করে। ঘাতক কামারুজ্জামান এই বাড়িতে যুদ্ধকালীন জল্লাদখানায় পরিণত করে। পাকি আর্মি মেজর আইয়ুবের ডানহাত হিসেবে কামারুজ্জামান ক্ষমতার শীর্ষে চলে যায়। সুরেন্দ্র মোহনের বাড়িতে পাকি আর্মিদের মনোরঞ্জনের জন্য শহর গ্রামের মা-বোনদের তুলে এনে দেয়। ক্ষতবিক্ষত মা-বোনদের ওপর হায়েনা কামারুজ্জামানও বর্বর নির্যাতন করত। এরপর তাদের এক সময় গুলি করে হত্যা করত। ফেলে দিত শিয়াল শকুনের খাবার হিসেবে। চোখের সামনে অসংখ্য নারী-পুরুষকে হত্যা করে উল্লাসে মেতেছে। নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার রক্তমাখা হাত এখনও শুকায়নি কামারুজ্জামানের। স্বাধীনতার ৪৪ বছর ধরে কামারুজ্জামান একই রকম দম্ভ করেছে। সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সম্পাদক এবং জামাতি পত্রিকা সংগ্রামের নির্বাহী সম্পাদক এই আলবতার নেতা ৪৩ বছর যাবত তার লেখনির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী প্রচার চালিয়েছে। আইনে বলা আছে কোন পত্রিকার সম্পাদকের ফাঁসি অর্থ ঐ পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ অথ্যাৎ সাপ্তাহিক সোনার বাংলার পত্রিকার আর যাতে প্রকাশ না হতে পারে । সরকার এই বিষয়ে ভেবে দেখবে বলে দেশ বাসী মনে করে।
সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার সম্পাদকের ফাঁসিতে পত্রিকার প্রকাশনারও ফাঁসি হওয়া উচিত
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....
চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....
বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?


“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।