
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সৌরশক্তি এখন সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্পখাতের উন্নয়ন ও প্রসার এবং নতুন টেকনোলজির এই বিকল্প শক্তির প্রয়োজনীয়তা এখন অপরিহার্য।বিশ্ব বাজারে টিকে থাকার স্বার্থে দেশে সোলারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০০৮ প্রণয়ন করেছে। এই
নীতিমালায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির মূল উৎস হিসাবে সৌর শক্তি, বায়ুশক্তি, বায়োমাস, হাইড্রো, বায়ো ফুয়েল, জিও থার্মাল, নদীর স্রোত, সমুদ্রের ঢেউ ইত্যাদিকে শনাক্ত করেছে। ঘোষিত এই নীতিমালা অনুযায়ী ২০২০ সাল এবং তার পরবর্তী বছরগুলোতে নবায়নযোগ্য শক্তি হতে ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৫০ লাখ পরিবারকে সোলার হোম সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যুৎ ও ডিজেলের উপর চাপ কমাতে সেচ খাতেও সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। গ্রীড টাইপ পদ্ধতিতে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা জাতীয় গ্রীডে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। গ্রিড বিদ্যুতের ওপর চাপ কমাতে সরকার ইজিবাইকে সৌর শক্তির ব্যবহার শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য দেশের ৪টি স্থানে সোলার চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এর আর্থিক অনুদানে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-আরইবি এর অধীনস্ত বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এসব স্টেশন স্থাপন করবে। ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর এবং কুমিল্লাসহ দেশের চারটি স্থানে ২০-২২ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। এজন্য স্রেডা ও আরইবির সংশ্লিষ্ট এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে বুধবার একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সারাদেশে আরো সোলার চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিদ্যুৎচালিত ইজিবাইকের ব্যবহার বেশী সেসব এলাকায় প্রথমে সোলার চার্জিং স্টেশন বসানো হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



