somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সর্বোচ্চ তিনগুণ ক্ষতিপূরণের বিধান আসছে ভুমি অধিগ্রহণে

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমান পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিচার করে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের হার নির্ধারণ করা হচ্ছে। বাজার মূল্যের চেয়ে দেড়গুণ, দ্বিগুণ এবং ক্ষেত্র বিশেষে তিনগুণ মূল্য ক্ষতি পূরণের বিধান রেখে ভূমি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন করা হচ্ছে। পার্বত্য তিন জেলাকেও এর আওতাভুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ একটি আইন করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে পার্বত্য ৩ জেলার ভূমি অধিগ্রহণের আওতামুক্ত রেখে মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। পরে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে ওই তিন জেলার ভূমি অধিগ্রহণের বিধান আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এখন থেকে অন্য ৬১ জেলার ন্যায় পাবর্ত্য তিন জেলার ভূমিও অধিগ্রহণ করা যাবে। এতে শুধু ভূমি অধিগ্রহণ করা যাবে। কোন স্থাপনা কিংবা উদ্যান, গাছ গাছালিসমৃদ্ধ কোন বনভূমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। দেশে স্থাবর সম্পত্তি হুকুম দখল ও অধিগ্রহণের জন্য পূর্ণাঙ্গ কোন আইন ছিল না। এতে সরকারী প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এক একটি প্রকল্পের জন্য একটি করে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হয়েছে। অধিগ্রহণের সময় ভূমি মালিকরা ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাজার মূল্যের চেয়ে দেড়গুণ, দ্বিগুণ এবং ক্ষেত্রবিশেষ তিনগুণ মূল্য পাবেন। যে স্থানে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে অধিগ্রহণের আগেই ওই এলাকার ভিডিওচিত্র সংরক্ষণ করা হবে। অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে। এ ধরণের নতুন নতুন বিভিন্ন বিধিবিধান সংযোজন করে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭ প্রণয়ন করা হচ্ছে। ১৯৮২ সালে সামরিক সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ বলে অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কার্যাবলী সম্পাদন করা হত। একটি পূর্ণাঙ্গ আইন করা হচ্ছে বিধায় একই বিষয়ে একাধিক আইন প্রণয়ন করার প্রয়োজন হবে না। সে লক্ষ্য পূরণে আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে। যে কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের সময় অসৎ উদ্দেশ্যে বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়। বেশি ক্ষতিপূরণ লাভের উদ্দেশ্যে একশ্রেণীর মানুষ এ ধরনের কাজ করেন। তাদের সঙ্গে প্রশাসনের অনেকের সখ্যতাও থাকে। এতে সরকারী অর্থের ব্যাপক অপচয় হয়। কেউ যাতে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রকল্প এলাকায় কোন ধরনের ঘরবাড়ি কিংবা অন্য কোন স্থাপনা তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণের আগেই ওই এলাকার ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা সরকারীভাবে সংরক্ষণ করা হবে। প্রকল্প এলাকার অবস্থা গাছপালা, উপরিস্থ অবকাঠামো সবই এতে সংরক্ষিত হবে। ভূমি মালিক ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ কাজ সম্পন্ন করবে। গত ৫ ডিসেম্বর যখন আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয় তখন আইনটিতে পাবলিক পারপাস ও পাবলিক ইন্টারেস্ট দুইটি শব্দ যুক্ত করা হয়েছে। এখন আইনটিতে পাবলিক পারপাস ও পাবলিক ইন্টারেস্ট শব্দ দুইটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা সংযুক্ত করা হয়েছে। অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের রেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। বাস্তবে অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিদ্যমান অধ্যাদেশে এ বিষয়ে কোন কথা বলা নেই। সেই ক্ষেত্রে এখন থেকে সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের বিষয়টি আইনী কাঠামোর মর্যাদা পাবে। অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিরা ৩টি ক্ষেত্রে ৩ ধরনের বাড়তি মূল্য পাবেন। এ মূল্য ভূমির মৌজাভিত্তিক ১২ মাসের বাজার দরের গড় মূল্যের আলোকে নির্ধারিত হবে। সেই ক্ষেত্রে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য সরকারীভাবে ভূমি অধিগ্রহণ করা হলে বাজার মূল্যের দ্বিগুণ মূল্য ভূমি মালিককে দেয়া হবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক ১৫ দিনের সময় পাবেন। লাভজনক বেসরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করা হলে ভূমি মালিককে বাজার দরের তিন গুণ মূল্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়া হবে। আর যে ক্ষেত্রে অধিগ্রহণ বাধতামূলক সেই ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভূমি মালিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাজার মূল্যের দেড়গুণ টাকা পাবেন। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে সরকারের কাছ থেকে আগেই অনুমোদন নিতে হবে।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ২:৫৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×