ভারতের চতুর্মূখী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে সবাই যখন ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহবান জানাচ্ছিল তখন নিজের ছোট বেলার একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল যা আগে কখনওই সেভাবে উপলব্ধি করিনি। আজ এতদিন পর সেই ছোট্ট ঘটনা নতুন করে আমার মায়ের জন্য শ্রদ্ধা আর গর্বে বুকটা ফুলে উঠছে।
শিশুরা আশেপাশের পরিবেশ থেকে প্রভাবিত হয়, ৬-৭ বছর বয়স হবে ঠিক কি কারনে প্রভাবিত হয়েছিলাম পুরো ঘটনা আজ আর কিছুই মনে নেই, শুধু মনে আছে একদিন মাকে এসে বলেছিলাম এখন থেকে সব স্বদেশী পণ্য ব্যবহার করবে। ‘স্বদেশী পণ্য কিনে হও ধন্য’ স্লোগানে শরিক হতে একটা অবুঝ শিশু তার মাকে এমন কথা বলতেই পারে সেটা কোন আশ্চর্যের বিষয় নয়, আশ্চর্যের বিষয় হল সেই মা যদি তার অবোধ শিশুর অবোধ ইচ্ছাকে পালনের সর্বোচ্চ চেস্টা করেন। আমার মা সেই কাজটিই করেছিলেন এবং আজও করে চলেছেন। সে সময় ভারতীয় শাড়িতে বাজার ছিল সয়লাব, মাও ভারতীয় শাড়ি পরতেন, এরপর থেকে মা বৈচিত্রহীন টাঙ্গাইলের শাড়ি পড়া শুরু করলেন। তখন ভালো মানের দেশী শাড়ি পাওয়াই মুশকিল ছিল। একমাত্র ভরসা ছিল বেইলী রোড। আজকাল অনেক বুটিক হাউস হয়ায় আর এরা দেশী পণ্যের ব্রান্ডিং করায় আমার মায়ের শাড়ী সংগ্রহের ঝক্কি অনেকটাই কমে এসেছে।
আকাশ সংস্কৃতির যুগে ভারতীয় চ্যানেলের দৌরাত্ম যথন ঘরে ঘরে তখনও আমার মা বাংলাদেশী চ্যানেলের অনুষ্ঠান দেখেন, কিন্তু হায় দেশী চ্যানেলের বিজ্ঞাপন দৌরাত্মে মাও বুঝি মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন!! ফ্রি মার্কেটের যুগে সবসময় সম্ভব না হলেও এমনই ছোট ছোট অনেক কাজ করে চলেছেন নিরবে। আর সেই আমি কি করছি? কতটুকু করছি??
লেখালেখির অভ্যাস নেই তা্ই সামুতে আমার কোন পাঠকও নেই তারপরও নতুন পাওয়া উপলব্ধি, বোধের গভীরতা থেকে মায়ের ভাষার মাসে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে লিখলাম।
মা যুগে যুগে তুমি আছ বলেই মুক্ত জল হাওয়ায় আজও আমরা নিঃস্বাস নেই, মাথা উচু করে চলি পৃথিবীর বুকে..
মা তোমাকে সালাম.......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



