বহুল আলোচিত আই ট্রাভেলস লি: এর অস্ট্রেলিয়ায় টিকেট কেলেঙ্কারীর নায়ক খালেদ আবদুল্লাহ বিন হক এবং তার বিশেষ সহযোগী নবকুমার অবশেষে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া শতাধিক প্লেন যাত্রীর টাকাসহ অস্ট্রেলিয়াতে এ প্রতিষ্ঠানের কর্মরত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ধার করা টাকাসহ প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঘটনার নয়মাস পর প্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতার সুযোগে পালিয়ে গেছে বলেই অভিযোগ উঠেছে ।

ভুক্তভোগীদের চরম হতাশা আর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এ বিষয়টি। কারণ প্রায় প্রতিদিনই ভুক্তভোগিদেরকে ঢাকা অফিস থেকে খালেদ এবং নবকুমার আশ্বাস দিচ্ছিলো টাকা ফেরত দেয়ার। কিন্তু অবশেষে তাদের ঢাকা অফিস এবং খালেদের মিরপুরের বাড়ীতে গিয়ে ধর্ণা দিয়েও কোন লাভ হয়নি। অফিস এবং বাড়ী দু জায়গা থেকেই জানানো হয় যে, খালেদ এবং নবকুমার কোথায় আছেন তা কেউ জানে না। তবে এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, খালেদ নিয়মিতভাবেই তার পরিবারের সাথে রাতের আঁধারে যোগাযোগ রাখছে। আর বিভ্ন্নি পত্রপত্রিকায় খালেদের কুকর্মের খবর প্রকাশিত হওয়ায় এলাকাবাসীও খালেদের ব্যাপারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এলাকাবাসী জানিয়েছেন খালেদকে দেখামাত্রই পাকড়াও করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে তারা প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছেন। এখন শুধু সুযোগ আর অপেক্ষার পালা।
বিগত কয়েকদিন বিভিন্ন মিডিয়াতে এ বিষয়টি লেখালেখি হওয়ায় খালেদ ইতোমধ্যেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছে। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টসহ সবরকম যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখছে খালেদ। তার সাথে যোগাযোগের প্রতিটি মাধ্যমই বন্ধ। অন্যদিকে খালেদের অন্যতম সহযোগি নবকুমারও তারই দেখানো পথেই হাটছে। সে ও মোবাইল বন্ধ রেখেছে। ইতোমধ্যেই নবকুমার তার আগের ফেসবুক অ্যাকাউন্টও পরিবর্তন করেছে। আগের নবকুমার এর পরিবর্তে বর্তমানে এন কে সাহা নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে বলেই প্রমাণ মিলেছে।

ভুক্তভুগিরা বারবার পাওনা টাকা ফেরতের জন্য সম্ভব্য সকল উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোন ভাবেই এ দুজনকে খুঁজে পাচ্ছেন না। ঢাকার আই ট্রাভেলস অফিসের সকল টেলিফোন বিচ্ছিন্ন রয়েছে। স্বশরীরে হাজির হলেও অনেক ডাকাডাকির পর অফিস সহকারী কালাম জানায় স্যারেরা কেউ নেই। কোথায় গেছে তাও জানে না। তবে মোবাইলে সব খোঁজ খবর নেয় খালেদ এবং নবকুমার। সময় সুযোগ বুঝে রাতের আধারে অফিসেও কদাচিৎ আসে তারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে ইতোমধ্যেই গাড়ী বদলে ফেলেছে খালেদ। সম্প্রতি একটি বিএমডাব্লউ কিনেছে খালেদ। আর তাতে একসাথেই ঘুরে বেড়াচ্ছে আলোচিত খালেদ এবং তার সহযোগী নবকুমার।

ভুক্তভোগিরা পাওনা টাকা পাওয়ার জন্য কাকুতি মিনতি করলেও খালেদ এবং তার সহযোগী নবকুমার একেবারেই লাপাত্তা। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন প্রতিনিয়ত প্রতারক খালেদ আর নবকুমারের ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন মিডিয়াতে, কিন্তু তারপরও খালেদ এবং নবকুমার কিভাবে পালিয়ে থাকছে। এই প্রতারক দুজনের কাছে সরকারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কি এতটাই অসহায় যে তারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে যাবে আর ভুক্তভুগীরা ভোগান্তির চরমে পোঁছবেন? এটিই এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




