somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহাবিশ্ব কার সৃষ্টি?

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কে ধর্মের কথা বললেই অনেকের মাথাব্যাথা, বমিবমি ভাব, চক্ষু ব্যাথা শুরু হয়।
অাইনস্টাইন একটা কথা বলেছিলেন,"বিজ্ঞান ধর্ম ছাড়া পঙ্গু, আর ধর্ম বিজ্ঞান ছাড়া অন্ধ"
Cosmology বা মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কিত বিষয় যখন বিজ্ঞানের বিষয় হিসাবে যুক্ত হয় সেটা সম্ভবত ১৯১৬ সালের দিকে।
কোরঅান যখন নাযিল হয়েছিলো তখন জ্যোতির্বিজ্ঞান ছিলো একদম প্রাথমিক পর্যায়ে।
পবিত্র কোরঅানে মহাকাশের বিস্তৃতি সম্পর্কে বলা হয়েছে-" অামি অাকাশ নির্মাণ করেছি অামার ক্ষমতাবলে এবং অামি নিশ্চই মহাসম্প্রসারণকারী।"( সুরা-যারিয়াত, অায়াত-৫১


এই মহাবিশ্বে পৃথিবী তার কক্ষপথে প্রতি ঘন্টায় প্রায় ১০৭২০০ কি.মি. বেগে ঘুরছে। যেটা শুরু থেকেই অপরিবর্তনীয়।
অাকাশ বা স্বর্গ শব্দটি কোরঅানে বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে।
এই শব্দটি ইঙ্গিত করছে মহাশূন্য এবং বিস্তির্ণ মহাবিশ্বের প্রতি। বিংশ শতাব্দির প্রারম্ভ পর্যন্ত বিজ্ঞান জগতে একটিমাত্র অভিমত প্রচলিত ছিলো। অার তা হলো, মহাবিশ্বের রয়েছে একটি অপরিবর্তনীয় প্রকৃতি (যেটা কখনই পরিবর্তন হয়না)। অার সেটা রয়েছে অনন্তকাল হতে।
যাই হোক, বর্তমান গবেষণা, পর্যবেক্ষণ এবং গণনা কোটা সম্পন্ন হয়েছে অাধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যার মাধ্যমে। সেই গবেষণা প্রকাশ করেছে যে, বাস্তবিকই মহাবিশ্বের একটা শুরু ছিলো এবং এটা দিন দিন সম্প্রসারণ হচ্ছে।
বিংশ শতাব্দির শুরুতে রাশিয়ার পদার্থবিদ অালেকজান্ডার ফ্রিডম্যান এবং বেলজিয়ামের মহাবিশ্বতত্ত্ববিদ জর্জ লেমেইটার তত্ত্বগতভাবে নিরুপন করেন যে, মহাবিশ্ব একটা অপরিবর্তনীয় গতিতে চলছে।
অার সেই গতিটি হলো এর সম্প্রসারণ।
১৯২৯ সালে পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত ডাটা(উপাত্ত) ব্যবহারের মাধ্যমে (তাদের) এই ধারণার নিশ্চয়তা লাভ করে।
যখন টেলিস্কোপের সাহায্যে অাকাশ পর্যবেক্ষণ চলছিলো -অামেরিকার জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল অাবিস্কার করেন যে, নক্ষত্র এবং ছায়াপথ সমূহ একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে ।
এ অাবিস্কারকে গণ্য করা হয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসের একটি শ্রেষ্ঠ অাবিস্কার হিসাবে।
এ পর্যবেক্ষণ চলাকালীন সময়ে হাবল প্রকাশ করেন যে, নক্ষত্রসমূহ অালো নিঃসরণ করছে -যদিও তাদের দূরত্ব অনুসারে ( অাস্তে অাস্তে) পরিবর্তিত হচ্ছে লাল রঙে।
এটি ঘটছে পদার্থবিদ্যার একটি পরিক্ষিত সূত্র অনুযায়ী-অার তা হলো 'একটি বিন্দুর মুখে পরিচালিত অালো ( অাস্তে অাস্তে) পরিবর্তিত হয়ে বেগুনী রঙে এবং এ বিন্দুতে অালো যত দূরে সরে অাসে ততই রক্তিম বর্ণে রুপান্তর হতে থাকে।'
হাবল তার এই পর্যবেক্ষণ চলাকালীন মূহুর্তে তারকারাজী হতে বের হওয়া অালোর মাঝে লাল রঙের একটি প্রবণতা লক্ষ্য করেন।
সংক্ষেপে, তারকারাজিসমূহ একে অাপর হতে অধিকতর দূরে সরে যেতে থাকে। সবসময় এই তারকারাজী এবং ছায়াপথসমূহ অামাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে না বরং এগুলো একে অপর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
মহাবিশ্বের প্রত্যেকটা জিনিস যেভাবে অবিরতভাবে একে অপরের কাছ দূরে সরে যাচ্ছে সেটি এর প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকাকেই ইঙ্গিত করে।
চলতি বছরগুলোতে সম্পাদিত পর্যবেক্ষণসমূহ প্রমাণ করেছে যে, এই মহাবিশ্ব দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।
এই তথ্যটি অাল কোরঅানে বর্ণনা করা হয়েছিলো এমন এক সময়ে যখন টেলিস্কােপ এবং এর অনুরুপ প্রযুক্তিক অগ্রগতিসমূহ উদ্ভাবনের কাছাকাছিও ছিলোনা।
এর কারণ শুধুমাত্র এটাই যে, কোরঅান হলো স্বয়ং অাল্লাহর বানী। যিনি সমগ্র মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা এবং শাসক।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৯
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গভঙ্গ থেকে চব্বিশ, পূর্ব বাংলার ইতিহাস ও বাংলাদেশের আত্মপরিচয়

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বর্তমান সময়ে একটি বিরাট পরিবর্তনের ধাক্কা লেগেছে যা এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর এবং আত্মোপলব্ধির ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ পনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:১১

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

১৪ অক্টোবর মক্কায় দুজন বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। তাঁদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×