
প্রথিতযশা সব সাহিত্যিকদের পদচারনায়
নিতান্ত গোবেচারা ধরণের মানুষটি আমি
তাদের পদপিষ্ট হয়ে ধূলোয় মিশে যাওয়ার
মত ন্যায্য ঘটনাটি তাই অমূলক নয় ।
মহৎপ্রাণ সব মানুষের পথ চলায়
কেবলই হোচট খাই—তাদের হৃদয়ের বিশালতার কাছে
শিশিরের মত নগন্য অবস্থান আমার
অনেকটা অপাংক্তেয় —শিশিরের কি আর সাগর সঙ্গম হয় !
সুদর্শন সব মানুষের ভীড়ে নিতান্ত কুৎসিত আমি
তাদের ফুলের মত মুখশ্রীর প্রভাবে ক্রমাগত অবাঞ্ছিত
হতে থাকি ;আমার প্রেম আহবান হায়েনার অট্টহাসির মত
ঘৃণা আর ভয় মিশ্রিত অনুরণন সঞ্চার করে প্রিয়তমার অনুভূতি
প্রবণ এলাকায়—সেখানে সাত আঁধারের পর্দা নামে।
দূর্দান্ত সব কবিতার ভীড়ে আমার কবিতার অসহায় আত্নসমর্পন,
নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা ।কবিতার দুটি পংক্তি যেখানে রূপসীর সতী্ত্বের দূর্গে
ফাটল ধরায় —সেখানে আমার কবিতাগুলি প্রিয়তমার অনুভূতিতে আর্দ্রতার
পরাকাষ্ঠা সৃজনে ব্যর্থ হয়ে আবর্জনা স্তূপে দূর্গন্ধ ছড়ায় । আমি সুরম্য অট্টালিকায়
ডাস্ট বিনের মতো সেঁটে থাকি — সভ্যতার দেয়ালে যেন পুঞ্জীভূত পূজ;
সেটি দেখে নাক সিটকিয়ে অনিন্দ রূপসী কোন লম্পটের উরুতে গেঁথে থেকে রাতভর
আমার কামনার শ্রাদ্ধ করে ।
হ্রাদিনী হতে চাই , অর্ণব হতে চাই, আকাশ হতে চাই,
অতিমান সব চাওয়াগুলো অচ্ছুৎ থেকে যায় রথী মহারথীদের ভীড়ে;
শ্রাবণের প্রগাঢ় বর্ষা হতে পারিনা —পারিনা ফাল্গুনের প্রাণবন্ত রোলম্ব হতে;
চৈত্রের মধ্য দুপুরের মত প্রখর হতে পারি না — পারিনা পৌষের প্রচন্ড শীতে
হাড় কাঁপানো বিভীষিকা হতে ।
শিশির হতে পারি মাত্র — যেন শীতের সকালে সবার
অজান্তে নীরবে নিভৃতে পদ্মপাতার পাঁজরে জমে থাকা শিশির কনা — অথবা ধরণীর
ধূলোয় লেপ্টে থাকা পামর উক্ষণ বিন্দু ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।