
অহংকারে মাটিতে পা পরে না তোমার । নিজেকে ভেবে রেখেছো স্বর্গের
হুরপরী । তারপর কল্পনায় হয়ে যাও আকাশের নক্ষত্র । যদিও তারকাদের
খসে পরা দৃষ্টিগোচর হয়না তোমার । তুমি কখনো দেখনি মানুষের
পরিণতি। তুমি ভাবনি মানবসৃষ্টির কায়দা কানুন। তুমি ভাবনি অন্য
সবার মত তুমি সৃষ্টি হয়েছো এক ফোটা নাপাক বীর্য থেকে ।
তুমি যে সুগন্ধি গায়ে মেখে বেড়াও যে প্রসাধনীর শ্রাদ্ধ করো সেটি তুমি
নও । নিজেকে পোলাও কোর্মা করতেই এসব গরম মসলা ব্যবহার করো ।
খেল তামাশা জীবন নয় । জীবনের আছে ক্ষয়। আছে পরিণতি সমাধির ।
তোমার সাধনার ত্বকে জং ধরে যাবে এক যুগ পর । কোন যুবক
দ্বিতীয়বার ফিরে তাকানোর পাবেনা অবসর ।
খুব শীঘ্রই তোমার সম্পদ তোমার থেকে ছুটে যাবে । মৃত্যু শাসিত জীবনে
সেগুলি বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে শুধু। আর পারে বৈষম্য সৃষ্টি করতে। দূরত্ব
গড়তে । জবুথবো বটবৃক্ষের মত করুনার পাত্র হবে। পাড়া- প্রতিবেশির
উৎসুক দৃষ্টি বিনোদনের খোরাক খুঁজে বেড়াবে । হতে পারে একযুগ পর
তুমি সৃষ্টিক্ষমতা হারিয়ে জড়পদার্থ হয়ে যাবে । মনে মনে খুঁজে বেড়াবে
টাইম মেশিন । মেটানোর সাধ হবে কোন বামনের ভালবাসার ঋণ ।
অথবা কোনদিনও বোধ উদয় হবে না তোমার ত্বকে ।
তুমি আলোর মশাল জ্বালিয়ে ব্যবধান কাব্য লিখে যাবে শিলাদলে !
ভেবেছো কখনো ? তুমি সেই লোকটির চেয়ে নিঁচু যে গরীবের ময়লা গায়ে হাত তুলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে ? তুমিতো তাকে অস্পৃশ্য ভেবে তার থেকে দূরে থাকো । তার ছোঁয়াতে অহংকারের প্রাসাদে ধ্বস নামার ভয়ে।
সাম্যের গান গেয়ে তুমি গঙ্গাজল ঢেলে দাও ঠোঁটে। কিন্তু তুমিতো সৌম্য
নও ।
তোমারও আছে বৈষম্যের বিভীষিকা। তুমি অর্থ দিয়ে বিভীষিকা
কেনো । তুমি এরোপ্লেনে উঠে রিকশাকে অপদস্ত করো । তুমি প্রাসাদে
থেকে কুঁড়েঘরে থুথু ফেল । তোমার খামখেয়ালপিনা অহমিকার ছদ্মবেশ । ভুলে ভরা জীবন তোমার চলছে স্রোতস্বীনির মত। তবু এতটুকু মনে
রেখো
তোমার জন্য গড়েছি আমি ছোট্ট একটি নীড় ।
সেখানেই পাবে খুঁজে জানি শান্তি নদীর তীর ।
না হলে শত ধিক্কার তোমাকে প্রিয়তমা ! তুমি হয়ে যাও আসমান !! দূর থাকো এই মর্তের পৃথিবী থেকে! লুকিয়ে রাখো সূর্যের রুদ্র রূপ। তাতে গা পোড়ে যাবার ভয় । তাতে শান্তি রাতের বিদায় নিহিত ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০১৫ সকাল ৯:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





