somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিম আনোয়ার
পেশায় ভূতত্ত্ববিদ ।ভালো লাগে কবিতা পড়তে। একসময় ক্রিকেট খেলতে খুব ভালবাসতাম। এখন সময় পেলে কবিতা লিখি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হল ভালো লাগে খুব। ভালোলাগে রবীন্দ্র সংগীত আর কবিতা । সবচেয়ে ভালো লাগে স্বদেশ আর স্বাধীন ভাবে ভাবতে। মাছ ধরতে

ভূমিকম্প নিয়ে আমাদের সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ৮:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২৫ এপ্রিল, ২০১৫।নেপালের লামজুং অঞ্চলের এ ভূমিকম্পে ইতিমধ্যে দেশটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ভারত নেপাল মিলিয়ে প্রায় হাজার দুয়েক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। বহুদূরে সংঘটিত এ ভূ-কম্পন বাংলাদেশের সর্বত্র অনুভূত হয় এবং এর প্রভাবে ক্ষতির খবরও আসছে।

ভূমিকম্পনের শক্তি প্রকাশের জন্য আমরা দুটি শব্দ ব্যবহার করি। একটি মাত্রা (magnitude), অন্যটি তীব্রতা (intensity)। ভূমিকম্পের উৎসস্থলে ভূ-অভ্যন্তরে থেকে কি পরিমাণ শক্তি বের হল তা মাত্রার মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়। একটি ভূমিকম্পের একটি মাত্রা থাকে। যেমন- এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৭.৫। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির ওপর নির্ভর করে মডিফাইড মার্কারি স্কেল অনুযায়ী একটি ভূমিকম্পের ১২টি তীব্রতা থাকতে পারে। যা রোমান অক্ষরে ১-১২ পর্যন্ত দেখানো হয়। দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতির ওপর ভিত্তি করে তীব্রতা নিরূপণ করা হয়।

ঢাকায় এ ভূমিকম্পের তীব্রতা ৪ বা স্থান ভেদে ৫ অনুভূত হয়েছে। অবকাঠামোর গুণগত মান এবং মাটির শক্তির ওপর তীব্রতা নির্ভরশীল। একই মানের কাঠামো শক্ত মাটির চেয়ে নরম মাটিতে বেশি তীব্রতা অনুভব করবে। বেশি তীব্রতা মানে বেশি ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা।

একটি ভারি ট্রাক কোনো একটি বিল্ডিংয়ে আঘাত করলে যেমন কম্পন অনুভূত হবে, তার তীব্রতা ৪ হতে পারে। এই তীব্রতায় বাসায় থাকলে সবাই ভূমিকম্প অনুভব করবে। কিন্তু বাসার বাইরে কেউ কেউ অনুভব নাও করতে পারে। ৫ তীব্রতায় বিল্ডিংয়ে ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হবে। জানালায় ফাটল ধরতে পারে।

বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। গত ১৩০ বছরে সংঘটিত দুটি ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশ। এ দুটি ভূমিকম্পের নাম গ্রেট বেঙ্গল (১৮৮৫) এবং শ্রীমঙ্গল (১৯১৮) ভূমিকম্প। এ দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ছিল প্রায় ৭। এ অঞ্চলের নিকট অতীতে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প ১৮৯৭ সালে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে সংঘটিত হয়। যা মহা ভারতীয় ভূমিকম্প নামে পরিচিত। এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮.৩। বাংলাদেশ ও এর আশপাশের অঞ্চলে অসংখ্য সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক ফাটল বা চ্যুতি রেখা আছে। যে কারণে এ অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভূমিকম্প হওয়ার সবচেয়ে আধুনিক তত্ত্ব হলো প্লেট টেকেটোনিক থিওরি ।এ হিসেবে পৃথিবী অনেকগুলো প্লেটে বিভক্ত। একটি প্লেটের সঙ্গে আরেকটি প্লেটের তিন ধরনের বাউন্ডারী দেখা যায়। কনভারজেন্ট,ডাইভারজেন্ট আর ট্রান্সভারজেন্ট বাউন্ডারী। এ প্লেটের সংযোগ স্থলে স্ট্রেস বিল্ড আপ করতে থাকে । এক পর্যায়ে সমস্ত স্ট্রেস রিলিজ হয় আর ভূপৃষ্ঠ কেঁপে ওঠে।
বড় ভূমি কম্পের আগে ও পরে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয় । এগুলোকে বলা হয় সিস্টার আর্থকোয়েক।

ভূমিকম্পের সময় কি করবেন? শনিবারের ভূমিকম্পে প্রমাণিত হয়েছে, এ বিষয়ে আমদের জনগোষ্ঠী কোনোভাবেই সচেতন নয়। ভূমিকম্পচলাকালীন সময়ে উঁচু ভবন থেকে সিঁড়ি দিয়ে না নেমে এসে, ভবনে যে যেখানে আছেন সেখানে আশ্রয় নিতে হবে। বড় ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি সংঘটিত হতে ১৫-২০ সেকেন্ড সময় নেয়। এ সময়কালে ঘর থেকে বের হওয়া কোনোমতেই উচিত নয়।

সাধারণত স্কুলে এবং অফিসে কেউ অবস্থান করলে টেবিল কিংবা চেয়ারের নিচে অবস্থান নেয়া আবশ্যক। এগুলো না থাকলে মাথায় হাত দিয়ে শরীর গুটিয়ে দাঁড়ানো স্থানেই বসে পড়া উচিৎ।

বিল্ডিংয়ের কলাম এবং বিমের সংযোগস্থল ও দরজার নিচের স্থান আশ্রয়ের জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। কোনো অবস্থাতেই উপর থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়া উচিৎ নয়। কম্পন শেষ হলে তবেই সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে হবে।

কোনোভাবেই লিফট ব্যবহার করা উচিৎ হবে না।

ভূমিকম্প প্রতিরোধে আমাদের অবস্থান ও করনীয় :

নগর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি সীমিত। যেহেতু আমাদের দেশের স্থাপনাগুলো দুর্বল এবং বিল্ডিং কোড মেনে স্থাপনাগুলো বহুলাংশে তৈরি হয়নি। তাই নগর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উদ্ধার কাজ সম্পাদনকারী সংস্থাগুলোকে যথাসম্ভব দ্রুত অনুসন্ধান, উদ্ধার এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের জন্য উপে কযেগিী করতে হবে।

নিয়মিত উদ্ধারকর্মীদের সহযোগিতা দিতে আরও অধিকসংখ্যক নগর স্বেচ্ছাসেবী তৈরি করতে হবে। উদ্ধার কাজের জন্য আরও হালকা, মাঝারি ও ভারি যন্ত্রাংশ সরবরাহ আবশ্যক।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী অবকাঠামো তৈরির কাজ তদারকির জন্য আরও ক্ষমতা প্রদান ও আধুনিকায়ন করতে হবে। যথাযথ তদারকির ব্যবস্থাপনা আবশ্যক।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনলে এর প্রায়োগিক দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

আরবান ডেভেলপমেন্ট ডায়রেক্টরিয়েটকে ভূমিকম্প দুর্যোগ সংযোজিত নগর ভূমি ব্যবহার মানচিত্র তৈরির জন্য দক্ষ করে তুলতে হবে এবং এর ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে।

নগর লাইফ লাইন সিস্টেম (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) ঢাকাসহ অন্যান্য শহরের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল। তাই লাইফ লাইন সিস্টেমসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে প্রশিক্ষিত টেকনিক্যাল জনশক্তি নিয়োগ এক্ষেত্রে দারুন কার্যবরি ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক একটি ক্যাডার তৈরি করা অযৌক্তিক হবে না ।

ভূমিকম্প শুধু যে মানবসৃষ্ট অবকাঠামোর ক্ষতি করে সেটি নয় । এর ফলে একটা এলাকার জিওমরফলজি চেঞ্জ হয়ে যেতে পারে । এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ ব্রহ্মপুত্র নদী তার পুরোনো গতিপথ বদলে ফেলেছে (১৮৮৫সালের ভূমিকম্পে) । যমুনা প্রধান পানি প্রবাহ হয়ে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র দূর্বল হয়ে গেছে । এমনি ভাবে ভূমিকম্পের ফলে পর্বত হ্রদে আর সমুদ্র পর্বতে পরিণত হওয়া অসম্ভব নয় ।

ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়ার কোন প্রযুক্তি এখনো আবিষ্কার হয়নি । আর এটি বন্ধ করার কোন পদ্ধতিও মানুষের জানা নেই। তবে এর ক্ষতি থেকে বাঁচতে হলে জিওকোড মেনে ভেজাল মুক্ত স্থাপনা তৈরির কোন বিকল্প নেই । জনসচেতনতা মানুষদের সমূহ ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে ।

তথ্য সূত্র নেট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলী
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ৯:৪৮
২৩টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রিয় নয়ন ভাই ( ব্লগার নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন )

লিখেছেন মোস্তফা সোহেল, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১০:৪০

নয়ন ভাই দেখতে দেখতে একটা বছরের বেশি সময় হয়ে গেছে আপনি আমাদের মাঝে নেই।যেদিন জানতে পেরেছিলাম আপনি মারা গেছেন,সত্যি বিশ্বাস করতে পারিনি।বার-বার মনে হয়েছে এই খবর মিথ্যা। কিন্তু তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাঁদের গন্ধ বহুদুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১১:১৫



বামনের সাদা ঘরে- চাঁদ কেনো
যে খেলতে না রাজি-তবু ঝিলমিল
জোছনাময় যত কষ্ট, ব্যর্থতায়
মেঠোপথে হেঁটে যায়- মন মরা
ধানশালিক; কোন এক সময় চৈত্রের
ধূলি উড়ে যায়-কালো ধোঁয়া উড়ানো
চাঁদের সাথে ছায়া চলে একাকী!
যত সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যস্ত নরকে নাগরিক আমি ...

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ১:৩৯




পাশের সিটে বসে থাকা লোকটার হাতে মোবাইল। স্কিনে বেশ ভয়াবহ একটা খবর।
সেন্ট মার্টিনে দেড় কিলোমিটারে তিন মণ প্লাস্টিক, চিপসের খালি প্যাকেট - চোখ আটকে গেল। ভয়াবহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর বেড়ে ওঠা (ছবি ব্লগ)

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৩ বিকাল ৩:০৯



'প্রাক্তন' মুভিতে প্রসেনজিৎ ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে ঋতুপর্ণাকে বলেছিলো-
'তারপর আমার সন্তানের জন্ম হয়। জানো, নিজের সন্তানের থেকে এতো সুন্দর পৃথিবীতে অন্য কিছু হয় না'।
একটা মুখ দেখে একসাথে অনেকগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

অগ্নিকণা

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৩ সন্ধ্যা ৬:০০



সেদিন দুপুরের পরে আমার নির্মাণাধীন বাড়িতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাজ দেখছিলাম। হঠাত কিছু রড কাটার প্রয়োজন পরায় একজন কর্মী (যাকে সকলে মামু ডাকে, বলতে পারেন সরকারী মামু) রড গুলি কাঁটতে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×