বাবা,
পড়ে তোমায় মনে— আজিকার এই দিনে..
খোকন সোনা এই আমাকে,
জড়িয়ে ধরে
যখন বাবা বলে ডাকে ,
প্রাণ জুড়িয়ে যায় আমার—
মনে পড়ে যায়, যে তোমাকে।
বাবা,
এখন আমি নই যে ছোট আর,
শুধু আছে ছোট বেলার সেইসব স্মৃতি;
তোমার কাছে আমার বায়নার।
পরীক্ষায় প্রথম হলে
আমার জন্য থাকত পুরস্কার।
প্রতি ঈদে নতুন জামা, আমায় তুমি কিনে দিতে,
তোমার উপহার, বাবার হওয়ার
গুরু দায়িত্ব শুধু— কড়ায়গণ্ডায় তুমি বুঝে নিতে!
মনে পড়ে— এই তো সেদিন
তুমি ছাড়া ঈদের গোসল হতো না আমার।
আমার এই অকালকুষ্মাণ্ড জীবন
নাকি তোমারই উপহার।
ছোট্ট বোনের কোলজুড়ে এসেছে ফুল পরী
তোমার নিষেধ করোনার এই দিনে
আমি যেন নিরাপদে
হোমকোয়ারেন্টাইনে থাকি।
বাবা মার অবাধ্য— আমার আর হয়ে ওঠে না
অন্তঃসত্ত্বা বোনও যে আছে তাদের সাথে
তাই বোনের এমন প্রয়োজনের দিনে
আমার পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ হয় না।
আমি শুধু মনে মনে ভাবি
ছোট্ট বোন আমার, ক্ষমা করে দিস—
এবারও পারিনি মেটাতে
তোর বড় ভাইয়ের দাবি।
তুই যেন বাবা মায়ের মতই
আমায় নিয়ে চিন্তিত খুব—ই।
আমিও যে— এক বাবা
সন্তানের দাবি পূরণে কখনো হইনা পিছপা।
থাকে যদি ঝুঁকি আমি হাসিমুখে ঠিকই
—গ্রহণ করি তা।
সব কিছুর দায় যায় এড়ানো
বাবার গুরু দায়ভার, করোনাও মানে না।
বাবা কী আর জানে ?
পুত্র তাঁর আত্নত্যাগের দৃষ্টান্ত যেন এক
দেশের জন্য দশের জন্য জীবন দিতে জানে
বাবাটার বুকে শুধু স্নেহ
সন্তান তার সর্বদা যেন— থাকে দুধে ভাতে ।
এমন বাবার কি আর হয় তুলনা?
আমার বাবার পিতৃঋণ শোধ হয়েছে— সেই কবে!
দাদা যখন মৃতপ্রায় শত্রুদের আক্রমণে,
নিজের জীবন বাজি রেখে শত আঘাত শয়ে
তিনিই তার নতুন জীবন দিয়ে ছিলেন যবে,
পাকিদোসরদের কড়াল গ্রাস থেকে।
এমনই আমার বাবা
নীতির প্রশ্নে তিনি যে, আজও আপোষহীন;
বাবার জন্য তাই বিনম্র শ্রদ্ধা
আমার— যেন অন্তহীন।
উৎসর্গঃ সকল বাবা।
ছোটবেলায় পড়েছিলাম ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুর অন্তরে । সকল বাবার জন্য শুভকামনা করোনার এইদিনে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


