হয়ত অত কাছের কোন বন্ধু নেই। কিংবা বন্ধুর চেয়ে বেশী কিছু। যে তিন বেলা খাবার খবর নেয়, ঘুমের খবর নেয়, পড়ার খবর নেয়। কল দিয়ে বলে, কিরে তোর নাকি পরীক্ষা চলে? পাস করবি? নাকি ফেল?
কিংবা ইচ্ছা করে, যখন তখন আমার সাথে ঘুরতে বের হতে। সময়ে অসময়ে বলে, তোর সাথে দেখা করতে ইচ্ছা করছে।
হাতে বাদাম নিয়ে, খেতে খেতে কাটিয়ে দিতে পারে অনেকটা সময়। রমনার ঐ ফাঁকা বেঞ্চগুলোতে বসে থেকে পাশাপাশি। কিংবা টি এস সি এর সবুজ ঘাসের উপর বসে, সামনাসামনি। গরম লাগলে বলতে পারে, বসুন্ধরা চল, এসির বাতাস খেয়ে আসি।
বন্ধুর চেয়ে বেশী কিছুর জন্য, তুই গুলো তুমি।
কিংবা ভার্সিটিতে গড়ে উঠেনি খুব বড় কোন ফ্রেন্ড সার্কেল। যাদের সময় দিতে হয় নিয়মিত। চা খেতেই হয়, পাশে বসে বসে, ক্যাম্পাসে। ক্যাফেটেরিয়ায়। হয়ত আমি কারও বন্ধু হবার মত না, কিংবা নিজে থেকেই হই না। মানসিকতায় মিলে না। সবার মত করে চলতে পারি না, অমন করে ভাবতে পারি না। কিংবা আমার জীবনেও এমন কেউ নেই, যে ওসবের মায়া বাদ দিয়ে বলবে, আজকের দিনটা তোমার।
কাছের বন্ধুর জন্য, তুমিটা তুই।
কিংবা কখনও অনেক খারাপ লাগে না আমার জন্য কারও। বলে না, অনেক মিস করছি। সত্যি অনেক মিস করছি।
আমার কারও জন্য বেলি ফুলের মালা, কিংবা এক তোড়া গোলাপ কিনতে হয় না। কিংবা কেউ সেসবের জন্য কখনও আবদারও ধরে না। কারও বৃষ্টি দেখলেই, আমার কথা মনে পড়ে না। জ্যোৎস্না দেখলেই, পাশে পাবার জন্য মন খারাপ হয়ে যায় না। কেউ সারাটাদিন আমাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে না। সব কিছুর চেয়ে আমি কারও জীবনে মূল্যবান কিছু না। কেউ আমার মন ভাল খারাপের খবর নিতে আসে না, প্রতিটাক্ষণ।
যখন বাহিরে বের হই, রাস্তা ঘাঁটে হাঁটি। একা একাই হাঁটি। কাউকে দেখেই বুঝে ফেলি, এরা কাছের বন্ধু। এরা বন্ধুর চেয়ে বেশী। চলে খুনসুটি তাদের নিজেদের মধ্যে। আমার অমন চলে না কারও সাথে।
তবুও কেন যেন খারাপ লাগে না। এতো একা একটা মানুষ হয়েও কেন কেন, হতাশ হতে পারি না। গল্প লিখতে লিখতে, চরিত্রগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে গিয়ে, কেন যেন হতাশার কথা লিখতে পারি না। অনেক কাছের বন্ধু ছাড়া, কিংবা বন্ধুর চেয়ে বেশী কিছু ছাড়াও কেন যেন অসুখী নই। প্রাণ খুলে সব কথা কাউকে বলার মত, কেউ না থাকার পরও কেন যেন, বুকের ভিতর অনেক কথা জমে থাকার পরও কেন যেন, কষ্ট হয় না। বুকের ভিতর ব্যথা হয় না। পরিবারের অনেক অভাব অনটন দেখার পরও কেন যেন, কাঁদি না। কেন যেন হাসি। অনেকের মত ভাল থাকার অভিনয় করছি না। তবুও কেন যেন ভাল থাকি।
অপ্রাপ্তির হিসাব কখনও কষতে যাই না বলেই হয়ত, অনেক ছোট ছোট প্রাপ্তি গুলোকে বড় লাগে। জীবনটা সুখের লাগে। মাস খানেক পর পর একদিন, মামুরের সাথে দেখা হয়। বিকালটা দুজন ময়লা ধুলায় হেঁটে হেঁটে পার করে দেই। ছয় মাস বা এমন কিছু দিন পর একদিন, কলেজের লাস্ট বেঞ্চে বসা বন্ধু তিনজন, আমি, রাইসুল, জয় একসাথে কাটিয়ে দেই অনেকটা সময়, পলাশীর মোড়ে বা কার্জন হলে। প্রাইমারি জীবনের এক বন্ধু রিফাত, অনেক দিন পর পর ফোন দিয়ে খোঁজ নেয়। ভাল লাগে যখন বলে, দোস্ত, আমি কিন্তু, হাই স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির বন্ধুদের খবর নেই না। তোদের কথা মনে পড়ে মাঝে মাঝে।
তবুও জানি সবসময় পাশে থাকার মত, কেউ নেই। তবুও হতাশার কুয়াশায় মন আচ্ছন্ন হয় না। নিজেকে মাঝে মাঝে অস্বাভাবিক লাগে। সবার মত নই আমি। মানুষগুলোর হতাশা থাকবে, অনেক বেশী কষ্ট থাকবে। অল্পতে নিরাশ হবে। চোখে শুধু, না পাওয়া পড়বে। দুঃখ পাবে। সবকিছুতে অবিশ্বাস থাকবে। জীবন শুধু কষ্টময় ভাববে। অল্প কিছু না পাওয়াতেই।আমি কেন যেন এমন না। মাঝে মাঝেই নির্মলেন্দু গুণের কবিতার লাইনটা মনে আসে,
"আমি হয়ত মানুষ নই, মানুষগুলো অন্যরকম। "
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ১১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




