somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইমাম মাহদীর সত্যতা

১৭ ই জুন, ২০১৫ রাত ৯:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আহ্‌মদীয়া জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মির্যা গোলাম আহ্‌মদ (আঃ) দাবী করেছেন যে, আল্লাহ্‌ তা’আলা তাকে ইমাম মাহ্‌দী ও মসীহ্‌ মাওউদ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। বিগত ১৮৮৯ খৃস্টাব্দে তথা ১৩০৬ হিজরী হতে একশত বছরের অধিক সময় ধরে আহ্‌মদীয়া জামা’ত ইসলামের শ্বাশত বাণী প্রচার করে চলেছে। ইতিমধ্যে এই আধ্যাত্মিক সংগঠন পৃথিবীর শতাধিক দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শত বাধা-বিপত্তি সত্বেও আল্লাহ্ ‌তা’আলার বিশেষ অনুগ্রহে এই সংগঠন সাফল্যের পর সাফল্য অর্জন করে বিশ্বব্যাপী ইসলাম ভিত্তিক‘উম্মতে ওয়াহেদা’প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে।
অনেকে প্রশ্ন করেন যে, আহ্‌মদীয়া জামাতের প্রতিষ্ঠাতার দাবীর সত্যতারপ্রমাণ কি? সংক্ষেপে এ সম্বন্ধে কয়েকটি প্রমাণ নীচে উল্ল্যেখ করা হলো। আশা করি সত্য-সন্ধানী সুধীবৃন্দ বিষয়টি উম্মুক্ত হৃদয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন।
এ সম্বন্ধে প্রধানতঃ যে পাঁচটি বিষয়ের দিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই সেগুলো হলোঃ
১. দাবীকারক পাক-পবিত্র শিক্ষা সহকারে এসেছেন কি না?
২. তিনি বড় বড় নিদর্শনসহ আগমন করেছেন কি না- যেগুলো সার্বিকভাবে কেউই মোকাবেলা করতে পারেনা?
৩. ধর্মীয় গ্রন্থাবলীতে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণীসমূহ সার্বিকভাবে দাবীকারকের উপর প্রযোজ্য হয় কিনা এবং ভবিষ্যদ্বাণীগুলো যথার্থভাবে পূর্ণ হয়েছে কি না?
৪. যে সময় বা যুগে তাঁর আবির্ভাব ঘটেছে সেই যুগের অবস্থাবলী কোন সংস্কারকের আবির্ভাবের সাক্ষ্য বহন করে কি না?
৫. দাবীকারকের ব্যক্তি-চরিত্র ‘তাকওয়া’ এবং আধ্যাত্মিক আকর্ষণ শক্তি উচ্চ পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত কিনা?
আহ্‌মদীয়া জামাতের প্রতিষ্ঠাতা ঘোষণা করেছেন,‘সমগ্র কুরআন মজীদে মোটামুটি সেই সকল স্বতঃসিদ্ধ কথাই বর্ণিত রয়েছে যেগুলো দ্বারা আল্লাহ্‌র তরফ হতে আদিষ্ট কোন ব্যক্তির (মামুর মিনাল্লাহ্‌-এর) সত্যতার সন্ধান পাওয়া যায়। এখন যে ব্যক্তি ঈমান আনা আবশ্যক মনে করে সে যেন এই পাঁচটি বিষয়ের দ্বারা আমাকে পরীক্ষা করে’।(আল-হাকাম)
এই নিবন্ধে উপরোক্ত পাঁচটি বিষয়ের প্রেক্ষিতে কয়েকটি সাক্ষ্য-প্রমাণ সম্পর্কে সংক্ষেপে উল্ল্যেখ করা হলো। বিস্তারিত জানার জন্যে সংশ্লিষ্ট ধর্মগ্রন্থাবলী, অন্যান্য গ্রন্থাবলী এবং ইতিহাস ভিত্তিক বাস্তব ঘটনাবলী দ্রষ্টব্য। (উল্লেখ্য যে, পবিত্র কুরআনের আয়াত নম্বরসমূহে ‘বিসমিল্লাহ্‌’-যুক্ত আয়াতকে এক নম্বর আয়াত ধরে গণনা করা হয়েছে কেননা উক্ত আয়াত সংশ্লিষ্ট সূরারই অবিচ্ছেদ্য অংশ)।
১। পবিত্র শিক্ষাসহ আগমনের প্রমাণঃক.সূরা জুমুআঃ৩ নম্বর আয়াতে যে চারটি উদ্দেশ্যে হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর আবির্ভাবেরউল্ল্যেখ রয়েছে উক্ত ৪টি বিষয় ঐ সূরার ৪ নম্বর আয়াত অনুযায়ী আখেরী যুগে আগমনকারী হযরত ইমাম মাহ্‌দী ও মসীহ্‌ মাওউদ (আঃ)-এর জন্যও প্রযোজ্য।
খ.সূরা সাফঃ৭ আয়াতে আগমনকারী মহাপুরুষকে ‘আহ্‌মদ’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। ‘আহ্‌মদ’ অর্থ ‘প্রশংসাকারী’ এবং ‘জামালী’ বা সৌন্দর্য প্রকাশক গুণাবলীর জন্যে প্রযোজ্য।
গ.ইমাম মাহ্‌দী (আঃ) সংক্রান্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আধ্যাত্মিক নেতা হবেন (ইমামাম মানহ্‌দীয়ান) ন্যায়-বিচারক (হাকামানআদলান), ত্রিত্ববাদী ক্রুশীয় বিশ্বাসের মুলোৎপাটন করবেন (ইয়াকসারুস সালীব), ‘শূকর’ বধকরবেন (ইয়াকতুলুল খিনজির) অর্থাৎ শূকর তুল্য অপত্রিতা এবং নোংরামী দূরীভূত করবেন এবং ‘শূকর তুল্য’ দুষ্ট প্রকৃতির কিছু কিছু লোক তাঁর দোয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলকভাবে ঐশী শাস্তি ভোগ করবে এবং শান্তিবাদী নীতির অনুসরণ করবেন।(মসনদ আহ্‌মদ বিন হাম্বল ও অন্যান্য হাদীস)
ঘ.পবিত্র কুরআনে ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক নীতি দ্ব্যার্থহীনভাবে ঘোষিত হয়েছে(বাকারাঃ ২৫৭)এবং এই নীতি অনুযায়ী হযরত মির্যা গোলাম আহ্‌মদ (আঃ) ঘোষণা করেছেন,‘অসির কাজ আমি মসী দ্বারাই করেছি’আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁকে সুলতানুল কলম তথা লেখনী সম্রাট উপাধি দ্বারা ভূষিত করেছেন। তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন,আমার ধর্মীয় বিশ্বাসের সংক্ষিপ্ত সার হলো-“লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুররসুলুল্লাহ”।(তৌজিয়ে মারাম পৃঃ ২৩)
২। ঐশী-নিদর্শনমূলক প্রমাণঃক.সূরা কিয়ামাহঃ৯-১০ ওতাকভীরঃ২ আয়াতের আলোকে এবং দারকুতনী হাদিসে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী হযরত ইমাম মাহ্‌দী (আঃ) তাঁর দাবীর সত্যতার নিদর্শন রূপে চন্দ্রও সূর্যের বিশেষ গ্রহণ ১৮৯৪ খৃস্টাব্দে পূর্ব গোলার্ধে এবং ১৮৯৫ খৃস্টাব্দে পশ্চিম গোলার্ধে সংঘটিত হয়ে বিশ্বাবাসীকে তাঁর আগমনবার্তা জানিয়ে দিয়েছে। এই অপূর্ব ঘটনা সম্পর্কে প্রাচীন ধর্ম গ্রন্থাবলীতেও উল্ল্যেখ রয়েছে।(মথি ২০:২৯-৩০, প্রকাশিত বাক্য ৬-১, ভগবত পুরানঃ ১৩ স্কন্দ)
খ.সূরা হাক্কাঃ৪৫-৪৮ আয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ্‌র নামে মিথ্যা বানিয়ে বললে তিনি মিথ্যাবাদীকে কঠোর শাস্তি দান করেন এবং কোন মানুষ সেই মিথ্যা দাবীকারককে ঐশী শাস্তি হতেরক্ষা করতে পারবে না।
গ.সূরা জ্বিনঃ২৭-২৮ আয়াতে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন যে, তাঁর মনোনীত বান্দাকে তিনি অদৃশ্যসম্বন্ধে জানাতে পারেন। হযরত মসীহ্‌ মাওউদ (আঃ) ওহী ইলহাম লাভের দাবী করেছেন এবং সেগুলোপবিত্র কুরআনের শিক্ষার অধীনে প্রাপ্ত।ঘ.সূরা বাকারাঃ৯০,আলে ইমরানঃ৬২ এবংজুমুআঃ৭ আয়াতে সত্যাসত্য নিরূপণের জন্য বিনীত দোয়ার মাধ্যমে ঐশী-মীমাংসার পদ্ধতি (মুবাহালা) বর্ণিত হয়েছে। ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী হাজার হাজার নিদর্শন প্রকাশিত হয়েছে, বিরুদ্ধবাদীগণ ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে এবং বহু নিদর্শন ভবিষ্যতে পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আহ্‌মদীয়া জামাতের ইতিহাস পাঠ করলে এই সকল বিষয়ে সম্যকভাবে জানা যাবে।
ঙ. খৃস্ট-ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিশেষ ঐশী নিদর্শনাবলীঃপাদ্রী আব্দুল্লাহ আথমের সঙ্গে ভারতবর্ষের অমৃতসরে ১৫ দিন ব্যাপী বাহাস (১৮৯৩ইং), তাঁর সম্পর্কে প্রাপ্ত ইলহামভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণী এবং ভবিষ্যদ্বাণীর শর্তানুযায়ী আথমের মৃত্যু। পাদরী হেনরী মরটিন ক্লার্ক কর্তৃক মিথ্যা মোকদ্দমা এবং পরিণামে হযরত মির্যা সাহেবের সম্মানজনক বিজয়ের নিদর্শন। পাঞ্জাবের খৃস্ট সমাজের তৎকালীন লর্ড বিশপ রেভারেন্ড জর্জ লেফ্রাই সাহেবের প্রতি চ্যালেঞ্জ এবং লেফ্রাই সাহেবের টাল বাহানা (১৯০০ ইং)। শ্রীনগরের খানইয়ার মহল্লায় হযরত ঈসা (আঃ)-এর কবর সম্পর্কে ঘোষণা (১৮৯৫ ইং) এবং ‘মসীহ্‌ হিন্দুস্তান মে’ ও খৃস্টধর্ম সংক্রান্ত অন্যান্য পুস্তকাবলী প্রণয়ন ও প্রকাশ এবং অন্যান্য নিদর্শনাবলী।
চ. হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিশেষ ঐশী নিদর্শনাবলীঃ১. পণ্ডিত লেখরাম পশোয়ারীর মৃত্যু সম্পর্কিতভবিষ্যদ্বাণী (১৮৯৩ ইং) এবং উক্ত ভবিষ্যদ্বাণীর যথাসময়ে পূর্ণতা (১৮৯৭ ইং)।২. স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী এবং তাঁর মৃত্যু (১৮৮৩ ইং)।৩. পণ্ডিত ইন্দ্রমোহন মোরাদাবাদীর চ্যালেঞ্জগ্রহণ এবং তাঁর পশ্চাদাপসরণ (১৮৮৫ ইং)।৪. ‘শুভ-চিন্তক’ পত্রিকার পরিচালক সোমরাজ, পণ্ডিত ইচ্ছর চন্দ্র এবং পণ্ডিত ভগ্যরামের প্লেগ জনিত মৃত্যু (১৯০৭ ইং) এবং অন্যান্য নিদর্শনাবলী।
ছ. শিখদের জন্য বিশেষ নিদর্শনাবলীঃ১. হযরত মির্যা সাহেব (আঃ) ১৮৯৫ ইং সনে ‘ডেরা বাবা নানক’ নামক স্থানে গমন করেন এবং বাবা নানকের মুসলমান হওয়ার প্রমাণ পেশ করেন। ‘সৎ বচন’ নামক পুস্তক প্রণয়ন ও প্রকাশ করতঃ অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণ করা হয়েছে যে শিখ গুরু ‘বাবা নানক’ মুসলমান ছিলেন।২. পাঞ্জাবের শিখ রাজপুত্র রাজা দিলীপ শিং সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা।
জ. বিরুদ্ধবাদী মৌলবী ও অন্যান্যদের জন্য বিশেষ নিদর্শনাবলীঃ১. বাটালা নিবাসী মৌলবী মুহাম্মদ হোসেন সাহেবের জন্য প্রদর্শিত ঐশী নিদর্শন।২. হুশিয়ারপুর নিবাসী মির্যা আহ্‌মদ বেগ ও তাঁর কন্যা মুহাম্মদী বেগম সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী এবং তদনুযায়ী আহ্‌মদ বেগের মৃত্যু।৩. ঝিলামের ফৌজদারী আদালতে জনৈক করমদীন কর্তৃক মামলায় হযরত মির্যা সাহেবের বেকসুর খালাস, ঝিলাম গমনের ফলে বিপুল সম্বর্ধনা এবং বহুলোকের বয়আত গ্রহণ। কাদিয়ানের মসজিদে মোবারকে আসার পথে বিরুদ্ধবাদীদের দেওয়াল নির্মাণ এবং ঐশী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দেওয়ালভেঙ্গে ফেলার জন্য আদালত কর্তৃক নির্দেশ প্রদান। মৌলবী রসূল বাবা লিখিত ‘হায়াতে মসীহ্‌’ পুস্তকের বিষয় খণ্ডন করতঃ ‘ইতমামে হুজ্জত’ নামক পুস্তকের প্রণয়ন ও প্রকাশ। সাদুল্লাহ্‌ লুধিয়ানবীর বিরোধিতাপূর্ণ ব্যবহার এবং উহার ফলশ্রুতি। হযরত সাহেব কর্তৃক ইসলামের শিক্ষা ও সৌন্দর্য, ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও মহা বিজয়, ইসলামের কল্যাণময় আশীষ ধারার চির প্রবহমানতা, ইসলামের পুনরুত্থান ও পুনর্জাগরণ, ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত সর্ব প্রকার অপবাদের খন্ডন এবং ইসলামেরশ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার্থে বাস্তব-সম্মত পদক্ষেপপূর্ণ পুস্তকাবলী প্রণয়ন ও প্রকাশ।
ঝ. ভারতবাসীদের জন্য বিশেষ নিদর্শনাবলীঃ১. পাঞ্জাবে মহামারী রূপে প্লেগের আক্রমণের ভবিষ্যদ্বাণী, আহ্‌মদীয়া জামাতের সদস্যদের প্লেগের আক্রমণ হতে অব্যাহতি লাভ সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী।২. লাহোরে অনুষ্ঠিত ‘সর্বধর্ম সম্মেলন’ (১৮৯৭ ইং) এবং উহাতে পঠিত প্রবন্ধের শ্রেষ্ঠত্ব।(‘ইসলামী উসুল কি ফিলসফি’)
ঞ. আফগানিস্তানের জন্য বিশেষ নিদর্শনঃসাহেবযাদা সৈয়দ আবদুল লতিফ সাহেব এবং মৌলবী আব্দুর রহমান সাহেবের শাহাদাত বরণ সম্পর্কিতভবিষ্যদ্বাণী।
ট. ইরানের জন্য বিশেষ নিদর্শনঃকিসরার রাজ প্রাসাদ তথা ইরানের ‘কম্পন অবস্থা’ (বিপ্লব অবস্থা) সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা।
ঠ. রাশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার জন্য বিশেষ নিদর্শনঃ১. রাশিয়ার তদানীন্তন সম্রাট জার সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা।২. রাশিয়ার ভবিষ্যত সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী।৩. আমেরিকান পাদ্রী আলেকজান্ডার ডুই সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী।৪. ইংল্যান্ডের ধর্মযাজক জন হুগ স্মিথ পিগট সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী।৫. ইয়াজুজ ও মাজুজ সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা।৬. প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী।৭. ইসলামের প্রতি ইউরোপীয়দের আকৃষ্ট হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী।
ড. বাঙ্গালীদের জন্য বিশেষ ঐশী নিদর্শনঃবঙ্গভঙ্গ আন্দোলন সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা (১৯১১ ইং)।ঢ. মধ্য প্রাচ্যবাসীদের জন্য বিশেষ ঐশী নিদর্শনঃ১. ঈদুল আযহার দিনে আরবী ভাষায় ‘খুতবা ইলহামীয়া’ প্রদান (১৯০০ ইং)।২. ১৮৯৭ খৃষ্টাব্দে তুরষ্কের কনসলের সংগে সাক্ষাৎকালে তুরস্কের সুলতানের আসন্ন বিপদাবলী সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী।৩. আরবী ভাষায় জনৈক বাগদাদী মৌলবীর আপত্তির জবাব।৪. ‘লুজ্জাতুন নূর’ নামক পুস্তকের মাধ্যমে আরব, সিরিয়া, বাগদাদ, ইরাক ও খোরাসানের আলেমদিগকে সুসংবাদ প্রদান।৫. আরবী ভাষায় ঐশী সাহায্যে ব্যুৎপত্তি লাভ, চল্লিশ হাজার ‘শব্দমূল’ শিক্ষা এবং ২০ খানা আরবী পুস্তক প্রণয়ন।
ণ. চীন ও জাপানের জন্য বিশেষ ঐশী নিদর্শনঃপ্রাচ্যে দুইটি রাজনৈতিক শক্তির বিকাশের ভবিষ্যদ্বাণী এবং উহা জাপান ও চীনের অভ্যূদয়ের মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে।ত. পাকিস্তানের জন্য বিশেষ ঐশী নিদর্শনঃ১. পাকিস্তানে হিজরত সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী।২. পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রী জুলফিকার আলীভূট্টো এবং প্রেসিডেন্ট জিয়াঊল হকের প্রচন্ডবিরোধিতা এবং তাদের শোচনীয় পরিণতি সম্পর্কিতভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা।
থ. বিশ্ববাসীর জন্য বিশেষ নিদর্শন ও জামাতের চূড়ান্ত সাফল্যঃ১. ১৮৬৪ ইং সনে স্বপ্নে হযরত রসূল করীম (সঃ)-এর দর্শন লাভ এবং প্রত্যাদিষ্ট সংস্কারক হওয়ার পূর্বাভাস। ১৮৬৮ ইং সনে ইলহাম লাভ করেন‘বাদশা তেরে কাপড়োঁ ছে বরকত ঢুণ্ডেঙ্গে’অর্থাৎ বাদশা তোমার বস্ত্র হতে আশীর্বাদ অনুসন্ধান করবেন।২. বিশেষ সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা, উল্কাপাত ও নক্ষত্রের উদয়।৩. পাঁচটি বিশেষ ঐশী নিদর্শনমূলক ভবিষ্যদ্বাণী।(তাজাল্লিয়াতে ইলাহিয়া)৪. ‘সুলতানুল কলম’ হিসেবে প্রাপ্ত ঐশী উপাধী।৫. কবূলিয়াতে দোয়া সম্পর্কিত ঘটনাবলী এবং জামা ও পাগড়ীতে রক্তবর্ণ চিহ্নের ঘটনা।৬. স্বীয় জীবন, কার্যাবলী ও সাফল্য, মৃত্যু এবং ‘কুদরতে সানিয়া’ হিসাবে খেলাফতের অব্যাহতধারা, ওসীয়্যত ব্যবস্থা প্রবর্তন।৭. ‘মুসলেহ মাওউদ’ সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা।৮. বিরুদ্ধবাদীদের সকল চক্রান্তের অবসান এবংতিন শতাব্দীর মধ্যে বিশ্বব্যাপী আহ্‌মদীয়া জামাতের মাধ্যমে ইসলামের মহাবিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী।৩.
১। ধমীয় গ্রন্থাবলীতে বর্ণিত ভবিষ্যাদ্বাণীসমূহের পূর্ণতার সাক্ষ্য প্রমাণঃপবিত্র কুরআনে সূরা জুমুআতে তাঁর আবির্ভাব হযরতমুহাম্মদ (সাঃ)-এর দ্বিতীয় আগমন বলে অভিহিত করা হয়েছে। সূরা সাফে তাঁকে ‘আহ্‌মদ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সূরা নূরে ‘ঈসা-সদৃশ’ খলীফা হিসাবে ইংগিত করা হয়েছে। সূরা কাহাফে তাঁকে ‘যুল কারনায়ন’ বলা হয়েছে। হাদীসের গ্রন্থাবলীতে তাঁকে কখনও ‘ইমাম মাহ্‌দী’, কখনও ‘ঈসা ইবনে মরিয়ম’, ‘ইবনে মরিয়াম’, ‘খলীফাতুল্লাহিল মাহ্‌দী’ বলা হয়েছে। হিন্দুদের শাস্ত্রাদিতে কলি যুগের জন্য প্রতিশ্রুত মহাপুরুষকে ‘কল্কি অবতার’ এবং বৌদ্ধ ধর্মে ‘মৈত্তেয়’ বলা হয়েছে। তিনি পার্শী ধর্মে ‘মসীদর বহরমী’, ‘সুসান’ এবং ‘পবিত্র আহ্‌মদ’ নামে তিনি পরিচিত, খৃষ্টানদের জন্য তিনি ‘মনুষ্যপুত্র ঈসা’ নামে এবং শিখ ধর্মে ‘রেশাদ’ ও ‘মাহ্‌দীমীর’ বলে অভিহিত। বস্তুতঃ সকল ধর্মের অনুসারীদের জন্য শেষ যুগে তিনি এক ও অভিন্ন ঐশী সংস্কারক হবেন। একই যুগে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি প্রত্যাদিষ্ট হওয়ার প্রশ্ন বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে অযৌক্তিক এবং হাস্যকর।
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, ‘মাহ্‌দী ঈসা ইবনে মরিয়ম ব্যতীত অপর কেহ নহেন’।(ইবনে মাজা)
পবিত্র কুরআনের কয়েকটি রেফারেন্স দৃষ্টান্ত হিসেবে নীচে উল্ল্যেখ করা হলোঃ (এ গুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ, হাদীসের উক্তি ইত্যাদি বিষয়ে জানার জন্য হযরত মির্যা সাহেব (আঃ)-এর লেখা ৮৮ খানা পুস্তক এবং আহ্‌মদীয়া সাহিত্য, পত্র-পত্রিকাদি দ্রষ্টব্য)।
ক. বূ্রুজী’ আবির্ভাবঃসূরা জুমুআঃ ৪আয়াতে আধ্যাত্মিক অর্থে বুরুজীভাবে হযরত মুহাম্ম (সাঃ)-এর দ্বিতীয় আবির্ভাবের ভবিষ্যদ্বণী রয়েছে। এ সম্বন্ধে বুখারী শরীফে বর্ণিত হাদীস ‘লাও কানাল ঈমানু মোয়ালিৱকান ইনদা সুরাইয়া লানালাহু রেজালুন মিনহা-উলায়েঁ প্রণিধানযোগ্য।
খ. খেলাফতের প্রতিশ্রুতিঃসূরা নূরঃ ৫৬আয়াতে খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঐশী প্রতিশ্রুতি রয়েছে যা বিশেষভাবে ইসলামের আর্বিভাব-যুগে খোলাফায়ে রাশেদীনের মাধ্যমে এবং আখেরী যুগে ইমাম মাহ্‌দী ও মসীহ্‌ মাওউদ (আঃ)-এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। এ সম্বন্ধে মেশকাত ও অন্যান্য হাদীস দ্রষ্টব্য।
গ. আবির্ভাব কালঃসূরা সিজদাঃ ৬আয়াত অনুযায়ীইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর (সহী হাদীস অনুযায়ী প্রথম তিনশত বছর ইসলামের গৌরবময় যুগ) এক হাজার বছরে উহা আকাশে উঠে যাবে। অর্থাৎ ১০০০ + ৩০০ বছর = ১৩০০ বছর পর উপরের (ক) ক্রমিকে বর্ণিত সূরা জুমুআর ভবিষ্যদ্বাণী অনুয়ায়ী আকাশ হতে ধরাপৃষ্ঠে ঈমানকে আনয়নের জন্য প্রতিশ্রুত মহাপুরুষের আগমন অবধারিত। ফলতঃ চৌদ্দশত হিজরীর প্রারম্ভেই আহ্‌মদীয়া জামাতের প্রতিষ্ঠাতা ঐশী নির্দেশে তাঁর দাবী পেশ করেছেন।
ঘ. বিশ্ব বিজয়ের প্রতিশ্রুতিঃসূরা সাফঃ ১০,ফাতাহঃ ২৯-৩০,তাওবাঃ ৩৩প্রভৃতি আয়াত এবং সংশ্লিষ্ট হাদীস ও বুযূর্গানে উম্মতের অভিমতদ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ‘প্রতিশ্রুত মসীহ্‌’ এবং প্রতীক্ষিত মাহ্‌দী’ (আঃ)-এর মাধ্যমে আখেরী যুগে ইসলাম প্রচার ব্যবস্থা সুসংগঠিত হবে এবং ঐশী সাহায্যের দ্বারা ইসলাম বিশ্ব-বিজয়ী হবে।
ঙ. ইমাম মাহ্‌দী (আঃ)-এর বংশ, নাম, দৈহিক গঠন এবং আর্বিভাব স্থানঃআনআমঃ ২১,সাফঃ ৭,জুমুয়াঃ ৪, ইয়াসিনঃ ২১-২৬ এবং সংশ্লিষ্ট হাদীসের ভবিষ্যদ্বাণী এবং বুযূর্গানে উম্মতের অভিমতের আলোকে বিষয়টির প্রকৃত তাৎপর্য পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, আহ্‌মদীয়া জামাতের প্রতিষ্ঠাতার মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণীসমূহ পূর্ণতা লাভ করেছে।
চ. চরম বিরোধিতা সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীসমূহঃসূরা বাকারাঃ ২৯৫ ইয়াসিনঃ ৩১, বুরুজঃ ৮-১২, আনআমঃ ১১ এবং সংশ্লিষ্ট হাদীসের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযয়ী সমকালীন অহঙ্কারী-দাম্ভিক আলেমগণ আহ্‌মদীয়াজামাতের বির্বদ্ধে বিষোদগার করে চলেছে। এর দ্বারাও দাবীকারকের সত্যতাই প্রমাণিত হয়।
৩.২। অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থের ভবিষ্যদ্বাণীসমূহের পূর্ণতার প্রমাণসমূহঃবিশ্বজনীন ধর্ম হিসাবে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা পৃথিবীর অন্যান্য ধর্ম এবং ধর্মীয় মহাপুরুষদিগকে সত্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে(লাকাদবায়াসনা ফিকুলিৱ উম্মতির রাসূল- ইউনুসঃ ৪৮)। অবশ্য একথা সত্য যে, বিভিন্ন কারণে অতীতের গ্রন্থাবলী সংরক্ষিত হয় নাই এবং তার ফলে অনেক ক্ষেত্রে এগুলো বিকৃতি এবং হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে। এতদসত্বেও প্রাচীন ধর্ম গ্রন্থাবলীতে অল্প বিস্তর ভবিষ্যদ্বাণী দেখতে পাওয়া যায় যেগুলো দ্বারাও ‘আখেরী তথা কলি যুগ’ এবং সেই যুগের মহাপুরুষের বিভিন্ন লক্ষণ ও চিহ্নাবলীর উল্ল্যেখ দেখতে পাওয়া যায় যেগুলো বর্তমান কালে পূর্ণতা লাভ করেছে। সংক্ষেপে কয়েকটি ভবিষ্যদ্বাণীর বরাত উল্ল্যেখ করলাম।
ক. হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের ভবিষ্যদ্বাণীঃ‘আহ্‌মদ’ নামক ঋষি তাঁর আত্মিক পিতার আদর্শ অনুযায়ী আসবেন(অথর্ব বেদ ২০ কান্ড, ১৯৫ সুক্ত)। আহ্‌মদের আবির্ভাব স্থলের নাম হবে কদন(অথর্ব বেদ, ৯৭ সুক্ত)। সেই সময়ে বিশেষ চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ হবে(মহাভারত বনপর্ব, ভাগবৎপুরাণ-৯৩ স্কন্ধ)। মহাভারতের ৯ম পর্ব ৯৯০-৯৯৯ অধ্যায়গুলোতে কলিযুগের বিভিন্ন চিহ্ন ও লক্ষণসমূহ বর্ণিত হয়েছে যেগুলো বর্তমান যুগে পূর্ণ হয়েছে। গীতার একাদশ অধ্যায় ‘শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপ’ সম্পর্কে যে সকল বিষয় বর্ণিত হয়েছে সেগুলো কলিযুগের মহাপুরুষ সম্পর্কে যথোপযুক্তভাবে প্রযোজ্য।বৌদ্ধ ধর্ম গ্রন্থ ‘অনাগত ভবিষ্য’ অনুযায়ী শেষ যুগে ‘মৈত্তেয়’ আসার ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে। ‘জৈনষ্টাকাতনী’ নামক বৌদ্ধ গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, শেষ যুগে আগমনকারী মহাপুরুষেরনাম ‘এমদ’ হবে।
খ. পার্শী ধর্মের ভবিষ্যদ্বাণীঃ‘পবিত্র আহ্‌মদ নিশ্চয় আগমন করবেন’(যেন্দাবেস্তা, ৯মখন্ড)। শেষ যুগে একজন ত্রাণকর্তার আবির্ভাব হবে(গাথা)। শাহ রহমতুল্লা (মসীহদর বহরমী বা সুসান নামে) এক পবিত্র পুরুষের আবির্ভাব হবে(সুস্তনাম সাসান পঞ্চমঃ ৩১-৩৩ শ্লোক)।
গ. ইহুদী ও খৃষ্টধর্মের ভবিষ্যদ্বাণীঃমসীহ্‌ একজন রসূল হবেন এবং তাঁর রাজত্ব কাল হাজার বছর স্থায়ী হবে(তালমুদ)। ‘প্রতিশ্রুত মসীহ মারা যাবেন এবং তাঁর রাজত্ব পুত্র ও পৌত্রের উপর বর্তাবে’(তালমুদ)। বিদ্যুত যেমন পূর্ব দিক পর্যন্ত প্রকাশ পায় তেমনি মনুষ্য-পুত্রের আগমন হবে(মথি ২৪:২৭)। মানুষের গায়ে ব্যাথাজনক দুষ্টক্ষতের সৃষ্টি হলো … সমুদ্রের জীবগণ মরলো … প্রচণ্ড ভূমিকম্প হলো …(প্রকাশিত বাক্য ১৬:২-২১)। উল্লেখ্য যে খৃষ্টধর্ম গ্রন্থের ২৯৬টি স্থানে শেষ যুগে মনুষ্যপুত্র মসীহ্‌ অর্থাৎ হযরত ইসা (আঃ)-এর আবির্ভাবের ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে।
ঘ. শিখ-মতবাদের আলোকেঃতিনি প্রকৃত সিদ্ধগুরুর শিষ্য হবেন(গুরুগ্রন্থ সাহেব, রাগ তালংগ, মোহাল্লা-১)। সেই মহাপুরুষ পাঞ্জাবের বাটালা অঞ্চলে জমিদার পরিবারে আবির্ভূত হবেন(ভাইবালা জনম শাখী)তিনি ‘রেশাদ’ নামে অভিহিত হবেন যার অর্থ ‘খোদার প্রিয়’ এবং ‘নৈকট্য প্রাপ্ত’(ভাইবালা জনম শাখী)। চন্দ্র ও সূর্য তাঁর আগমন বার্তা ঘোষণা করবে(গুরু গ্রন্থ সাহেব, মোহাল্লা- ৭, ঝুলনা- ৪)। এক অবতার অর্থাৎ মাহ্‌দীমীর প্রেরিত হবেন। তিনি রাক্ষস বধ করবেন, সমগ্র বিশ্বে খ্যাতি লাভ করবেন…(গুরা গোবিন্দ সিং, ১০ম গ্রন্থ, চব্বিশ অবতার অধ্যায়)।
৪। আবির্ভাব যুগের অবস্থাবলীর সাক্ষ্য প্রমাণঃক. আখেরী যামানার বিশেষ নিদর্শনাবলীর প্রকাশঃসূরা তাকভীরঃ ২-১৯, ইনফিতার, ইনশিকাক,যিলযাল, বুরুজ, কারিয়াহ এবং সংশ্লিষ্ট হাদীসের ভবিষ্যদ্বাণীর আলোকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, কতকগুলো বিশেষ ঘটনা, চিহ্নাবলী এবং নিদর্শন প্রকাশিত হয়েছে যদ্বারা ‘আখেরী যুগ’ সুষ্পষ্টরূপে চিহ্নিত হয়েছে।
খ. ইয়াজুজ মাজুজ ও দাজ্জাল সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীঃসূরা আম্বিয়াঃ ৯৬-৯৮, কাফঃ ৫-৬ও ৯৫-৯৯ এবং সংশ্লিষ্ট হাদীসের ভবিষ্যদ্বাণীসম্বলিত তথ্যাবলী হতে একদিকে যেমন ইয়াজুজ-মাজুজ ও দাজ্জালের ফেতনা ফ্যাসাদ সম্পর্কে জানা যায়, ���পরদিকে সেই ফেতনা হতে রক্ষ��কারী প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আঃ)-এর আগমন সম্পর্কেও জানা যায়। ‘দাজ্জাল’ বলতে ত্রিত্ববাদী মতবাদ এবং ‘ইয়াজুজ-মাজুজ’ বলতে পাশ্চ্যত্যের দু’টি প্রধান সামরিক রাজনৈতিক জোট এবং উহাদের ফেতনার কথা বলা হয়েছে।
গ. ‘আযাব’ সংক্রান্ত ঐশী নীতির আলোকেঃসূরা বনী-ইস্রায়েলঃ ১৬-১৭; রহমানঃ ৩২-৪৬, যিলযাল এবং সংশ্লিষ্ট হাদীসের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ঐশী আযাব হতে উদ্ধারকারী ইমাম মাহ্‌দী ও মসীহ্‌ মাওউদ (আঃ)-এর আগমন পৃথিবীব্যাপী অগণিত আযাব ও ঐশী শাস্তিমূলক নিদর্শনের ক্রমবর্ধমান প্রকাশ সম্পর্কে সমুজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করছে।
ঘ. ইহুদী জাতির পুনঃএকত্রীকরণ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিঃ সূরা বনী ইস্রায়েলঃ ১০৫, আম্বিয়াঃ ৯৮, ১০৬ এবং সংশ্লিষ্ট হাদীস অনুযায়ী আখেরী যুগের অন্যতম বিশেষ নিদর্শন এবং সনাক্তকারী ঘটনা হিসেবে ‘ইস্রায়েল’ নামক ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা (১৯৪৯ ইং) এবং দু’হাজার বছর পর ইহুদীদের পুনঃএকত্রিত হওয়ার ঘটনা জ্বলন্ত সাক্ষ্য বহন করছে যে, বর্তমান যুগই প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আঃ)-এর যামানা।
ঙ. হাদীসের বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণীতে আখেরী যুগের অবস্থা এবং সনাক্তকারী বিশেষ চিহ্ন ও ঘটনাবলী সম্পর্কে উল্ল্যেখ করা হয়েছেঃযানবাহন হিসেবে উটের ব্যবহার উঠে যাবে, ধর্মীয় জ্ঞান এবং যথাযথ অনুশীলনের তীব্র অভাব হবে, সৎকাজ হ্রাস পাবে, ঝগড়া-বিবাদ বৃদ্ধি পাবে, বেশী বেশী ভূমিকম্প হবে, বাদ্য-যন্ত্র এবং গায়িকা নারীর প্রাধান্য হবে, দলনেতা ফাসেক হবে, ইসলামের মাত্র নাম এবং কুরআনের মাত্র অক্ষর অবশিষ্ট থাকবে, মসজিদগুলি বাহ্যিক আড়ম্বরপূর্ণ হবে কিন্তু হেদায়াত শূণ্য হবে, আলেমগণ আকাশের নীচে নিকৃষ্টতম জীব হবে এবং ফেৎনা ফাসাদ ছড়াবে, আমানতের ব্যাপকভাবে খেয়ানত করা হবে, মানুষ অত্যধিক অত্যাচারী ও অহংকারী হবে, ব্যাভিচার বৃদ্ধি পাবে, সুদের ব্যাপক প্রচলন হবে, ধর্মকে দুনিয়ার পশ্চাতে রাখা হবে, অবৈধ সন্তান জন্মের হার বৃদ্ধি পাবে, উষ্ট্রচালকও বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ করবে, মুসলমানগণ ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। (যার মধ্যে একটি ব্যতীত সকলেঝগড়া-বিবাদের আগুনে থাকবে, ইত্যাদি ইত্যাদি।) বলা অনাবশ্যক যে, বর্তমান যুগ বিশেষতঃ বিগত ১০০ বছরের পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, এই সকল ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হয়েছে এবং এখনও এগুলোর বহিঃপ্রকাশ চতুর্দিকে পরিব্যাপ্ত রয়েছে।
৫। দাবী-কারকের ব্যক্তি-চরিত্র এবং ‘তাকওয়া’ ভিত্তিক প্রমাণঃক.দাবী-কারকের সত্যতা নিরূপণের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে দাবীর পূর্বেকার জীবনের পবিত্রতা, সত্যবাদিতা এবং সাধূতার সাক্ষ্য-প্রমাণের কথা পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে।(সূরা ইউনুসঃ ১৭)
খ.হযরত মির্যা সাহেবের দাবীর পূর্ববর্তী জীবন কিরূপ ছিল সে সম্বন্ধে তাঁর ঘোরতর বিরুদ্ধবাদী মৌলবী মুহাম্মদ হুসেন বাটালবী সাহেব লিখেছেন, মির্যা সাহেব মুহাম্মদী শরীয়াতে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং পরহেযগার ও মুত্তাকী।(ইশয়াতুস সুন্নাহ, ৬ষ্ঠ বর্ষ, ৯ম সংখ্যা)
গ. সমকালীন পত্রিকার মন্তব্য প্রণিধান যোগ্যঃ‘চরিত্রের দিক দিয়ে মির্যা সাহেবের সমগ্র জীবনে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কালিমার চিহ্নও পরিলক্ষিত হয় না। তিনি এক পরম পবিত্র ও মুত্তাকী জীবন যাপন করেছেন’(অমৃতসর থেকে প্রাকাশিত ‘উকিল’ ৩১ মে, ১৯০৮ইং)
ঘ.হযরত মির্যা সাহেব (আঃ) ঘোষণা করেছেন,‘কে আছে যে আমার জীবনীতে কোন দোষ-ত্রুটি বের করতে পারে’?(তাযকেরাতুশ শাহাদাতায়ন)
ঙ.হযরত মির্যা গোলাম আহ্‌মদ ইমাম মাহ্‌দী (আঃ) তাঁর দাবীর সত্যতা অনুধাবন করার জন্য একটি সহজ পন্থা হিসেবে ‘ইস্তেখারা’ দোয়ার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতঃ সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন (‘নিশানে আসমানী’পুস্তক, প্রকাশকাল ১৮৯২ইং)। আল্লাহ্‌ তা’আলার বিশেষ অনুগ্রহ এবং কল্যাণে শত-সহস্র লোক ইস্তেখারার মাধ্যমে আহ্‌মদীয়া জামাতের প্রতিষ্ঠাতার দাবীর সত্যতার স্বপক্ষে সন্দেহাতীত প্রমাণ পেয়ে আহ্‌মদীয়া জামাতে বয়আত গ্রহণ করেছেন।উপসংহারঃ উদাত্ত আহ্বানসুস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ইমাম মাহ্‌দী (আঃ)-এর আগমন ঘটেছে। তাঁর দাবীর সত্যতা প্রমাণিতহয়েছে বাস্তব ঘটনা ও নিদর্শনাবলী দ্বারা। তিনি ইসলামের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও প্রচার, ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশ্ব-বিজয়কে বাস্তবে প্রতিপন্ন করার জন্য খিলাফত ভিত্তিক একটি সুসংবদ্ধ জামা’ত গঠন করেছেন। আল্লাহ্‌ তা’আলার ফযলে আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামা’ত প্রথম প্রতিষ্ঠা শতাব্দী অতক্রম করেছে ২২শে মার্চ ১৯৮৯ সালে। উল্লেখ্য যে, হযরত ইমাম মাহ্‌দী (আঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী তাঁর আর্বিভাবের পর হতে তিনশত বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ইসলামের মহাবিজয় এবং প্রচার সুসম্পন্ন হবে। উক্ত ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী প্রথম শতাব্দী অতিক্রান্ত হয়েছে আহ্‌মদীয়াতের প্রতিষ্ঠা শতাব্দী হিসাবে এবং আগামী দ্বিতীয় শতাব্দী (১৯৮৯-২০৮৯ খৃঃ) ও তৃতীয় শতাব্দী (২০৮৯-২১৮৯ খৃঃ) হবে আহ্‌মদীয়া জামাতের মাধ্যমে ইসলামের বিশ্ব-বিজয়ের শতাব্দী’।
হযরত ইমাম মাহ্‌দী (আঃ) ঘোষণা করেছেন,হে লোক সকল! শুনে রাখ যে, ইহা সেই খোদার ভবিষ্যদ্বাণী যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। তিনি এই জামা’তকে জগতের সমস্ত দেশে বিস্তৃত করবেন এবং যুক্তি-প্রমাণ ও নিদর্শনের মাধ্যমে সকলের উপর প্রাধান্য দান করবেন। …. আজকের দিন হতে তৃতীয় শতাব্দী পার হবে না, যখন ঈসা নবীর (আঃ) অপেক্ষারত কি মুসলমান কি খৃষ্টান সম্পূর্ণ নিরাশ ও হতাশ হয়ে (ঈসার আকাশ হইতে অবতরণের) এই মিথ্যা বিশ্বাসকে পরিত্যাগ করবে এবং পৃথিবীতে তখন একই ধর্ম(ইসলাম) হবে এবং একই ধর্ম নেতা (হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)) হবেন। আমি কেবল বীজ বপন করতে এসেছি। অতএব আমার দ্বারা বীজ বপন করা হয়েছে। এখন এই বীজ বৃদ্ধি প্রাপ্ত হবে এবং ফুলে ফলে সুশোভিত হবে। কেহ ইহাকে রোধ করতে সক্ষম হবে না।(তাযকেরাতুস-শাহাদাতায়ন, ১৯০৪ সনে প্রকাশিত)
হযরত রসূল করীম (সঃ) বলেছেন,‘ইমাম মাহ্‌দী প্রকাশিত হওয়ার সংবাদ পাওয়া মাত্রই তার বয়আত করিও, যদি বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়েও যেতে হয়। নিশ্চয় তিনিআল্লাহ্‌র খলীফা ইমাম মাহ্‌দী’।(ইবনে মাজা)
‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাঁকে (ইমাম মাহ্‌দীকে) পাবে, সে যেন তাঁর উপর ঈমান আনে এবং তাঁকে আমার সালাম পৌছিয়ে দেয়’।(কনজুল উম্মাল)
‘যে ব্যক্তি যুগ-ইমামের হাতে বয়আত না করে ইহ জগৎ ত্যাগ করেছে, সে জাহেলিয়তের মৃত্যুবরণ করেছে’।(মুসলিম, মসনদ আহ্‌মদ বিন হাম্বল)
হযরত রসূল আকরাম (সঃ)-এর নির্দেশাবলীর আলোকে আহ্‌মদী মুসলমানগণ হযরত ইমাম মাহ্‌দী (আঃ) কে মেনেছে এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত আহ্‌মদীয়া জামাতেরমাধ্যমে ইসলামের খেদমতে আত্মনিয়োগ করেছে। যদি পবিত্র রসূল (সাঃ)-এর ঐরূপ নির্দেশ না থাকতো তাহলে তারা কখনই উপরোক্ত দাবীকারকের কথায় কর্ণপাত করতো না।
আহ্‌মদীয়া জামাতের উন্নতি সম্পর্কে আল্লাহ্‌ তা’আলা হযরত মির্যা সাহেবকে (আঃ) সম্বোধন করে বলেন,‘আমি তোমাকে ইসলামের এক বিরাট জামা’ত দান করব’(বারাহীনে আহ্‌মদীয়া গ্রন্থের ৪র্থ খন্ডে ৫৫৬ পৃষ্ঠা এবং তাযকেরা গ্রন্থের ১০৭ পৃষ্ঠা)
তিনি আরও বলেছেন,‘ইসলামের পূনরায় সেই সজীবতা ও উজ্জ্বলতারদিন আসবে যা পূর্বে ছিল এবং সেই সূর্য পুনরায় স্বীয় গৌরব সহকারে উদিত হবে যেমন পূর্বে উদিত হয়েছিল’(ফতেহ্‌ ইসলাম)
আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁকে জানিয়েছেন,‘আমি তোমার প্রচারকে বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে পৌছাবো’।হযরত মির্যা সাহেব (আঃ) বলেছেনঃখোদা তা’আলা আমাকে বারংবার জানিয়েছেন যে, তিনি আমাকে বহু সম্মানে ভূষিত করবেন এবং মানুষের হৃদয় আমার প্রতি ভক্তিতে আপ্লুত করে দিবেন। তিনি আমার অনুসারীগণের জামা’তকে সারা বিশ্বে বিস্তৃত করবেন এবং তাদেরকে সকল জাতির উপর জয়যুক্ত করবেন। আমার অনুসরণকারীগণ এরূপ অসাধারণ জ্ঞান ও তত্ত্ব-দর্শিতা লাভ করবে যে, তারা নিজ নিজসত্যবাদিতার জ্যোতিতে এবং যুক্তিপূর্ণ প্রমাণ ও নিদর্শনাবলীর প্রভাবে সকলের মুখ বন্ধ করে দিবে। সকল জাতি এই নির্ঝর হতে তৃষ্ণা নিবারণ করবে এবং আমার সংঘ ফল-ফুলে সুশোভিত হয়ে দ্রুত বর্ধমান হবে এবং অচিরেই সারা জগৎ ছেয়ে ফেলবে। বহু বাধা-বিঘ্ন দেখা দিবে এবং পরীক্ষা আসবে কিন্তু খোদা সেগুলোকে পথ হতে অপসারিত করেদিবেন এবং আপন প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেন।(তাজাল্লিয়াতে ইলাহিয়া পৃষ্ঠাঃ ২২)
.
আসুন ঈমানদার ব্যক্তিরা যুগের মাহদীকে মেনে ইসলামের বিশ্বজয়েরর অগ্রযাত্রায় শরীক হই।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৫ রাত ৯:৫৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুটি হাসিখুশি গল্প: ফাজিল কানাডিয়ান ও মহা সিরিয়াস কানাডিয়ান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৩


হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প ছিল তাদের মাকে নিয়ে। তাদের মেঝ ভাই জাফর ইকবাল তখন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থাকেন। তাদের মা ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছেন। বিকেলে তিনি একা একা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×