আজ তিন তারিখ, আমার জন্মদিন। অনেকদিন আগে আমাদের বাড়িতে বেশ উৎসব উৎসব ভাব। পরিচিত সবাই হৈ হুল্লোড়ে মেতে উঠেছে। ফুটফুটে মেয়ে মনিরার তৃতীয় জন্মদিনে পরিচিত প্রায় সবইকে দাওয়াত করা হয়েছে। কিন্তু পরিবারের আরও একজন যে কিনা বিগত নয় মাস যাবত তার অধিকার যানান দিচ্ছে, তাকে সবাই দাওয়াত দিতে ভুলে গেল। এটা কি মেনে নেয়া যায়? আমিও মেনে নিলাম না। দাওয়াত দেয় নাইতো কি হয়েছে আমিও, উপস্থিত হয়ে গেলাম। হয়ত আপুর জন্মদিনে যোগ দেওয়ার জন্যই ডাক্তারের বেধে দেওয়া সময়ের আগেই পৃথিবীতে আমার অবতরন! মানে? আমাদের দুইজনের একই দিনে জন্মদিন!! এরপর থেকে আমরা দুই ভাই-বোন প্রায় প্রতিটা জন্মদিনে একসাথে ছিলাম, এই দিনটার মজাই আলাদা।
কিন্তু আমার সতের তম এবং আপুর বিশ তম জন্মদিনে আমরা দু’জন দুই যায়গায়। আমি স্কাউট থেকে ক্যাম্পিং এ গিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম অনেক মজা হবে। কিন্তু সবাই মজা করলেও আমার এক ধরনের খারাপ লাগার সৃষ্টি হয়। তারপর প্রতিজ্ঞা করি এই প্রথম এই শেষ, এর পর থেকে যে যেখানেই থাকি না কেন; এক যায়গায় মিলিত হবই।
আরেকটি ঘটনা বলি, গত বছরের! তো তখন এডমিস্ন কোচিং করার জন্য ঢাকায়। উঠেছি মামার কাছে, ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলে! মানে এডমিসনের আগেই ক্যাম্পাস লাইফ আরকি!! তো ২ জানুয়ারী রাত বারোটার পরে রুমের সবাই একটু আনন্দ করলাম (আমার জন্মদিন উপলক্ষে), তারপর একটার দিকে ঘুমাতে যাব। এমন সময় দরজায় নক্ , হাসান মামা (মামার রুমমেট) দরজা খুললেন। সর্বনাশ! পুলিশ!! হল রেট!!! আমি মনে মনে নিজেকে বলছি, এবার মজা বুঝ। যেহেতু আমার কাছে কোন কার্ড নেই, সেহেতু পুলিশ ধরে নিয়ে গেল। পেছন থেকে হাসান মামা বললেন, “ভয় পেও না সিজান! পুলিশ কাস্টেডিতে জন্মদিন!! নতুন অভিজ্ঞতা!!!” মুখে বললাম বটে, না মামা ভয় পাচ্ছি না। কিন্তু আমার আত্মা রাম খাঁচা ছাড়া অবস্থা।
না পুলিশ কাস্টেডিতে জন্মদিন পালন করতে হয়নি। মামা প্রভস্ট স্যারকে অনুরোধ করলেন, আর আমিও খুব করুন করে বললাম, “স্যার আমিতো এপ্লিকেন্ট, এডমিসান দিতে আসছি।” স্যার আমার এডমিড কার্ড দেকে পুলিশ অফিসাররে বললেন, “আরে এতো বাচ্চা ছেলে! একে ছেড়ে দেন।” আসলেইতো জন্মদিনে সবাই বাচ্চা থাকে, আশি বছরের বুড়োও!!
আজকের দিনটাও বিশেষ কারন, সামুর সাথে আমার প্রথম জন্মদিন!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



