ঘুম ভেঙ্গেছে, শুনে প্রভাত ফেরির গান
আমার জীর্ণ কুটিরের নোংরা বিছানা ছেড়ে
উঠবনা আমি সূর্য্যরে আগে
হীম শীতল বাতাস ঢুকছে আমার ভাঙ্গা ঘরের ফুটো দিয়ে
যেন বাধভাঙ্গা স্রোত!
এই ঠান্ডায় নোংরা ছেড়া চাদরে
নিজেকে গুটিয়ে নিই, আরও যতœ করে।
আমার খুব হাসি পাই এই দিনে!
দেখি শহরের নামি দামি মানুষগুলো
যারা সারা বছর, রোদ বৃষ্টি ধুলো ধুয়া থেকে
বাঁচতে পথ চলে চেপে দামী গাড়ি
যে মানুষগুলো তাদের সন্তানদের
মুড়ে রাখে, দামী সব পোষাকের আড়ালে।
তারা সবাই সন্তানের হাত ধরে
লাইন করে বেরিয়ে আসে, নগ্ন পায়ে
ধুলোয় পথ ভেঙ্গে এগিয়ে চলে!!
শহরের মাঝে নিঃসঙ্গ দাড়িয়ে থাকা
কতকগুলো ইট পাথরের মিনারে
কত শত দাম দিয়ে কেনা ফুল ফেলে আসে নির্দিধায়!!
অথচ আমরা যখন ট্রাফিক মোড়ে,
লাল বাতি জ্বললে হাত পাতি;
দুই মুঠে খাবারের জন্য
তখন তারা কেমন যেন কৃপন হয়ে যায়
আমাদের বাড়িয়ে দেয়া হাত
থেকে যায় খালি।
শুধু দেয় ইংরেজী গালি,
অর্থ বুঝি না কিছুই!!
মুর্খ আমি, সমাজের জঞ্জাল
জঞ্জালের মাঝেই পঁচে মরব চিরকাল।
তবু আজ আমি দুপুরে যাব,
নোংরা খাবার নিয়ে ঘরে ফেরার সময়;
বদমাস গার্ড, লাঠি নিয়ে আসবে ছুটে।
তবু যাব, পড়ে থাকা ফুলের ভেতর খেকে
কুড়িয়ে আনব কিছু ফুল
তুলে দেব ছোট বোনটির হাতে;
ভীষণ খুশি হবে, ও!
বহুদিন পর দেখব আমি,
ওর হাসি মাখা মুখ!!
তাই আজকের এই দিনটি
আমার কাছে একটু আলাদা
আমি শুনেছি, শহরের সবার কাছে
এই দিনটির নাম একুশে ফেব্রুয়ারি।
একুশে ফেব্রুয়ারী এর গল্প 'অপেক্ষা'
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ৭:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



