
আমার আগের পোস্টটা ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধরণের অপরাধের পরিসংখ্যান নিয়ে। ঐ পোস্টে একাধিক ব্লগার বলতে চেয়েছেন যে উন্নত দেশে ধর্ষণের রিপোর্ট অনেক বেশী হয়। আমি এই পোস্টে সব দেশ না মুলত অ্যামেরিকার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবো যে সেখানে ধর্ষণের রিপোর্ট অনেক কম হয়। তবে আমাদের দেশের মত অনুন্নত দেশে হয়তো তার চেয়েও কম রিপোর্ট হয়। কিন্তু সেই পার্থক্যটা খুব বেশী না। এই রিপোর্ট না করা ঘটনাগুলি হিসাবে নিলে ধর্ষণের হার আমাদের দেশের চেয়ে অ্যামেরিকায় অনেক বেশী।
২০১৪ সালের অ্যামেরিকার ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের রিপোর্ট অনুযায়ী ৬৫.২০% যৌন নির্যাতনের রিপোর্ট হয় না। ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের রিপোর্ট অনুযায়ী ধর্ষণ রিপোর্ট না করার কারণগুলির মধ্যে আছে;
২০% - প্রতিশোধের ভয়ে রিপোর্ট করে না।
১৫% - মনে করে পুলিশ কোন সাহায্য করবে না।
১৩% - মনে করে এটা ব্যক্তিগত ব্যাপার তাই রিপোর্টের দরকার নাই।
৮% - পুলিশ ছাড়া অন্য কোন অফিসে রিপোর্ট করে যারা আইন প্রয়োগের সাথে জড়িত না।
৮% - মনে করে এটা এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার না যেটাকে রিপোর্ট করতে হবে।
৭% - ধর্ষক বিপদে পড়ুক এটা চায় না।
২৯% - অন্যান্য কারণে রিপোর্ট করে না।
কোন কোন রিপোর্টে বলছে মাত্র ২০% থেকে ২৫% ধর্ষণ রিপোর্ট হয়।
রিপোর্ট করা ধর্ষণ কেসের মধ্যে মাত্র ১.৫৬% মামলায় সাজা হয়। তার মানে রিপোর্টেড আর আন রিপোর্টেড একত্রে নিলে মাত্র আনুমানিক ০.৫০% কেসে সাজা হয়। অনেক ক্ষেত্রে মাত্র কয়েক মাসের জেল হয়। রেইপ, এবিউজ এন্ড ইন্সেসট ন্যাশনাল নেটওয়ার্কের রিপোর্ট অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১০৭ সেকেন্ডে একটা রেইপ হয়ে থাকে। দুই তৃতীয়াংশ ধর্ষক ভিকটিমের পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের লেডি গাগার গাওয়া এই বিখ্যাত গানটা ‘ টিল ইট হ্যাপেন্স টু ইউ’ শুনলে বোঝা যায় যে সেখানে কাম্পাসের ধর্ষণকে কীভাবে কম গুরুত্ব দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে অগ্রাহ্য করা হয়।
এটা বিখ্যাত একটা গান। ‘হানটিং গ্রাউন্ড’ নামের একটা প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের গান এটা। এই সিনেমার মূল উপজীব্য হোল কলেজ কাম্পাসের যৌন নির্যাতন। আসলে আমাদের দেশে ধর্ষণ করে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে অপরিচিত লোক। আর অ্যামেরিকায় ৭৪% ধর্ষণ করে থাকে পরিচিত লোকেরা (বয়ফ্রেনড, এক্স বয় ফ্রেন্ড, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিত লোক) । যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসের যৌন লাঞ্ছনা সংক্রান্ত এই ছোট ভিডিওটা দেখতে পারেন।
৫৫% ধর্ষণ ঘটে ধর্ষিতার বাড়িতে বা বাড়ির কাছে। ১৫% ঘটে পাবলিক প্লেসে। ১২% ঘটে আত্মীয়ের বাড়িতে বা বাড়ির কাছে। ১০% ঘটে পারকিং এরিয়া বা গ্যারাজের মত বদ্ধ জায়গায়। বেশীর ভাগ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে এমন জায়গায় যেটাকে সাধারণভাবে নিরাপদ ভাবা হয়। যেমন বাড়িতে, গাড়িতে কিংবা অফিসে। ধর্ষণের পিছনে যৌন চাহিদা পূরণের চেয়ে বেশী দায়ী থাকে শত্রুতা, ক্ষমতা প্রদর্শনের ইচ্ছা এবং নিয়ন্ত্রণ করার ইচ্ছা।
ডেটিং এবং ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের ক্ষেত্রে ভিকটিম ভায়োলেন্সের মাত্রা কমানোর জন্য অনেক সময় চুপ থেকে সহ্য করে। অনেক ভিকটিম যৌন লাঞ্ছনা সত্ত্বেও তার পার্টনারকে ভালোবাসে। অনেকের যাবার কোন জায়গা নাই তাই মেনে নেয়। যৌন লাঞ্ছনা যারা করে তাদের মধ্যে ঈর্ষার প্রকাশ ঘটে। এটা একটা প্রাথমিক সাইন। ধর্ষণ বেশী হওয়ার কারণ সমুহ;
১। অ্যালকোহল এবং ড্রাগের কারণে
২। অপরাধ প্রবণতা
৩। অন্যের অধিকারকে গুরুত্ব না দেয়া
৪। উগ্র আচরণ
৫। অতি কম বয়সে যৌনতার স্বাদ পাওয়া
৬। ছোট বেলার পারিবারিক ভায়োলেন্স বা ঝগড়াঝাঁটি
৭। ছোটবেলার সেক্সচুয়াল অ্যাবিউজের স্মৃতি
৮। ফ্যামিলি থেকে ইমোশনাল সাপোর্ট না পাওয়া
৯। পিতার সাথে খারাপ সম্পর্ক
১০। খারাপ সঙ্গ
১১। দারিদ্র্য
১২। বেকারত্ব
১৩। পুলিশের তৎপরতার অভাব
১৪। সমাজে সেক্সচুয়াল ভায়লেন্সকে মেনে নেয়ার প্রবণতা এবং প্রতিবাদের ঘাটতি
১৫। রেইপ কালচারের প্রভাব
১৬। সামাজিকভাবে নারীদের দুর্বল ভাবার প্রবণতা
১৭। সমাজে উঁচু মাত্রার অন্যান্য অপরাধ ও ভায়লেন্সের আধিক্য
১৮। জবরদস্তীমুলক যৌন ফ্যান্টাসি।
১৯। মিডিয়াতে সেক্সের আধিক্য
২০। নারী বিদ্বেষ
২১। পুরুষতান্ত্রিক মন মানসিকতা
২২। অতি পুরুষত্ব প্রদর্শনের ইচ্ছা (হাইপার ম্যাসকুইলিনিটি)
২৩। ধর্ষকের আত্মহত্যার প্রবণতা
২৪। অতীতে ভিকটিম হওয়ার স্মৃতি বা অতীতেও ধর্ষণের রেকর্ড থাকা।
বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ১৫% থেকে ২০% নারী জীবনে অন্তত একবার ধর্ষিত হয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে একটা ভয়ংকর তথ্য। এটা আমার বিশ্বাস হতে চায় না। এটা ভুল প্রমাণিত হলেই আমি খুশি হতাম। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন ১১৪৫ জন নারী প্রতিদিন ধর্ষিত হয় (রিপোর্টেড এবং আন রিপোর্টেড মিলিয়ে )। এটাও আমার বিশ্বাস হয় না। যদিও পরিসংখ্যান তাই বলে। বাংলাদেশে প্রতিদিন ১৩ জন নারী ধর্ষিত হয় (রিপোর্টেড)। আমরা যদি ধরে নেই যে ৯০% ধর্ষণ রিপোর্ট হয় না তাহলে এই সংখ্যা প্রতিদিন দাড়ায় ১৩০ জন। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের ৯ ভাগের এক ভাগ (প্রায়)। কিন্তু বাংলাদেশে ৯০% ধর্ষণের ঘটনা রিপোর্ট হয় না এটাও সম্ভবত সত্যি না। হয়তো এটা ৬০% বা ৭০% হতে পারে। তাছাড়া বাংলাদেশের অন্তত ৫০% নারী নির্যাতন মামলা হয় মিথ্যা। যুক্তরাষ্ট্রে ২% থেকে ৫% মামলা মিথ্যা।
উন্নত বিশ্বের সেকেন্ড ওয়েভ ফেমিনিসটরা ১৯৭০ সালের দিকে ‘রেইপ কালচার’ নামের একটা টার্ম ব্যবহার করা শুরু করে । এই টার্মটা সম্পর্কে তাদের ব্যাখ্যা হোল যে ধর্ষণ ব্যাপকভাবে ঘটছে এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ধর্ষণকে নরমাল ভাবা হচ্ছে। রেইপ কালচার সমাজে ঘটে যাওয়া রেইপকে গুরুত্ব দিতে চায় না। রেইপ কালচার যা করে ;
১। ধর্ষিতার উপর দোষ চাপায়।
২। ধর্ষিতার আচরণ বা পোশাককে উগ্র বলে
৩। নারীকে পণ্য হিসাবে সমাজে উপস্থাপন করে
৪। ধর্ষণকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা বা বড় কোন অপরাধ হিসাবে না দেখা
৫। সমাজে ব্যাপক মাত্রায় ধর্ষণ হচ্ছে সেটা অস্বীকার করার প্রবণতা।
৬। যৌন নির্যাতনজনিত ক্ষতিকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা
পরবর্তীতে ‘স্লাট ওয়াক’ এবং ‘মি টু’ মুভমেন্ট এই রেইপ কালচার নিয়ে কথা বলেছে। সেকেন্ড ওয়েভ ফেমিনিসটরা ৭০ এর দশকে মানুষকে বোঝাতে চেয়েছে যে রেইপ অ্যামেরিকায় ব্যাপকভাবে সংঘটিত হয়। নারীদের মধ্যে এই ব্যাপারে জাগরণ সৃষ্টি হয় তখন। তখনকার সময়ের ফেমিনিসট লেখিকারা অনেক বই লেখে যৌন নির্যাতনের উপরে। তার মধ্যে বিখ্যাত বই হোল ‘রেইপঃ দা ফার্স্ট সোরস বুক ফর উইমেন’ অথবা ‘এগেইন্সট আওয়ার উইলঃ মেন, উইমেন এন্ড রেইপ’। এই বইগুলিতে বেশ কয়েকজন ধর্ষিতার সাক্ষাৎকার আছে। এই লেখিকারা বলতে চেয়েছেন যে মানুষ যা ধারণা করে তার চেয়ে বেশী ধর্ষণ ঘটছে ব্যাপকভাবে। ব্রাউন মিলার নামের একজন লেখিকা বলেছেন যে একাডেমীক মহল এবং সাধারণ পাবলিক ধর্ষণের ঘটনাকে অগ্রাহ্য করে থাকে।
কেমব্রিজ ডকুমেন্টারি ফিল্ম ‘রেইপ কালচার’ ১৯৭৫ সালে তৈরি হয়। এই ফিল্মে দেখানো হয়েছে কীভাবে ম্যাস মিডিয়া এবং পুপুলার কালচার টিকিয়ে রেখেছে ধর্ষণের মন মানসিকতাকে। অ্যামেরিকার রেইপ কালচারের উপর এই ছোট ভিডিওটা দেখতে পারেন। দেখা যায় যে অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট সহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি রেইপ করেছে। তাদের পক্ষে বলার লোকও অনেক সময় থাকে।
ফেমিনিসট এবং জেন্ডার কর্মীরা বলতে চায় যে ‘রেইপ কালচার’ হোল এমন একটা কালচার যেটা জেন্ডার ভায়োলেন্সকে উৎসাহিত করে। এই কালচার রেইপকে ‘মিথ’ বলতে চায় এবং সমাজে ঘটে যাওয়া রেইপকে ‘রাফ সেক্স’ বলে অথবা ধর্ষিতাকে ধর্ষণের জন্য দায়ী করে। এই কালচারকে উৎসাহিত করে পুলিশের উদাসীনতা, ধর্ষিতাকে দোষ দেয়ার প্রবণতা, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের না দাঁড়ানোর মনোভাব এবং ধর্ষিতার সামাজিক কালিমার ভয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা এবং সমাজের একটা অংশের নারী বিদ্বেষী মনোভাবের কারণে রেইপকে সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা দেয়া হয়ে থাকে।
ফেমিনিসটরা বলতে চায় যে সমাজের অনেকের ধারণা হোল শুধু খারাপ মেয়ে বা দুর্ব্যবহার করা নারীরাই ধর্ষণের শিকার হয় এবং মনে করা হয় যে ধর্ষণের কারণ ছিল বলেই ধর্ষিত হয়েছে। ‘জাস্ট ওয়ার্ল্ড হাইপোথিসিস’ নামে একটা টার্ম আছে। এটার অর্থ অনেকটা ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’ এই প্রবাদের মত। মানে মেয়েরা তাদের চলাফেরা, আচরণ আর পোশাকের কারণে ধর্ষিত হয়।
অ্যামেরিকায় ধর্ষণের দুই তৃতীয়াংশ ঘটে পরিচিত লোকের দ্বারা। লেখক রবিন ওয়ারশ এই ব্যাপারে একটা বই লিখেছেন যেটার নাম ‘আই নেভার কলড ইট রেইপ’। রেইপ হওয়ার পরে রিপোর্ট না করার প্রবণতার সাথে ‘রেইপ কালচারের’ একটা সম্পর্ক আছে বলে মনে করে ফেমিনিসটরা। ফেমিনিসটরা মনে করে পর্ণগ্রাফির কারণে ধর্ষণ বাড়ছে এবং পর্ণগ্রাফি নারীকে পণ্যে পরিনত করছে। রেইপ কালচারের কারণে পুলিশের কাছে বা আদালতে ধর্ষণের ঘটনা হাল্কা হয়ে যায় অনেক সময়। অ্যামেরিকার আইনে ধর্ষিতার ঘাড়ে বারডেন অব প্রুফ দেয়া হয়। ফলে ধর্ষণের ঘটনায় শাস্তি কম হয়। এই কারণে অনেক ধর্ষিতা রিপোর্ট করতে আগ্রহী হয় না।
অ্যামেরিকার সেনা বাহিনীতে কোন এক বছরে ৩১৫৮ টা যৌন নির্যাতনের ঘটনার রিপোর্ট হয়েছে। কিন্তু রিপোর্ট হয়নি আরও ১৯,০০০ ঘটনা। অর্থাৎ মাত্র ১৪% ঘটনা রিপোর্ট হয়। তার মধ্যে মাত্র ১০৪ জন শাস্তি পেয়েছে। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীতে নারী সদস্যদের সাথে এই ধরনের ঘটনা ঘটে বলে আমার মনে হয় না। ঘটলেও খুবই বিরল ঘটনা। দুই একটা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা আমি জানি যেটা উভয়ের সম্মতিতে হয়েছে। আমেরিকার সেনা বাহিনীর নারীদের যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধের কারণে মৃত্যুর সম্ভবনার চেয়ে সহকর্মীর দ্বারা ধর্ষিতা হওয়ার সম্ভবনা আরও বেশী। আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী আফগানিস্তানে প্রতি ৩ জন মার্কিন নারী সৈন্যের মধ্যে ১ জন ধর্ষিতা হয়েছে। অ্যামেরিকার আইন প্রনেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর যৌন নিপীড়ন নিয়ে চিন্তিত।
অ্যামেরিকার ২০% বা তার অধিক নারী কাম্পাসে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। গবেষণায় দেখা গেছে অন্যান্য পশ্চিমা দেশেও অনেকটা একই অবস্থা। ১৯৯৩ সালে কানাডার একটা রিপোর্ট অনুযায়ী ৪৫% ছাত্রী কাম্পাসে কোন না কোন ভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। ১৯৯১ সালের নিউজিল্যান্ডের একটা রিপোর্ট অনুযায়ী ২৫% ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বা ধর্ষিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ৫১% বলেছে তারা কোন না কোন ধরণের যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। ২০১১ সালের ইউকের একটা রিপোর্ট অনুযায়ী ২৫% ছাত্রী কোন না কোন ভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে আর ৭% ধর্ষণের শিকার হয়েছে বা ধর্ষিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
অধিকাংশ যৌন লাঞ্ছনার ঘটনা ছাত্রীরা রিপোর্ট করে না। এটার কারণ লজ্জা এবং বিব্রতকর অবস্থাকে ভয়। কাম্পাসের বাইরে রেইপের ঘটনা বেশী ঘটে। কাম্পাসের ভিতরে ধর্ষণের ক্ষেত্রে ৬০% ঘটনা ধর্ষিতার ডরমেটরি বা এপার্টমেন্টে ঘটে। ৮০% ক্ষেত্রে ধর্ষিতা ধর্ষককে আগে থাকতে চেনে।
কাম্পাসের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রায়ই আক্রমণকারী এবং ভিকটিম স্বীকার করে যে তারা মদ খাচ্ছিল। ২০০৭ সালের একটা জরীপে আছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিকটিম নিজের ইচ্ছায় এলকোহল খাওয়ার পরে যৌন লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯৮ সালের একটা রিপোর্ট অনুযায়ী ৪৭% ক্ষেত্রে আক্রমণকারী স্বীকার করেছে যে সে মদ খাচ্ছিল। গবেষণায় দেখা গেছে মাতাল অবস্থায় ছাত্র বা ছাত্রীরা এমন অনেক আচরণ করে ফেলে যেটা স্বাভাবিক অবস্থায় তাদের করার কথা না। গবেষণায় উঠে এসেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজগুলিতে বন্ধু মহলে বেশী বেশী মদপান করা, মৌজ মাস্তি করা আর ক্যাজুয়াল সেক্স করা সামাজিক নর্মে পরিনত হয়েছে। মাতাল হয়ে গেলে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সেটার সুযোগ নেয় ছেলেরা।
বয়ফ্রেন্ড বেশী মদখোর হলে সেই মেয়ের যৌন লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার ঝুকি প্রায় ৪ গুণ। মদ খেয়ে মাতাল হওয়ার কারণে অনেক ভিকটিম রিপোর্ট করতে চায় না। কারণ তারা জানে মাতালের কথা পুলিশ বিশ্বাস করবে না। সমাজ বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে নর্থ অ্যামেরিকায় ধর্ষণ প্রবণ বেশ কিছু কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেখানে ধর্ষণকে ম্যাসকিউলিনিটি প্রদর্শনের একটা উপায় হিসাবে দেখা হয় অথবা মেয়েদের শাস্তি দেয়া বা ভয় দেখানোর হাতিয়ার মনে করা হয়।
অ্যামেরিকার এই পরিসংখ্যানগুলি আমার বিশ্বাস হতে চায় না। আমি চাই এগুলি ভুল প্রমাণিত হউক। বাংলাদেশেও ধর্ষণ কম রিপোর্ট হয়। তারপরও সব ধর্ষণ হিসাবে নিলে বাংলাদেশের অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো বলা যায়। অন্তত তথ্য উপাত্ত তাই বলে। এই ব্লগে একমাত্র সোনাগাজী বলতে পারবে পরিসংখ্যান সত্যি কি না। কারণ অ্যামেরিকার তরুণী মেয়েদের সাথে ওনার কেমন যেন একটা মাখো মাখো সম্পর্কে আছে। তরুণী মেয়েরা তাদের সুখ দুঃখের কথা সোনাগাজি ছাড়া আর কাউকে বলে শান্তি পায় না। আর উনিও পারলে নিজের জীবনটা দিয়ে দেন এই ললনাদের জন্য।
সুত্র -
https://www.cdc.gov/violenceprevention/sexualviolence/riskprotectivefactors.html
https://en.wikipedia.org/wiki/Rape_in_the_United_States
https://en.wikipedia.org/wiki/Rape_culture
https://www.youtube.com/watch?v=ZmWBrN7QV6Y
https://en.wikipedia.org/wiki/Campus_sexual_assault
https://www.rainn.org/statistics/scope-problem
https://inside.southernct.edu/sexual-misconduct/facts
ছবি - 11thprincipleconsent.org
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০২৩ দুপুর ১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




