
“আমরা খাইলে মাপ আর আপনেরা খাইলে পাপ”
এই নীতিতে চলে সৌদি রাজতন্ত্র। সেখানকার প্রিন্সদের বিলাসিতা আর নারীর সঙ্গম প্রিয়তার খ্যাতি বিশ্ব জোরা। অভিযোগ আছে বিগত হজ্জ্বের সময় যে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে তার জন্য এক সৌদি প্রিন্স দায়ী। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ সেপ্টেম্বর হজ্জ চলাকালীন সময়ে পদদলনের ঠিক আগ মর্হুর্তে হজ্জ্বের অনুষ্ঠানে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করে ছিলেন এক সৌদি প্রিন্স। যার ফলে কমপক্ষে ৭১৭ জন হাজি নিহত ও ৮৬৩ জন হাজি আহত হন।লেবানন ভিত্তিক আরবি দৈনিক আদ-দিয়ার একটি রিপোর্টে প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের গাড়িবহরের আগমন দায়ী করা হয়েছে। পবিত্র হজ্জ্ব পালনেও তাদের গাড়ি বিলাসিতা দেখাতে হবে। এবার বুঝুন অবস্থা।

এবার আসা যাক তাদের নারী প্রীতির কথা; তারা বাংলাদেশ সহ অনুন্নত দেশ থেকে পানির দামে গৃহকর্মী নিয়োগ দেয়। পরে নিয়োগপাওয়া গৃহকর্মীদের সাথে যৌনদাসীর মত আচরণ করে। সেখান থেকে পালিয়ে আসার সৌভাগ্য খোদা সবাইকে দেন না। যারা আসেন তারা বিভিন্ন রকম হয়রানী শিকার হওয়ার পর আসেন। বিস্তারিত জানার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: Click This Link
এবার আসা যাক মূল টপিকে:
টুইটারে পর্দা ছাড়া ছবি পোস্ট করার দায় সৌদি আরবের এক তরুণীকে গ্রেফতার করেছে রাজধানী রিয়াদের পুলিশ।
কিন্তু সৌদি কৃর্তৃপক্ষ তরুণীটির নাম প্রকাশ করতে রাজি নয়। কারণ এতে তার খ্যাতি বাড়তে পাড়ে এবং তাকে অনুসরণ করে অনেকে মূল প্রথা ভাঙ্গার ট্রেনে সামিল হতে পারেন। তার আইকণ হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এই আশংঙ্কা অমূলক নয়। কারণ তাদের এক রাজকন্যা পর্দা ছেড়ে প্রকাশ্যে এসে মিডিয়াতে হইচই ফেলে দিয়েছেন।
তরুণীটির অপরাধ গত মাসে রাস্তায় রক্তের কেউ না এমন একজন পুরুষের সাথে প্রকাশ্যে গল্প করা এবং রাজধানী রিয়াদের একটি জনপ্রিয় ক্যাফের সামনে পর্দা ছাড়া ছবি তুলে তা টুইটারে পোস্ট করেছেন।
কর্তৃপক্ষ মেয়েটির নাম প্রকাশ না করলেও বিভিন্ন সূত্র থেকে ২০ বছর বয়সী মেয়েটির নাম জানা গেছে। তার নাম হলো মালাক আল-সেহরি।
টুইটারে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মালাক ফ্রোরাল ড্রেসের সঙ্গে কালো কোট ও রোদচশমা পরে দাড়িয়ে আছেন। আর এই ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র বিতর্কের মধ্যে পড়ে সে।
মালাক যে ধরনের কাজ করেছেন তাতে ওই দেশের আইন ভঙ্গ করা হয়েছে। কিন্তু আমার কথা হল এই আইন কি সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে? এর উত্তর অবশ্যই না!
কারণ, এর আগে-
রাজকুমারী আমিরা বিন তায়িলের গোঁড়ামির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ আলোচিত। সৌদি আরবের মহিলাদের পরিধেয় ঢিলেঢালা পোশাক ‘আবায়াসে’র বিরুদ্ধে প্রথম যে কয়েক জন নারী প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলেন, আমিরা তাদের অন্যতম।
কট্টর রক্ষনশীল বর্বর সৌদি সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবশ্য স্রেফ পোশাকের মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জ জানালেন সাহসি আমিরা।
মহিলাদের কালো বোরখা বিভৎস পোশাক ‘আবায়াসে’র বিরুদ্ধে প্রথম যে কয় জন সৌদি নারী প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলেন, আমিরা তাদের অন্যতম আলোচিত নারী, কারণ সে সৌদি রাজকুমারী ।

কোন সৌদি নারী একা চলাফেরা করার অধিকার নেই। ড্রাইভিং অনুমতি পায় না। সেদেশে্র নারীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিষিদ্ধ। সেখানে আমিরা পুরুষের লাল চোখকে অগ্রাহ্য করে সৌদি আরবের রাস্তায় তীব্র গতিতে গাড়ি চালিয়েও সেদেশের আইনকে আগ্রাহ্য করেছেন।
এতে রাজকণ্যা আমিরার একটা চুল ছিঁড়তে না পারলেও মালাক হয়েছেন গ্রেফতার।
রাজকণ্যা আমিরার তিঁলকে জুটছে ‘সাহসী’ তকমা হাতে পুরুস্কার।
আর মালাক এর তিলকে দু:শ্চিন্তার ভাঁজ আর হাতে হ্যান্ডক্যাপ।
সবশেষে আশায় রইলাম, মালাকের পক্ষে রাজকন্যা আমিরা দাঁড়ায় কিনা।

সূত্র: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



