somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গরীবের জাত কূল ও সাংস্কৃতিমনাদের কালো ছাগল!!

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমরা গরীব লোক। আমাদের মাঝে আর বড় লোকদের মাঝে কি কোন তফাত আছে? উত্তরে অনেকে বলবে অবশ্যই আছে। কিন্তু কেন? বড় লোক কি আমাদের জন্য কিছু করে না? করে..........

বড়লোকের দয়ায় আমাদের কাজের যোগান হচ্ছে,স্বাস্থ্যকর হোক অস্বাস্থ্যকর হোক অল্প কম যাহোক খেয়ে বেছে আছি, জীবনটা চলছে কোন রকম। জীবন আছে ঘর নেই, তাতে কি হয়েছে! বিনা চিকিতসায় কষ্ট ভোগ করছি তাতে কি হয়েছে, বেচে তো আছি, না হয় একটু বেশী কষ্ট করে। বড় লোক ত’ বেচে আছে, তারা যে বিশাল সুখে আছে এমনত নয়, তাদের পারিবারিক সমস্যা, রাজনৈতিক সমস্যা, ব্যক্তিগত দ্বন্দ বা শত্রুতা আরো কত যে তাদের সমস্যা তার অন্ত নেই। আমাদের ত’ শুধু মাত্র জীবন ধারণের মৌলিক সমস্যাগুলো বিদ্যামান। জীবন বাচানো ফরজ । বড়লোকের দয়ায় সে ফরজ আদায় হচ্ছে! তাহলে খোঁদা নিশ্চয় তাদের কে আমাদের আর্শিবাদ হিসেবে পাঠিয়েছেন! তাই আমরা গরীবেরা গরীব হয়েও দু:খ কষ্ট ভুলে বড়লোকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়। আমদের বড়লোকেরাও গর্ববোধ করেন কোটি কোটি টাকা বেতন দিয়ে গরীবদের বাচিয়ে রেখেছেন বলে? আমরা এখন চাকুরিজীবী, দাস নই। আমাদের জন্মাধিকার কি ? নাগরিক অধিকার কি ? রাজনৈতিক অধিকার কি ? ন্যায্য মজুরী কি ? ন্যুনতম মজুরী কি ? মানবাধিকার কি ? জাতিসংঘ কি ? তা আমাদের কোন কাজে আসে না। কষ্ট, অপমান, অর্ধাহার- অনাহার আর সকল সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া আমাদের নিয়তি, বড়লোকের দয়া আমাদের ভাগ্য। হাতের পাচ আংগুল যেমন সমান হয়না তেমনি গরীব বড়লোক কখনোও সমান হয়না। বড়লোক বড়লোকই থাকবে, গরীব গরীবই থাকবে।

দেশের সংবিধানে গরীবের ১টি ভোট = ১ ।
ধনীর ১টি ভোট = ১ ।

ভোটের গুরুত্ব বড়লোকদের কাছে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। অর্ধাহারী অনাহারী গরীবের ভোট যে কত তাৎপর্যপূর্ণ তা বড়লোকেরা জানেন বোঝেন। তাই সব বড়লোকের কামনা সুষ্ঠু ভোট। সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমেই বৈধতা পায় বড়লোক বড়লোকই থাকবে, গরীব গরীবই থাকবে। যেহেতু সব বড়লোকের কামনা সুষ্ঠু ভোট, সেই সুষ্ঠু ভোটের সিষ্টেম নিয়ে, কিভাবে কোন পদ্ধতিতে হবে তা নিয়ে বড়লোকের বড়লোকের ঝগড়া বিবাদে মারা যাচ্ছে গরীব, কষ্ট ভোগ করছে গরীব। তাতে বড় লোকের কিছু যায় আসে না, তাদের কার্য হাসিল হলেই হল। গদিতে বসতে পারলেই হল। বসে চেতনার ব্যবসার করা যাবে। এক দল করবে মুক্তিযু্দ্ধের, আরেকদল করবে ধর্মের, অন্যদল করবে জাতীয়বাদী চেতনার। তাতেও গরীবের আক্ষেপ নেই, শান্তনা এই যে, যে পরিমান মারা যাচ্ছে তার দ্বিগুন তিনগুন নতুন জন্ম হচ্ছে। দেশের সুধী সুশীল সমাজ, সকল রাজনৈতিক দল ,বড়লোক ব্যবসায়ীদের জোট, মানবধিকার জোট একতরফা নির্বাচনের সমালোচনা করছেন। আলেচনার বিষয় শুধু সুষ্টু ভোটেই সীমাবদ্ধ রাখছেঁন। সব সমস্যার সমাধান অবাধ নিরেপেক্ষ নির্বাচন। সুষ্ঠ ভোটে সকল গরীবের কোনই কল্যাণ হবেনা তা সুধী সুশীল সমাজের কেহ বলছেন না। সুধী সুশীল সমাজের কেহ বলছেন না গরীবের পক্ষের রাজনৈতিক দল কোনটি ? বি এন পি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি সরাসরি বড়লোকের পক্ষের রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ গরীব ঘেষা- বড়লোক বান্ধব দল, এ কথা নির্বাচনী ইশতেহার পড়লে তা অনুমেয় করা যায়। মুলত বামপন্থীরা গরীবের পক্ষের রাজনৈতিক দল বললেও তাদের মূল উদ্দেশ্য অন্য দলের চামচামি করা।

এক শ্রেণি অভিযোগ করে, ভারত আমাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতি আগ্রাসন চালাচ্ছে। ভারতের সাংস্কৃতিক যুদ্ধের প্রধান হাতিয়ার নাটক সিনেমায়, মিনিটে মিনিটে পুজা আর্চনা সংগে সংগে নায়িকা সেলিব্রেটিদের বুক আর পেটের কাপড় সরিয়ে দ্রুত তালে কোমর ঘুটার প্রসার ঘটাচ্ছে যাতে গরীবেরা ধর্ম সাম্প্রদায়িকতা আর নগ্নতাতে মজে থাকে ।

এই আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার ক্ষমতা কিন্তু তাদের নেই। তারা কোন কার্যকরী পদ বাতলাতে পারছেন না। দু’একটা বিক্ষিপ্ত কথা বলছেন যা পর্যান্ত নয়। আমাদের দেশে বামপঞ্থী এবং কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি তারা নিজেকে সাংস্কৃতির ধারক ও বাহক বলে পরিচয় দেয়। কিন্ত বাস্তবে তারা চলে উল্টোটা। তারা রবীন্দ্র কিংবা নজরুল স্বরণ/মৃত্যু/জন্ম দিবসে কপালে বড় বড় টিপ পড়ে, সুপার সপ থেকে দামি শাড়ি আর ব্লাউজ পড়ে সাস্কৃতিকমা সেজে শহীদ মিনার কিংবা সিম্পজিয়াম অথবা কোন সেমিনারে যায়। সেখানে গিয়ে আ………আ…….. করে দু’একটা রবীন্দ্ কিংবা নজরুল সংগীত গেয়ে মৌলবাদীদের চৌদ্ধ গৌষ্ঠী উদ্ধার করে। সব সমস্যার মূল মৌলবাদীরা, দেশে আর কোন সমস্যা নেই। সেগুলো আবার মিডিয়াতে হাইলাইট করে প্রচার হয়। ফলে তাদের নাম ধাম বাড়ে, সমাজে পরিচিতি পায়। নিজেকে অস্প্রাদায়িক হিসেবে জাহির করতে চায়। কিন্তু তাদের ঘরের সন্তানরা য়ূরোপ আম্রেরিকার প্যান্ট, কোর্ট, টাই পড়ে, তাদের মোবাইলে বেজে উঠে, ধুম্বা চলে…………………. অথবা আশিক বানায়…………। এব্যাপারে কোন সময় কেউ যদি জিঙ্গেস করে তাহলে বলে, “ওরা বড় হয়েছে, ওদের স্বাধীনতা আছে নিজের পছন্দের অপছন্দের”। তাহলে ওরা আপনার থেকে কি শিক্ষা পেল? যেখানে নিজ সন্তানই আপনার কৃত্রিম শিক্ষা গ্রহন করতে পারল সেখানে অন্যের ছেলেরা কিভাবে পারবে।

এ থেকে আমাদের বেড় হয়ে আসতে হবে। তা না হলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বড় ধরণের জটিলতার সম্মুখীন হবে। তারা বুঝতে পারবেনা কোনটা আমাদের সাংস্কৃতি, কোনটা আমাদের ধর্ম, কোনটা আমাদের মুক্তিযু্দ্ধের চেতনা আর কোনটি আমাদের জাতীয়তাবাদ।

আশা করি এদেশীয় সুশীল সমাজ না হউক তরুন প্রজন্মের কেউ না কেউ এগিয়ে আসবে আমাদের কুষ্টি, সাংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয়তাবাদ আর ধর্ম রক্ষা করতে। সেই আশায় রইলুম।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:১১
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×