somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবাইকে বর্ষার প্রথম দিনে কদম ফুলের শুভেচ্ছা।।

১৫ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




বাংলা পঞ্জিকার অনুশাসনে আজ ১ আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দের বর্ষার প্রথম দিন। প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের তাপদাহ ছিন্ন করে বর্ষার দিন উঁকি দিল। তৃষ্ণায় যাদের ছাতি ফাটিয়া যায় তারা বর্ষার আগমনে প্রাণে স্পন্দন অনুভব করা শুরু করে দিয়েছেন। বর্ষার আগমন প্রকৃতিতে যেন নব যৌবনের ছোঁয়া লেগেছে।

মহাকবি কালিদাস তার ‘মেঘদূত’ কাব্যে বর্ষার সৌন্দর্য-সখা যে মেঘ, সেই মেঘকে কবি লোভনীয় সম্ভোগের আভাস দিয়ে যক্ষের সহচর রূপে যক্ষপ্রেমিকার কাছে পাঠান। সেখানে মেঘ সঙ্গত কারণেই প্রেমের বার্তাবহ দূত রূপে চিহিৃত হয়।

তীব্র গরমের পর কয়েক দিন পর পর বৃষ্টি হচ্ছে। কদম এখন ফুল থেকে কলির গন্ডি ছাড়িয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ফুল হয়ে ফোটা শুরু করে দিয়েছে। কদমের শ্রুভ হৃদয় মানব মনে রাঙ্গিয়ে নেয়ার মত পরিবেশ শহরে কমই আছে। শুধু শহর নয় গ্রাম থেকেও হারিয়ে যাচ্ছে কদম ফুল এবং তার সাথে গাছ। আষাড়ে বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় পুষ্প-বৃক্ষে, পত্র পল্লবে নতুন প্রাণের স্পন্দন ধ্বণিত হয়। বর্ষার সতেজ বাতাসে জুঁই, কামিনী, বেলি, রজনীগন্ধা, দোলনচাঁপা আরো কত ফুলের সুবাস ছড়িয়ে প্রকৃতির মাঝে একটা নতুনত্বের সন্ধান দেয়। পদ্মপুকুর আকুল হয়ে থাকে বর্ষাকে পাওয়ার জন্য। বৃষ্টিতে ভিজে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরা আশি ও নব্বই দশকের ছেলেদের কাছে এখন নষ্টালিজম।

বর্ষায় কবিদের মন উদাস করে দেয়। অতীতে বর্ষা নিয়ে বিদ্রোহী কবি, বিশ্বকবি কিংবা মহা কবিরা মাতোয়ারা ছিলেন। এখন ফেসবুকের দুই লানের কবি থেকে শুরু করে সম-সাময়িক কবিরা লিখেছেন। বর্ষা মানেই সময়-অসময়ে ঝুপ ঝুপ বৃষ্টি, কর্দমাক্ত পথঘাট, খাল-বিলে থৈ থৈ পানি, নদীতে বয়ে চলা ছবির মতো পাল তোলা নৌকার সারি। শৈশবে বৃষ্টিতে ভিঁজে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরা। গ্রামের মাঠে বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলা। ঝড়-সর্দি এবং কাশি, অত:পর মায়ের বকুনি। আশি ও নব্বই দশকে বর্ষার সময় ছেলেপুলেরা লুডু, ছয় গিট্টা, বারো গিট্টা, বাঘ-ছাগল প্রভূতি খেলা খেলে সময় কাটাত। আর বড়রা কেউ কেউ মাঠে হাডুডু খেলত, বাকিরা তা দেখে বিনোদিত হত। পাড়ায় পাড়ায় চলত হাডুডু খেলার আয়োজন।

সময়ের সাথে বর্ষার অনুসঙ্গগুলো পরিবর্তন হতে চলেছে। এখনকার পোলাপাইন বর্ষা নিয়ে ফেবুতে দুই লাইনের স্টাটাস দেয়। ফ্যাশন হাউজগুলো বর্ষার উপযোগী বিশেষ মডেলের পোষাক বিপনন করে। ঘরে ঘরে চলে খিচুরি ভোজ। ছাতা আর রেইন কোর্ট ব্যবসায়ীদের মওসুম চলে। বর্ষার সময় পানি বাহিত এবং বায়ূ বাহিত বিভিন্ন রোগ জীবানু ছড়িয়ে পড়ে, এর বড় শিকার হয় শিশুরা। ফলে ডাক্তারী দোকান গুলোতে ভিড় পরে যায়। গরীবের চিন্তায় ভাঁজ পড়ে। নগরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গানের দল আয়োজন করে বর্ষাবরণের নানা অনুষ্ঠান। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও থাকে বিশেষ অনুষ্ঠান মালা। পর্যাটন নগরী কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায় বর্ষাকে বরণ করে ভিন্ন মাত্রায়। তারা সমুদ্রসৈকতে মাসব্যাপী বর্ষাবরণ উৎসবের আয়োজন করে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকেরা এ বর্ষাবরণ উৎসবে যোগ দেয়।

বর্ষা মানব হৃদয়ে বিচিত্র অনুভূতি খেলা করলেও হতদরিদ্র, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জীবনে মহাদুর্যোগ ও দুর্বিপাক বয়ে আনে। অনেকের ছন কিংবা টিনের চালা দিয়ে পানি ঝড়তে থাকে। এ যেন প্রকৃতির কান্না। একটানা অনেক দিন ভারি বর্ষণ চলতে থাকলে গরীবের মাথায় হাত পড়ে। কাজ কাম বন্ধ হওয়ার কারণে কেউ কেউ উপোষ থাকে। হালে বৃষ্টির সময় নগরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তখন ঢাকা শহরের রাজ পথ হয়ে উঠে বুড়িগঙ্গার শাখা নদী। পোলাপাইনে সেখানে সেল্ফি তোলে দুই মেয়র এবং সরকার কে নিয়ে ট্রুল করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখন বর্ষা আর গ্রীষ্মকে আলাদা করে চিহ্নিত করা দিনে দিনে দুরূহ হচ্ছে।খানিক ভ্যাপসা গরম আর খানিক সময় মাথার উপর ঠ্যাটা পড়া রোদ পড়ে। ফলে মানব কুলের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির জন্য চাতক পাখির ন্যায় চেয়ে থাকে প্রকৃতি।

সর্বশেষ, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা দিয়ে শেষ করলাম।

নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে।
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।
বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝর,
আউশের ক্ষেত জলে ভরভর,
কালি-মাখা মেঘে ও পারে আঁধার ঘনায়েছে দেখ্ চাহি রে।
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।।
………………………
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১০:৪৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শরীফ থেকে শরীফা ইস্যু কেন চাঙা হচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:১৭


দেশে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী ইস্যু নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকামী ইস্যুতে একের পর এক বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×