
জিয়া অরফেনাজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদাজিয়ার পাঁচ বছর জেল হয়েছে।
তিনি এখন জেলে। তার হাজার হাজার নেতাকর্মীও জেলে। দলের সর্বনিন্ম বিন্দু রেখা আর সর্বোচ্চ বিন্দু রেখা পরস্পর এক জায়গায় মিলিত হয়েছে। এই মিলিত হওয়ার ফলে নতুন পথ সৃষ্টি হতে পারে। এই পথ তাদের জন্য-
(১) টার্নিং পয়েন্ট হবে অথবা-
(২) তাদের কে আরো পিছনে নিয়ে যাবে।
তবে আপাতত এক নম্বর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এর অন্যতম কারণ হলো খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার কারণে তার নেতা কর্মীরা আরো উজ্জীবিত হবে। তারা নিজেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলীয় কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করবে। এবং তাদের নির্বচনকালীন সময়ের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ বেড়ে যাবে।
কোন নেতা-নেত্রী যদি ভোটের আগে জেলে যান তাহলে তাকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা বেশি হয়। ভুক্তভোগী দল যদি এই আলোচনা -সমালোচনাকে সঠিকভাবে হ্যান্ডেল করতে পারে তাহলে জনমত তাদের পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অতীত ইতিহাস তাই বলে।
খালেদা জিয়া জেলে যাওয়াতে বিশ্ব মিডিয়াতে হাইলাইটস পেয়েছেন। তার জেল জরিমানার খবর- যারা বিশ্ব গেম প্লান তৈরী করেন তাদের হাতে ইতিমধ্যে চলে গেছে। মনে হয় এ উপলক্ষে তারা গেম স্ক্রিপ্টে পরিবর্তন শুরু করে দিয়েছেন।
বাংলাদেশে বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোতে নতুন করে দৌড়ঝাপ শুরু হবে। ফলে রাজনৈতিক পট -পরিবর্তনে তারা হস্তক্ষেপ করতে চাইবে।
দেশে কোটি কোটি শিক্ষিত বেকার ছেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দিন দিন চাকুরী ক্ষেত্র একেবারে ছোট হয়ে যাচ্ছে। আর চাকুরী নিয়োগে ঘুষ, তদবির, মেধার অবমূল্যায়নের কারণে ইতিমধ্যে তরুণদের মাঝে হতাশা চলে এসেছে। তরুণদের এই মনস্তাত্ত্বিক হতাশা কে কাজে লাগানোর সুযোগ বিএনপি'র সামনে আছে।
দ্রব্যমূল্য অসহণীয় পর্যায়ে চলে গেছে। ফলে দেশের নিন্ম চাকুরীজীবী এবং খেটে খাওয়া মানুষরা কষ্টে আছে। সামনের নির্বাচনে বিএনপি এই কষ্টে খাওয়া মানুষদের কে কাছে টানার সুযোগ আছে।
পুলিশের সেবা নিয়ে দেশের মানুষ এম্নিতেই বিরুক্ত। তারা পুলিশ নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দে আছে এবং পুলিশ কে প্রতিপক্ষ ভাবতে শুরু করেছে! যা একটি বিরোধী দলের জন্য ভালো টনিক।
ধর্মীয় ভাবাবেগ কাজে লাগিয়ে ধর্মকামী মানুষ কে কাছে টানার সুযোগ বিএনপি'র হাতে রয়েছে।
'খালেদা জিয়ার মুক্তি'- সামনের নির্বাচনে বিএনপি'র এটাই হতে মূল স্লোগান।।
এবার দুই নম্বরে আসি-
এক্ষেত্রে সররকার বিএনপি কে নানা উপায়ে কোণঠাসা করতে পারে। এলক্ষে বিএনপির মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করে বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করবে। কিছু গ্রুপকে অপ্রদর্শিত সুযোগ-সুবিধা দিবে। বিণিময়ে তাদের নামে যে মামলা মোকাদ্দমা আছে তাতে শিথিলতা দেখাবে। কয়েক্টি গ্রুপকে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সুযোগ দিবে, কিছু আসন তাদের কে ছেড়ে দিতে হতে পারে।
কিছু কথা: খালেদা জিয়ার এখনো আইনি সুযোগ রয়েছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার। যদি তা কোনভাবে কররতে পারেন তাহলে তিনি সামনের নির্বাচনের আগে একবার জিতে যাবেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



