
সংক্ষিপ্ত রায়ে আপিল বিভাগের ২০১১ সালের ১০ মে প্রদত্ত (৪-৩) বিভক্ত সংক্ষিপ্ত আদেশে বলা হয়েছিল, ‘সংসদ চাইলে আরো দুটি নির্বাচন এ ব্যবস্থায় (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে) হতে পারে। তবে এতে বিচার বিভাগকে জড়িত করা যাবে না। বিদায়ী প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতিদের বাদ রেখে সংসদ এ সরকার পদ্ধতি সংস্কার করতে পারে।’
সংক্ষিপ্ত রায়কে ‘শিরোধার্য’ হিসেবে প্রচার চালিয়ে এবং পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের বহু আগেই ২০১১ সালের ৩০ জুন নবম সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশের মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বিলুপ্ত করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাদ দেওয়ার প্রায় ১৬ মাস পর, অর্থাৎ ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়। যখন এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায় তখন খায়রুল হক আর প্রধান বিচারপতি ছিলেন না। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রায়ে দেখা যায়—সংক্ষিপ্ত রায়ে থাকা আরো দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে পারার কথাটি নেই। এমনকি, সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও সংসদ বহাল থাকার কথাও যুক্ত হয় পূর্ণাঙ্গ রায়ে। সংক্ষিপ্ত রায়ের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায়ের এই ভয়াবহ অসংগতি নিয়ে তখনই জোরালো বিতর্ক উঠেছিল।
জালিয়াতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে রায় দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে অবসরে যাওয়ার পর আইন কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন খায়রুল হক।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০২৪ দুপুর ১২:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



