আমি, সোনিয়া, আম্মা আর বড়োপা থাকতাম আলকাসিম নামের একজায়গায়। আমাদের বাসা ছিল আম্মার অফিসের পাশে লাগোয়া। অফিস আর বাসা দুটোর সামনেই ছিলো বিশাল দুটো উঠান। উঠানস হ বিরাট একটা বাড়ি। উঠান ছিল রুক্ষ পাথর দিয়ে ঢাকা। সোনিয়া যখন হামা দিয়ে ওখানে হাঁটত ওর হাটু ছিলে যেত (সেই মেয়ে আজ এফসিপিএস প্রথম পর্ব পাশ করেছে)। রাতের বেলায় অফিস বন্ধ থাকলে মেইন গেটে কেউ আসলেও আর ভিতর থেকে শোনা যেত না। আব্বা আসলেন একদিন, অনেক ক্ষন বাইরে থেকে বেল বাজিয়েছেন, দরজা ইট দিয়ে বাড়ি দিয়েছেন, পরে এক সৌদি ঘুরে বাড়ির পিছনে এসে ডাকাডাকি করে আমাদের বলেছে (তখন মোবাইলের যুগ ছিলোনা)। আম্মা গেট খুলে দিলেন। আব্বা ঢুকে চারপাশ দেখলেন, আমাকে দেখলেন দুরে উঠানের ওপারে একা দাড়িয়ে আছি। পরে বললেন, ঐ মাঠের ঐপারে আবছা অন্ধকারে একা দাড়িয়ে আছে, দেখাও যায় না ভালো করে, ওর ভয় লাগেনা? আর কিছু না হোক, ভুতের ভয় তো পেতে পারে?
আমি বললাম, ভুত কি? আসলে বাচ্চাদের ভুতের ভয় দেখিয়ে যেমন নানা কিছু করা হয়, আমি ছোট বেলায় ওখানে চলে যাওয়ায় এসবের সাথে আর পরিচিত হয়নি। ভুত কি সেটা তো জানিনাহ, ভয় পাবো কিভাবে?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০