ওখানে এলাকা গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মরুভুমির ভিতর। একজায়গা থেকে আরেক এলাকায় যাওয়ার সময় মরুভুমির ভিতর দিয়ে যেতে হয়। মাঝে মাঝে পড়ে পাহাড়। ওরা রাস্তা একদম সোজা বানিয়েছে, পথে পাহাড় পড়লে পাহাড় কেটে রাস্তা।
গাড়িতে ওরা পানি রাখে মেশওয়াকে। একধরনের থলে (চামঢ়ার হতে পারে), পানি রাখার জন্য। ওটা রাখে বাইরে। মরুতে গাড়ীর বাইরে প্রচন্ড গরম, লু হাওয়া। কিন্তু পানি যখন খাই, দেখি ফ্রীজের পানির মতোন ঠান্ডা। পানি গাড়ির ভিতরে রাখলে আবার গরম হয়ে যায়।
ওরা লম্বা জার্নির সময় কখনও কখনও রাস্তার পাশে গাড়ি রেখে, মরুর বালুতে চাদর বিছিয়ে বসে যায়, চা বা গাহওয়া খায়। তখন অন্য কোনো গাড়ি পাশ দিয়ে গেলে ওরাও দাড়িয়ে যায়। সবাই একসাথে খাবার নিয়ে বসে, চেনা অচেনা কোনো ব্যাপার না। মেয়েরা একসাথে, ছেলেরা একসাথে বসে আড্ডা মারে গাড়ির ছায়ায় বসে। বাচ্চারা হয়তো ছুটো ছুটি করে। আবার যে যার গাড়িতে বসে যার যার গন্তব্যে চলে যায়।
কখনও সবাই মিলে কোনো পাহাড় ঘেরা ছায়া ঢাকা জায়গায় বসে।
মরুভুমির ভিতরে গাড়ি চালানোর সময় খুব জোরে চালায়। কেউ আসতে চালালে দেখা যায় পিছন দিয়ে সজোরে ঢাককা...।
মরুর রাস্তায় মাঝে মাঝে বালি দিয়ে ঢেকে যায়, সেটা খুবই বিপজ্জনক। প্রায়ই এটার জন্য এ্যাকসিডেন্ট হয়।
গরমের কারনে ওরা সাধারনত: রাতের বেলায় জার্নি করে। তবে সবাই প্রায় এসি গাড়ি চালায়। উপমহাদেশ থেকে যারা যায় ওরা খরচ বাচানোর জন্য হয়তো নন এসি গাড়ি চালায়।
আর গাড়ির মডেল চেনজ করার সখ তো আছেই।
আর যখন সৌদি গান চালায়, দফ বাজিয়ে গান, গাড়ির তালে তালে যেন চলে। দারুন..
গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎ দেখা যায় উট রাস্তা পার হচ্ছে । ওদের কোনো তাড়াহুরা নেই, দুলকি চালে গাড়ি দেখতে দেখতে রাস্তা পার হয়। চোখ গুলো খুব সুন্দর। বড় বড় পাপড়ি দিয়ে মায়া করে তাকিয়ে থাকে। রাতের বেলায় এই উটের দলের কারনেও ব হু এ্যাকসিডেন্ট হয়। রাজস্থানের মতোন ওদের সাজানো না হলেও, সৌখিন উটের মালিক কখনও কখনও ওদের সাজায়।
আমার বড় বোন গাড়ি চালানোর সময় পিছনের সিটে বসে 2সিটের মাঝ দিয়ে সব সময় তাকিয়ে থাকত, রাস্তায় বালু আছে কিনা, উট আছে কিনা, রং সাইডে চলে গেল কিনা আব্বা।
আর আমি? ঘুম, ঘুম থেকে উঠে দেখতাম গন্তব্যের শহরে পৌছে গেছি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




