বেশ কয়েকটা উৎসবে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু সব ভুলে জোগা খিচুরি হয়ে গেছে। যা মনে আছে, সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
একরাতে বাসা থেকে একটা খোলা পিকআপের পিছনে অনেক জন মিলে রওনা হলাম। পিছনে বেশির ভাগই ছোট ছেলে মেয়েরা বসেছিল।
বাসার উঠান মনে হয় 2টা ছিল। ভিতরের টা মেয়েদের। বালুর উঠানে ম্যাট্রিস পেতে সবাই বসলাম। ঢুকার পথে 2/3 জন মহিলা সবার বোরকা রেখে দিচ্ছিলো, যেভাবে কোথাও গেলে সবাই ওভার কোট খুলে রাখে। ওখানে মেয়েরা সাধারনত: ম্যাক্সি পড়ে। বিয়েতেও তাই পরে এসেছে সবাই। হয়তো একটু জমকালো আর সাথে গয়না।
সবাই গোল হয়ে বসলো, মাঝখানে একটু ফাকা জায়গা। এরপর একজন মহিলা ঢোলের মতোন কি যেন নিয়ে বসলো, আর কয়েকটা মেয়েকে বাকিরা খুব অনুরোধ করে দাড় করিয়ে দিল। মেয়েগুলোর চুল খুব কালো আর লম্বা (ওরা কালো লম্বা চুল খুব পছন্দ করে)। এরপর গানের তালে তালে নাচ শুরু হলো। এভাবে বলা হয়তো ঠিক হচ্ছেনা। হয়তো এরকম নাচই ওদের পছন্দ। মেয়েগুলো গানের তালে তালে চুল একবার একপাশে নিচ্ছে, আরেক বার আরেক পাশে। আমি বিরক্ত হয়ে আম্মাকে বললাম, এটা আবার কি নাচ। আম্মা বলল, এটাই ওদের ট্র্যাডিশন্যাল বেদুইন নাচ। তাই সই।
হঠাৎ কি যেন হলো, মেয়েগুলো হালকা চিৎকার করে শুয়ে পড়ল। সবাই মাথা ঘুরিয়ে একটা বিলডিংয়ের মাথায় তাকালো, দেখলাম কতগুলো কিশোর দাড়িয়ে আছে, মনে হয় নাচ দেখতে এসেছে। বয়স্ক কয়েকজন চলে গেলো ওদের তাড়ানোর জন্য।
একটা জিনিস আমি দেখেছি, সৌদি মেয়েরা বেশির ভাগ খুব সুন্দর হয়, স্লিম, হলুদাভ ফর্সা, লম্বা, কালো চোখ। ম্যাক্সি পড়ে যখন বাসায় হাটে পরির মতোন লাগে। বাইরে ওভার কোটের মতোন বোরকা চাপিয়ে নেয়।
রাতে সবাই একটা ঘরে খেতে বসলাম। ঘরের মাঝে বিশাল একটা প্লেট, সেখানে কাচ্চি বিরিয়ানির মতোন কেপচা আর দুম্বার মাংস স্তুপ করে রাখা আছে। সবাই ঐ এক প্লেটের চারপাশে গোল হয়ে বসে, যার যার মতোন খাওয়া শুরু করলাম। একজন এসে বলল, তোমাদের এক প্লেটে খাবার অভ্যাস নেই, আলাদা ছোট প্লেট দিব? আমি বললাম না, এভাবে খাওয়ার মজাই আলাদা। ওরা খাবার সময় খুব খেয়াল রাখে, যেটা আমি বেশি নিচ্ছি, সেটা বার বার এনে দেয়, মনে করে আমার পছন্দের।
খাবার পর সবাই পরিস্কারে হাত লাগালো, একসাথে সবাই মিলে সব গুছিয়ে তুলে রাখলো। তারপর আবার আড্ডা। এটা আমার খুব ভালো লেগেছে। তাহলে যে দাওয়াত দিয়েছে সেও আড্ডাতে যোগ দিতে পারে...। সব শেষে অনেক রাতে আবার গাড়িতে করে আমাদের বাসায় পৌছিয়ে দিল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




