কলেজ পর্যন্ত গার্লস কলেজে ছিলাম, তবে বাফা বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ছেলেদের সাথে কথা হতো, কারো প্রতি মুগ্ধ হয়ে কথা বলা বন্ধ হয়নি, আমি তো জানিই আমি একা।
এরপর ইউনিভার্সিটি জীবন শুরু হলো। আমার জীবনের সবচেয়ে মধুরতম দিন। তিন বান্ধবী সব সময় একসাথে থাকতাম। কোথাও কেউ একজনকে দেখলেই ধরে নিত বাকি 2টা আসে পাশেই আছে। ওরা খুবই ভাল ছিল, একটা বিষয় ছাড়া। ছেলেদের নিয়ে ঠাট্টা করার সময় মা বাপ রাখতো না।
যদি কোন ভাবে টের পেত যে, কোন ছেলে আমার প্রতি একটু আগ্রহ দেখাচ্ছে তো খবর আছে, ভয়াব হ সব ঠাট্টা শুরু হয়ে যেত।
ওদের হাত থেকে বাঁচার জন্য অন্য পথ ধরলাম, যে কোন ভাবে প্রমান করে দিতাম, যে ছেলেটা আসলে আমার বান্ধবীকে চায়। আমি অবাক হয়ে গেলাম, ব্যাপারটা মোটেও কঠিন না, ফলে যে বেশি হাসাহাসি করছে, সে চুপ হয়ে যেত।
চাকুরী জীবনেও ব্যাপারটা চালু রেখেছি। এবং আশ্চর্য ফলও পাচ্ছি। কেউ বুঝতেই পারে না, কাহিনী কোথায় ঘুরে গেল।
সবচেয়ে মজার হয় যখন কোন ছেলের সাথে এরকম করি (ছেলে সকল প্লিজ মাইন্ড খাইয়েন না).....
হয়তো, কোন ছেলে আমার প্রতি খুব সামন্য উৎসাহ দেখালো। বলল, কোথায় থাকেন, কয় ভাই বোন, তার নিজের কয় ভাই বোন, মা এখন তার জন্য পাত্র দেখছে ইত্যাদি ইত্যাদি । এতে খারাপ কিছুই নেই, চাকরীজীবি অবিবাহিত ছেলে, পাত্রি খুজতেই পারে।
এরপর হয়ত বলল, আপনি বিয়ের ব্যাপারে কি ভাবছেন.....
কয়েক দিনের মধ্যে হয়তো বলবে, আপনার কথা, কাজ সব আমার খুব ভালো লাগে, আমার সম্পর্কে আপনার কি ধারনা।
এরপর হয়তো বলেই ফেলবে, আপনাকে আমার খুব ভালো লাগে....
আমি আমার পুরান ফরমূলায় চলে যেতাম। বলতাম, আমি তো এখন বিয়ের কথা ভাবছি না, ও আচ্ছা আমার এক বান্ধবী আছে, ওর জন্য ওর বাবা পাত্র খুজছে, খুব সুন্দর। এইটুকু বললেই হয়,
কই যায়, আমার প্রতি ভালো লাগা, আর বিয়ের চিন্তা, খুব উৎসাহ নিয়ে বলে, আপনার বান্ধবী কি করে? হাইট কত? বাবা কি করে? দেখতে কেমন? ফোন নো আছে? ছবি আছে.... এর আর শেষ নেই।
ভাবছেন আমি ফাউল কথা বলি? নাহ, আমি সত্যি সত্যই আমার বান্ধবীদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেবার চেষ্টা করি। তবে ওদের মত নিয়ে। কাহিনি পুরো ঘুরে যায়।
আমি ভাবি, ভালবাসা এতো স হজে অন্য পথ ধরে?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



