পুরানো ডায়রী থেকে তুলে দিচ্ছি (আমি তখন ফার্স ইয়ার অনার্স ফাইনাল পরিক্ষা দিয়েছি):
ফাহমিদা খাওয়ার পর বলল, পৌনে তিনটায় ও জিমনেশিয়ামে যাবে। ওদের ১৭ তারিখ বার্ষিক কুচকাওয়াজ হবে, তাই প্রতিদিন প্যারেড করতে হয়।
পৌনে তিনটায় ফাহমিদাকে নিয়ে আমি আর সুমি রওনা হলাম। সুমিকে আমি অবশ্য জোর করে নিয়ে গেলাম। দুটো রিক্সা ভাড়া করা হলো। আমি আর সুমি একটাতে, আর ফাহমিদা আরেকটা মেয়ের সাথে শেয়ারে গেল। জিমনেশিয়ামে ঢোকার পর হাতের বা দিকে মাঠ আর এরপর সুইমিং পুল। আর ডান দিকে অফিস রুম। আমরা বা দিকে চলে গেলাম। দুপাশে গ্যালারী আর মাঝখানে ঢোকার রাস্তা। মাঠে দেখলাম ছেলে মেয়েরা প্যারেড করার জন্য দাড়িয়ে আছে। এদের কেউ ড্রেস পরেছে, কেউ পরেনি। কেউবা গ্যালারীতে দাড়িয়ে ড্রেস পড়ছে। ফাহমিদা আমাকে আর সুমিকে গ্যালারীতে বসিয়ে নিজে ওর দলের মেয়েদের সাথে গ্যালারীতে চলে গেল। একসময় ওরা লাইন করে মাঠের পাশে রাখা মিলিটারী ট্রাক হতে অস্ত্র (রাইফেল) নিল। আমার বাস ছিল ৩:৩০ এ আর ওদের প্যারেড প্র্যাকটিস শুরু হলো ৩:২০ এ। ঘড়ি ধরে ৫মিনিট দেখে বাসের জন্য প্রায় দৌড়ে জিমনেশিয়ামের মাঠ থেকে বের হলাম। গেটে আমাকে দেখে একটা মেয়ে চিৎকার করে উঠল। পাশের মেয়েটি দেখলাম ব্যাগ দিয়ে মুখ ঢাকলো। মাঝখানের জন আমাকে বলল, "কেমন আছো শাহানা?" ওর কথা শুনে চিনতে পারলাম, ওরা হলো যথাক্রমে তানিয়া, নীলা আর চৈতি/বকুল। ড্রেস পরা (সার্ট, প্যান্ট, ক্যাপ) ছিল বলে লজ্জায় মুখ ঢেকে ছিল। ওদের বললাম, প্যারেড শুরু হয়ে গিয়েছে, তারাতারি যাও। আমি হাটা থামালাম না। কারন বাসের সময় হয়ে গিয়েছিল। সুমির পায়ে ফোসকা, বেচারী এই নিয়েই আমার সাথে সাথে দৌড়াতে লাগল। দোয়েল চত্বরে পৌছে দেখলাম দুটো বাস দাড়িয়ে আছে। প্রথম টা অন্য রুটের, পরেরটা আমাদের রুটে যাবে, "শ্রাবন"। সুমিকে কার্জন হলের সিড়িতে বসতে বলে আমি বাসে উঠলাম। ওর বাস ৩:৪০ এ।
(শেষ)
আলোচিত ব্লগ
শেষের কবিতা

(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)
অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার সোভিয়েত শৈশব

বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?
রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।
তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন
চিকিৎসকের অবহেলা

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?
সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।