somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামু মেয়েটা কে?? তাহার সহিত তোমার কি সম্পর্ক ।। রস কদম-৩

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৫:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্ত্রী বরাবর জটিল কোন প্রশ্ন করিতে গেলে আগে বলিয়া লয় “দ্যাখো মনে কিছু লইও না” ।
আজ দুপুরে মধ্যাহ্ন ভোজনের পর একটু গড়াগড়ি দিতে শুরু করিলেই একইভাবে শুরু করিল , পুছিলাম গুরুত্বপূর্ণ কিছু? সে কহিল হ্যা, কিছুটা, তোমার কি বিরক্তি লাগিবে শুনিয়া ? শুরুর আগে মেজাজ বিগড়াইতে শুরু করিল , কহিলাম খালেদার দর্জি মতিয়ার ব্লাউজ কাহিনী , না শাড়ির খোজ খবর লইবে। স্ত্রী বিগড়াইয়া গেল ‘যাও তোমাকে কখনো কিছু বলা যায়না’ ।
আমি চক্ষু মুদিয়া কহিলাম বলিতে থাকো ।
তুমি চক্ষু বন্ধ করিয়া এক সময় নাক ডাকাইবে, শোন চক্ষু খুলিয়া আমার দিকে চাহিয়া বাৎচিত করো ।
কেন কোন রোমানটিক কিছু শোনাইবে অথবা মর্মান্তিক ? আমি তাকাইলাম ।
এবার সে তাহার হাতখানি আমার হাতের উপর রাখিয়া ক্রন্দন স্টার্ট করিল । ফুপাইয়া ফ্যাচ ফ্যাচ আওয়াজ করিয়া কান্দিতে থাকিলে আমি বড়ই মর্মাহত হইয়া পড়ি । গুরুতর কিছু ঘটিয়াছে ? তোমার অসুস্থ মামার কিছু হয় নাই তো ?
ওগো , এইসকল কিছুই হয়নাই ।
তাহার ক্রন্দন বাড়িতে থাকিল ও পাকড়াইয়া থাকা হাত খানির কম্পন ও চাপ যুগপৎ বাড়িয়া গেল ।
নাহ দুপুরের গড়াগড়ি আজ নস্যাৎ হইয়া গেল । ইহার পর হইতে মাদুর লইয়া ছাদে দারোয়ানের কক্ষের মেঝেতে দখিনা মলয়ে স্ত্রীলোকহীন এক দুটি ঘণ্টা পার করিতে হইবে।
আমি কহিলাম এখন বলিবে না নিদ্রা হইতে জাগ্রত হইলে বলিবে ?
ওগো , তুমি এই বৃদ্ধকালে এইসব কি শুরু করিয়াছ ! ঘরে আসিয়া কম্পিউটারে বসিয়া সময় দিতে থাকো কেন তাহা আমি বুঝিয়া ফেলিয়াছি ।
বলিতে থাকো ।
সামু মেয়েটি কে? তাহার সহিত কখন সাক্ষাত করিতে যাও!!!
আমার গড়া গড়ির সর্ব ইচ্ছা বাতিল হইয়া অষ্টম ইন্দ্রিয় দণ্ডায়মান হইয়া গেল । আমি স্থির নেত্রে তাহার দিকে তাকাইয়া পুছিলাম তুমি এইসকল লন্ডন মার্কা তথ্য কোথা হইতে জোগাড় করিয়াছ ?
ক্রন্দন অব্যাহত রাখিয়া সে কহিল তুমি মোবাইলে কাহার সহিত বলিতেছিলে সামুর এখন যৌবন চলিতেছে , আরও লিখিতে হইবে , সত্যি করিয়া বল তোমরা কি চিঠি আদান প্রদান করিয়া প্রেম করিতেছ ? ওগো এই বৃদ্ধ কালে তোমার কলঙ্ক মাথায় লইয়া আজিমপুর গোরস্থানে শয়ন করিতে হইবে , তাহার থেকে ঢের ভালো লাশটি আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামকে দিয়া দিও ।
আমার অভ্যন্তরে ইতোমধ্যেই মজা লস এর অনুভূতি আসিয়া গিয়াছে । আমি কহিলাম আঞ্জুমান এখন লাশ দাফনাইলে তাহা চুরি হইয়া যায় এবং মাংস খুলিয়া হাড্ডি বিক্রয় হয় ।
ক্রন্দন চলিতেছে সঙ্গে বিলাপ করিয়া বলিল আমি বিষ পানে আত্মহনন করিব ।
আমি তাহাকে সতর্ক করিয়া কহিলাম বারান্দায় যে পোকা মারা বিষ আছে তাহা কস্মিন কালেও খাইও না। তোমার তো আবার আলসার আছে , পাকস্থলি জ্বলিবে মাগার মৃত্যু হইবে না। বাজারে ভেজাল বিষে সয়লাব হইয়া গিয়াছে । পরশু দিন চিপা চাপায় ঔষধ মারিয়া ঘণ্টা বাদে দরজার পাশে তাকাইয়া দেখি তেলাপোকাটি আরামসে গ্যাংনাম নৃত্য করিতেছে ।
তুমি কথা ঘুরাইতেছ , আমি তোমায় হাড়ে হাড়ে চিনিয়াছি ।
আচ্ছা কি বিপদেই না ফেলিলে , আমি মনের আনন্দ লইতে ব্লগিং করি , লেখা ছাপাই আর তুমি ইহার মধ্যে মহব্বত ইশক ঢুকাইয়া এই বুড়ো বয়সে আমায় বাদর নাচ নাচাইতেছ ।
তুমি আর কম্পিউটারে বসিবে না ।
আচ্ছা তাহইলে তুমিও সনি তে সি আই ডি সঙ্গে আদালত ও কে ডিকে দেখিবে না।
আ হা হাঁ হাঁ কম্পিউটার আর টি ভি এক হইল ?
সি আই ডিতে খুন খারাবি , ধর্ষণ , ডাকাতি দেখিয়া তোমার মাথায় পোকা ঢুকিয়াছে এবং তাহা সন্দেহের পোকা । আর কে ডি ? ব্যাটা উকিল এজলাশ কে যাদু টোনা দিয়া পুরা ইন্ডিয়ান গাজাখুরি সিনেমা বানাইয়া ফেলিয়াছে । ইদানিং দেখিতেছি শালা দাড়ি কাটা বাদ দিয়াছে । সবাই রনবিরকে ফলো করিতেছে যাহাতে দীপিকার সাথে রোল পাওয়া যায় ।
বা বা বা দীপিকার খবরতো ভালোই আপডেট করিতেছ ।
না , মানে , মানে -------
ওই সকল মানে ফানে বুঝি না তুমি এখন এই সকল অনৈতিক সম্পর্ক রাখিবেনা, তোমাকে ইহা কাট করিতে হইবে । তোমাকে নামাজ আর কোরান পাঠে মনোযোগী হইতে হইবে ।
তুমি দেখিতেছি গৃহে মদিনা সনদ চালু করিতেছ । আমি যাই হিজাব আর বোরকা ক্রয় করিয়া লইয়া আসি । উহার ব্যাপারে হুজুরেরা এখনো কোন ফতোয়া দ্যায় নাই ।
আচ্ছা সত্যি করিয়া বলত ছুটির দিন সন্ধ্যায় টিপ টপ ক্লিন শেভ করিয়া সদ্য ক্রয় করা দামী আফটার শেভ মাখিয়া কোথায় যাও ?
ও , আবার সন্দেহ করিতেছ ! একটু লোশন তাও মাখিলে বিপদ , শেভ করা ছাড়িয়া লম্বা দাড়ি রাখিব ।
না না তোমায় আমি দাড়ি রাখিতে বলিতেছি না , ওগো বলনা কোথায় যাও তুমি ?

আমি ২৭ নম্বরে বসিয়া বন্ধুদের সহিত আড্ডা মারি । যাহাদের সহিত আড্ডা মারি তাহারা পুরুষ, সকলেই ।

কোন মেয়ে আসে না?

আসিলেও স্বামীর সহিত আসিয়া তাড়াতাড়ি শপিঙ্গে যায় ।

সামু কখন আসে?

মহা জ্বালায় ফেলিয়াছ । চলো তোমায় একটা জিনিস দেখাই । পি সি খোলাই ছিল ব্লগও খোলা । দুইজনে চেয়ার পাশাপাশি লইয়া বসিলাম এবং তাহাকে প্রথম পেজ দেখাইয়া , আমার পেজ দেখাইয়া কহিলাম এই হইতেছে সামু ।
ভ্রু কুচকাইয়া কহিল তুমি আমাকে যাহা গিলাইবে তাহাই আমি গিলিব? এইটা বাধ ভাঙ্গার আওয়াজ , সামু কোথায় ?
মাঝে মধ্যে বিপদে পড়িলে সকল বুদ্ধির নাশ হয় , এখন ঠিক তাই হইয়াছে।
স্ত্রী একটি ঝটকা মারিয়া চেয়ার হটাইয়া উঠিয়া গেল । আমি বেচারাম হেলান দিয়া আমার পেজের দিকে এক ভয়াবহ নিরাশ দৃষ্টিতে তাকাইয়া রহিলাম । ঘণ্টা পার হইয়া যায় আমিও লজ্জায় মরিয়া যাই ।
হটাত বুদ্ধির দেওতা মাথার উপর আসিয়া বয়ান শুরু করিল “তোকে কি খামোখা মলের ট্যাঙ্কির সহিত তুলনা করি”। “ ওরে গর্দভ তোর মাথায় কি গুগল আসিল না” । তাইতো , এতক্ষণ উল্লুকের মতো বসিয়া রহিয়াছি আর এই ছোট সমাধানে ঘণ্টা পার করিলাম , ধিক আমায় নিজেকে । বিছানায় গিয়া দেখি দেয়াল মুখী শুইয়া আমার স্ত্রী এক হতাশাময় ভবিষ্যৎ দেখিতেছে ।
আমার ডাকে না ফিরিয়াই কহিল কি বলিবে বল ।
চলো এইবার তোমাকে দেখাই ।
কি চাল চালিয়া এখন তাই দেখাইবে ।
টানিয়া তাহাকে উঠাইলাম , টানিতে টানিতে আবার চেয়ারে বসাইলাম । গুগল খুলিলাম এবং তাহাতে টাইপ করিলাম “সামু”। তৎক্ষণাৎ অনেক লিস্টি আসিয়া চোখের সামনে ভাসিয়া উঠিল । সে দেখিল বেশ শানি নজর দিয়া এবং বলিল ইহা ফটোশপ লাগিতেছে ।
আহ হা , কৈ যাই এখন ।
আমি কহিলাম দেখ , বলিয়া প্রথম বারে ক্লিক করিলে সে কিছু বিবরন দেখাইয়া দিলো যেমন সামু somewhereinblog বাংলাভাষায় সবচে বড় ব্লগ ------- ইত্যাদি। তাহার বিশ্বস্ততা প্রতিষ্ঠিত করিতে লিংকে ক্লিক করিলাম । এবার পুনরায় সেই পেজে আসিলাম । এবার আমি যাহা করিয়াছি তাহা সে পুনরায় করিল এবং এইবার তাহার হাতে শাড়ি লইয়া মুখে চাপা দিয়া হাসিতে লাগিল ।
হাসা খতম হইলে সে বলিল “আমার বিরাট শরম লাগিতেছে” ।
আমি জিতিবার চাপা হাসি হাসিতে হাসিতে তাহার দিকে তাকাইয়া রহিলাম। সে নত মুখে চেয়ার ছাড়িয়া যাইতে যাইতে বলিয়া গেল, বসিয়া দেখিতে থাক, আমি গরম চা লইয়া আসি।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০১৬ রাত ৮:৩০
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×