১৯৯৮ সালে বগুড়া গেছি অফিসের কাজে। সন্ধ্যা নাগাদ পৌঁছে হোটেল রুম না পেয়ে শেষমেশ রেল লাইনের কাছে একটি হোটেলে জায়গা পাওয়া গেল । খেয়ে রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম , ঘণ্টা চুক্তিতে । নতুন রাস্তার খোলামেলা আলো বিহীন ঠাণ্ডা বাতাস ভালো লাগল। ছাত্র জীবনে বগুড়া ইয়ুথ কয়্যারের সাথে সখ্যতা আর কজন ছাত্র বন্ধু ছিল। দীর্ঘ দিন দেশে না থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্নদের আন্দাজে খুজে বের করার চেষ্টা । পরদিন আমার কাজ শেষ করে হোটেলের কাছেই কাল রাতে দেখা কিছু অদ্ভুত দৃশ্যের পুরোটা দেখার জন্য দাড়িয়ে গেলাম দোকান গুলোর মাঝে । একটি ঢেউ টিনের মাথায় রাখা সদ্য ভাজা লাচ্ছা থেকে গড়িয়ে পড়ছে তেল এমাথার একটি বড় টিনের পাত্রে । ধোয়ায় ঢেকে আছে দোকান । মাটিতে ফ্লোরের উপর লাচ্ছার উপকরন দুজন লোক পা দিয়ে নেচে নেচে মাড়িয়ে দিচ্ছে । ঢেউ টিনের পিছনেই গরম তেলে ভাজছে লাচ্ছা যা হাতে ঘোরানো একটি মেশিনে বের হচ্ছে সেমাই এর আকারে । নাহ, মনটা বিষিয়ে উঠল বিশেষ করে পায়ে মাড়িয়ে নোংরা ফ্লোরে আর পায়ের দৃশ্য দেখলে ইহ জীবনে লাচ্ছা খাওয়ার শখ মিটে যাবে । পায়ের চামড়ায় পাঁচড়া , ঘা আর তলা ফাটা পায়ে কালো ময়লাতো নরমাল ব্যাপার । দোকানি বুঝল আমি গিলছি এ দৃশ্য । সে আমায় আমার কাজে চলে যেতে বলল । রাতে ফোনে স্ত্রীকে জানালাম । সে বলল দু পিস লাচ্ছা আছে ঘরে , ফেলে দেবো এখুনি । সেই থেকে আমরা লাচ্ছা খাইনা এবং কোন বাড়িতে খেতে দিলে গ্রহন করিনা । এখন আধুনিক প্রযুক্তিতে বানানো হয় বটে কিন্তু পাম স্টিয়ারিন আর প্রাণী চর্বি মেশানো আরেকটি বিপজ্জনক বিষয় ।গত বছর তিন মাস ছিলাম বগুড়ার কাছে । বগুড়ার অসাধারন উন্নতি হয়েছে । ওই দোকান নেই আর রাস্তাটিও বদলে গেছে । বি ডি নিউজ পড়ে বোঝা যাচ্ছে ওগুলো আশপাশের গ্রামে সরে গেছে ।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর তোলা ছবি ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৫:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




