আমার পূর্বপুরুষেরা বিতাড়িত
তাদের সাজানো গোছানো নিকানো
উঠোন থেকে সাড়ে তিন হাজার বছর আগে
মিশরীয় রাজাদের ক্রোধের শিকার হয়ে,
যারা ঈশ্বরপুত্র পরিচয়ে
বসেছিল স্বর্ণখচিত নন্দনীয় সিংহাসনে।
পৃথিবীর আদিতম সভ্যতার ধারক
বাহকেরা মুহূর্তেই হয়েছিল নির্বাসিত।
তারপর এক দীর্ঘ পথ পরিক্রমা
পৃথিবীর সুবিশাল প্রান্তরে
পোক্ত কারিগরী কাঠামো আর
অর্থ বানানোর সর্বোত্তম
মস্তিষ্কের ব্যাবহারে ছড়িয়ে পড়া
মুসার কওমেরা আবার গড়েছিল
আপন ঘর যত্র তত্র, নয় আপন ভুমি।
আমরা নিন্দিত নই কোন অপকর্মে
আমরা সফল অর্থের সঞ্চালনে
সফল বিজ্ঞান আর কারিগরি কুশলে
ওই কুশলতা আর দ্রুত অর্থাগম
সাজিয়েছে শত্রুর পশরা প্রতিপদে
আমরা লুণ্ঠিত কতশতবার
গৃহহীন প্রায় প্রতি যুগে যুগে
নেই নেই নেই আমাদের কোন ভুমি
ভুমিহীন দেশহীন বিচ্ছিন্নতা করেছে
আমাদের শতগুন বলীয়ান হৃদয়ে
রক্তধারায় বয়ে চলে বিতাড়নের
ইতিহাস, মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে
অসহনীয় যন্ত্রনার দগদগে ঘায়ে
অপরিমেয় লুণ্ঠনের কথকতা।
ভূমধ্যসাগরীয় উপকুলে মেলেনি কোথাও
একটুকরো জমিন বসবাসের তরে।
আমরা হারালাম আমাদের ঘর
যন্ত্রপাতি চাষাবাদের জমি আর
ইয়েরুসালেমের সোনায় মোড়ানো
উপসনালয় গৃহ নব নব দুত
আর অনুসারীদের কাছে।
আমরা উত্তরমুখী গেলাম,হলাম
অভিবাসী, আশ্রয় পেলাম
হেথায় হোথায়, দয়ায়, করুণায়
বিনিময়ে দিলাম নব নব গড়নে
অপূর্ব কারুময় মৃন্ময় পাত্র।
পাত্রখানি বড় অমুল্য কর্মদক্ষতায়
শুধু দেইনি কৌশল মুসার নির্দেশে।
কিয়ামত নেমে এসেছিল গতশতকের মধ্যভাগে
হাজার হাজার নারী পুরুষ শিশু
পড়েছিল ঢলে গ্যাস চেম্বারে
পৃথিবী থেকে আমাদের,শুধু আমাদের
নির্মূলের বাসনার ভেলায় ভাসে কারা?
নিধনযজ্ঞের পর যারা বেচেছিলাম
আবারো একত্রিত হলাম তারা
একখানি নিষ্কণ্টক স্বাধীন ভূখণ্ডের খোজে।
কৌশলী আমরা পেয়ে গেলাম আমাদেরই
হাজারো বছরের ছেড়ে আসা মরুপ্রান্তর
আবারো সবুজে সবুজে ফেললাম ছেয়ে
হারানো আদি পিতার তচনছ করা উঠোন।
এবার আমরা আঘাত নেবার বদলে
আঘাত ফেরাবার কৌশল নিলাম
আমরা পৃথিবীতে আবারো নাম কুড়ালাম
আমরাও বলীয়ান অর্থে, সম্পদে ও অস্ত্রে
যার অভাবে দোর থেকে দোরে ঘুরেছি
হয়েছি লুণ্ঠনের শিকার,নির্মম হত্যার
দুঃস্বপ্ন তাড়িয়ে বেড়ায় আমাদের নিয়ত
আমরা আবারো শরীক আদি উপাসনালয়ে
সিজদায় মগন সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




