somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শাহ আজিজ
চারুশিল্পী , লেখক

কক্সবাজার বিত্তান্ত

১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ৮:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার মেয়ে বলল ল্যান্ডিং ঠিক হল না । আমিও বললাম সত্যি ল্যান্ডিং ভাল হয়নি । আমার জীবনে সিঙ্গাপুরএয়ারলাইন্সের মত স্মুথ ল্যান্ডিং আর পাইনি । আমার ভাগ্নি মানে আমার শালীর মেয়ে প্রমা এসেছে আমাদের রিসিভ করতে । ও গেল ৫ বছর হয় কক্সবাজারে জব করছে । হোটেলের সামনে নেমেই দেখি সাগর রীতিমত গর্জন করছে , জোয়ার চলছে । কিন্তু একি ? এতোগুলো মরা তিমি পাড়ে শুয়ে আছে !! আমার পায়ের কাছে একটি ৪০ ফিট লম্বা । গন্ধ টন্ধ নেই । প্রমা বলল খালু চশমা মোছ , ওগুলো জিও লাইট ফ্যাব্রিকে বালু ঢুকিয়ে শক্ত করা হয়েছে ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে । রুমে গিয়ে বারান্দায় দাড়িয়ে আশ্চর্য এক দৃশ্য দেখছি । ঢেউ এর পর ঢেউ আছড়ে পড়ছে সৈকতে । ফেনায়িত ঢেউ আমার ভেতরে ঢেউ আর নর্তন তুলল , জামাই জিহান আমার পাশে দাড়িয়ে আনন্দে উছলে পড়ছে । হোটেল লোকেশন খুবই ভাল । সমুদ্র পাড়ে , নির্জন , নিরাপদ । হোটেল এক্সোটিকা সাম্পান ।
দুপুরে ঝাউতলা রেস্টুরেন্টে খেলাম । ঢাকা থেকে প্রতিজ্ঞা করেছি মাংস নয় মাছ হবে আমাদের মেইন কোর্স । বিকালের ভাটাতে হেটে হেটে সৈকতে ঘুরে ঘুরে কাটালাম । রাত ১১ টায় জোয়ারের অতিরিক্ত গর্জন কেন জানি খুব বেশি মনে হল । আমি শিহরিত , সাথে জিহান । সমুদ্র পাড়ে ৬ তালা থেকে ঢেউয়ের খেলা দেখায় একটা অদ্ভুত বোধ কাজ করে । ঢেউয়ের কনসার্ট অসাধারন । যেমন রাগ সমুন্দর বা রাগ গর্জন ।
কত গজরালে তুমি হও সমুদ্র
নিথর বহমান আমি হই নদী !!
আমি দুহাত তুলে কনসার্টে লিড দিতে থাকলাম ।

আমরা টেকনাফ যাব । মেরিন ড্রাইভ হোটেলের কাছ থেকেই শুরু হয়েছে । ব্যাটারি চালিত স্কুটার একদিকে উচু মাটির পাহাড় আর এক দিকে সমুদ্র পার হয়ে সামনে এগুচ্ছে । চিকন সুপারি গাছ , এতো এতো গাছ , বিস্মিত হলাম । মেরিন ড্রাইভের গাছপালা একটা অদ্ভুত শীতল হাওয়া বিতরন করছিল । খাড়া মাটির পাহাড় বিপজ্জনক যদিও এর নিচে কোন মানুষ বাস করে না । ঝাউ গাছের পরিমান বেশি মনে হল । সামনে চেক পোস্ট , একজন বি জি বি দাড়িয়ে । এটা সেই জায়গা যেখানে মেজর সিনহাকে হত্যা করা হয়েছিল । চালক সামনের স্কুটার চলে গেলে দাড়িয়ে থাকা গার্ডের পাশে দাঁড়ালো । গার্ড বলল আবারো ঘুরে পিছনে গিয়ে দাড়াও । আমরা ঘুরে পিছনে গেলাম বটে কিন্তু লাইনে দাঁড়ালাম না । প্রমা চালককে বলল চলো ফেরত যাই । আমি হতভম্ব । আমরা কক্সবাজার মুখী হলাম । ব্যাপারটা কি ? গার্ড এই স্কুটারকে ইশারা করার আগেই চালক তার কাছে কেন গেছে । আমাদের শুদ্ধ শাস্তি দিল । মনটা ভেঙ্গে গেল । আমাদের আগে পিছনে কোন যান ছিল না । বি জি বির মনে হয়েছে তাই আমার মত সিনিয়র নাগরিককে শাস্তি দিল , লজ্জা , ধিক । আমরা এগুচ্ছি আর পুরো স্কুটারে সবাই হো হো করে হাসছে । বিজিবি গার্ড আমাদের স্কুটারের দিকে নিস্পলক তাকিয়ে যদিও তিনটি গাড়ি লাইনে দাড়িয়ে গেছে । সে হয়ত ভাবছে কত্ত সাহস এই ব্লাডি সিভিলিয়ানদের । আমার আদেশ না মেনে ফেরত যাচ্ছে !!
ফেরার পথে অনেক সাম্পান শুকনো ডাঙ্গায় দাড়িয়ে , নেমে ছবি সেশন । এখানে একটা খাল ঢুকে গেছে ভেতরে তার পাশেই কমলা রঙের শ্বাসমুল সহ কেওড়া গাছ । সুন্দরবনের এই গাছ কেউ এনে লাগিয়েছে । বেশ তরতর করে বেড়েছে । হরিনের খাদ্য কেওড়া পাতা । এরা জঙ্গলের মত বাড়তে থাকে । হয়ত ভবিষ্যতে হরিন এনে ছাড়বে এখানে । সামনের অংশে কালো রঙের কোরাল , ফটো সেশন আবার ।
হিমছড়ি এসে প্রমা সিদ্ধান্ত নিল দুপুরে এখানেই খাবো । সামনেই বীচ , পাশের একটি কাত হয়ে থাকা দালান দেখিয়ে প্রমা বলল এই দালানে প্রথম বাস করেছি প্রথম কক্সবাজারে যখন আসি । বিশাল ঝড়ে দালান কাত হতে গেলে আমি কক্সবাজার গিয়ে থাকা শুরু করি । হিমছড়ি ঝর্না বন্ধ সেই লক ডাউন এর সময় থেকে । ছুরি মাছের অসাধারন ভর্তা খেলাম । সবাই প্রশংসা করল । লইটটা মাছের ফ্রাই বেস্ট সি ফুড কাফেতে । আবারো ফেরত যাওয়া । আমরা বাকি সময় বীচে , হোটেলের বারান্দায় কাটিয়েছি । শহরে ভিতর প্রাসাদ প্যারাডাইস আর শালিক খুব ভাল মাছের গ্রিল করে , সুস্বাদু । অতিরিক্ত ভিড়ের কারনে আমরা সুগন্ধা , কলাতলী বীচ এড়িয়ে গেছি । আমাদের হোটেলের বীচ চমৎকার । আসন্ন নভেম্বর থেকে টুরিস্ট সিজন চালু হবে বিধায় আমরা আগেভাগে ঘুরে এলাম । সমুদ্র মনকে বিশালতা দেয় , শুদ্ধ হাওয়া শরীরকে তাজা করে তোলে ।
ছাত্র ছাত্রীদের জন্য সরকার বিস্তীর্ণ মেরিন ড্রাইভে সস্তা ডরমিটরি করতে পারে । এদের অনেকেই বীচ চেয়ারে সস্তায় রাতে ঘুমায় । যা সবসময় নিরাপদ নয় । একটা টুরিস্ট জোন হিসাবে কক্সবাজার গড়ে ওঠেনি , টাকা লুট করার জোন হিসাবে গড়ে উঠেছে ।
































সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ৯:৪১
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যদি বিখ্যাত মুভি গুলোর নাম বাংলাতে হত, তাহলে কেমন হত :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৯:৩৩

মফস্বল শহরে যারা বড় হয়েছেন তাদের স্থায়ীয় সিনেমা হলের পোস্টারের দিকে চোখ পড়ার কথা । আমাদের এলাকায় দুইটা সিনেমা হল আছে । একটা সম্ভবত এখন বন্ধ হয়ে গেছে । সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সন্তানের স্বার্থপরতার বলি বেগম জিয়া!!!!

লিখেছেন মাহফুজ, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৩:৩০




লেখাটা কে কিভাবে নেবেন আমি জানিনা তবে আমার লেখার উদ্দেশ্য মানবিক। আমি লিখছি আমার পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে। আজ পর্যন্ত লেখালেখি করে অনেক আজেবাজে ট্যাগ পেয়েছি তবে এখন পর্যন্ত কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন ও সমুদ্র ..........

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২৭

জীবন ও সমুদ্র ..........


‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি
সাগরের ঢেউয়ে চেপে
নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছো,
আমি শুনেছি সেদিন তুমি
নোনা বালি তীর ধরে
বহুদূর বহুদূর হেঁটে এসেছো।’
মৌসুমী ভৌমিকের এ গান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুয়াডাঙ্গা তো ঢাকার ভেতরে। গ্রাম দেশের শিক্ষিত সমাজ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২৮



বউ বাসায় নাই। আমার সাথে অভিমান করে বাপের বাড়িতে গেছে। তাই আমার মন খারাপ। কোন কাজে মন বসে না। নিজেকে বড় একা একা লাগছে। আমার যে তার জন্য মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিষিদ্ধ অপরাধ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:২৬



মিনারা বেগমের মনে সন্দেহ ঢুকছে। তার স্বামী নাকি ভাই কে হতে পারে অপরাধী। এত চোখে চোখে রেখেও কিভাবে এরকম ঘটনা ঘটে গেল সেটাই বুঝতে পারছেনা মিনারা বেগম।

রমিলা এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×