somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। টয়লেট পেপার

২৬ শে আগস্ট, ২০২৩ সকাল ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




মানতেই হবে, মানবসভ্যতায় টয়লেট পেপার অনন্য এক সংযোজন। কিন্তু এটি আবিষ্কারে আগে মানুষ প্রকৃতিক ক্রিয়াকর্মের পর কী ব্যবহার করত? পানি বা বরফ তো ছিলই, তালিকায় আছে আরও অনেক কিছু। পশুর লোম, গাছের পাতা, ভুট্টার শাঁস, ঘাস, খড়কুটা, নারকেলের খোসা এমনকি কাঠি বা লাঠিও ব্যবহার করত মানুষ। টয়লেট পেপারের ইতিহাস ঠিক কতটা পুরোনো, তা অবশ্য বিস্তর আলাপের ব্যাপার। ৫৮৯ খ্রিষ্টাব্দে এক চৈনিক মনীষীর লেখায় টয়লেট পেপারের উল্লেখ পাওয়া যায়। ইতিহাসে দেখা যায়, ১৪০০ শতকের দিকে চীনে ব্যাপক হারে টয়লেট পেপার উৎপাদন শুরু হয়। ১৮৫৭ সালে আমেরিকান উদ্ভাবক জোসেফ গ্যাটি প্রথম বাণিজ্যিকভাবে টয়লেট পেপার বাজারজাত করেন। এরপর নানা পথ পেরিয়ে ১৯৩৫ সালে বাজারে আসে মসৃণ ও নরম টয়লেট পেপার। এর আগে টয়লেট পেপারে নানা সমস্যা ছিল। পানি শোষণক্ষমতা ছিল খুবই কম এবং বেশ শক্তও ছিল। চীন দেশে পদার্পণের পর সমাজতান্ত্রিক হওয়ার ধারনা বেশ জেকে বসলো । দোকানে টিস্যু দু রকমের পাওয়া যায় একটি নরম রোল আরেকটি ব্রাউন শক্ত । চীনারা ঐ শক্ত সস্তাটা ব্যাবহার করে । আমিও সমাজতান্ত্রিক হওয়ার তাড়নার তা ব্যাবহার করে গুহ্যদ্বারে তীব্র জ্বালাপোড়া ও রক্তের আভাস পেলাম । শেষে বিয়ার খাওয়া বোতলে পানি দিয়ে ধুয়ে যন্ত্রনা লাঘব করলাম । মাথায় এলো চীনাদের পশ্চাৎদেশ শক্ত বলেই তারা ক্যাপিটালিসট দের মার খেয়েও ঠায় দাড়িয়ে থাকে , পরাজিত হয়না ।

হালে আমরা হয়তো টয়লেট পেপার ছাড়া প্রকৃতিক ক্রিয়াকর্মের কথা ভাবতেই পারি না। আমি শুধু নাক ঝাড়ি টয়লেট পেপার দিয়ে । কিন্তু এখনো বিশ্বজুড়ে ঠিক কী পরিমাণ মানুষ টয়লেট পেপার ব্যবহার করে না—তা কি আন্দাজ করতে পারেন? টয়লেট পেপার হিস্ট্রি ডটকম জানাচ্ছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৭০-৭৫ শতাংশ মানুষই টয়লেট পেপার ব্যবহার করে না। তবে টয়লেটে ব্যবহার না করলেও প্রচুর মানুষ হাত-মুখ মোছা থেকে খাবারের টেবিল, থালা-বাসন, চশমার কাচ, নাক পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতায় ব্যবহার করে। এর প্রয়োজনীয়তা আছে বটে, তবে এর জন্য যে কী পরিমাণ বৃক্ষনিধনের দরকার হয়, তা কিন্তু ভাবতেও পারবেন না। ছোট্ট একটি তথ্য দিলেই ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। সূত্র বলছে, একজন মানুষ সারা জীবনে যে পরিমাণ টয়লেট পেপার ব্যবহার করে, তা উৎপাদন করতে ৩৮৪টি গাছের দরকার হয়।

আজ ২৬ আগস্ট, টয়লেট পেপার দিবস ।


প্রথম আলো
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০২৩ সকাল ১১:৩৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×