somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

।। শাহ সাহেবের ডায়রী .।। উষ্ণায়নে লাগাম পরাতে না পারলরবর্তী হিমযুগ! সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরাগ! সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




উষ্ণায়ন এবং তুষারযুগ— আপাত ভাবে দু’টি বিষয়কে বিপরীতধর্মী বলে মনে হতেই পারে। তবে আসলে তা নয়। বরং, দু’টি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে ভীষণ ভাবে জড়িত। এমনকি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা প্রভাবিত করতে পারে তুষারযুগকেও। এগিয়ে আনতে পারে পরবর্তী তুষারযুগ। সাম্প্রতিক গবেষণায় এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

উষ্ণায়ন বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রমশ ঘেঁটে যাচ্ছে পৃথিবীর কার্বন ডাই অক্সাইডের স্বাভাবিক চক্র। এবং তার বিরূপ প্রভাব পড়ছে সমুদ্রের তলার বাস্তুতন্ত্রে। এমনটা চলতে থাকলে পৃথিবী ক্রমশ ঠান্ডা হয়ে যাবে। উষ্ণায়নকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরবর্তী হিমযুগ এগিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

পৃথিবীর জলবায়ু কেমন থাকবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে পাথরের ক্ষয়ের উপর। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের কাছে এ তত্ত্ব অনেক আগে থেকেই স্বীকৃত। তবে গত কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, জলবায়ুর উপরে শিলাক্ষয়জনিত প্রভাবের প্রক্রিয়াটি ধীর এবং নির্ভরযোগ্য প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এটিকে এমন একটি প্রক্রিয়া হিসাবে দেখা হত, যা পৃথিবীর গড় তাপমাত্রায় খুব বেশি হেরফের হওয়া আটকায়। কিন্তু এই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছেন আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। তাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন, অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পৃথিবীকে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি শীতল করে তুলতে পারে এই প্রক্রিয়া। সম্প্রতি ‘সায়েন্স’ জার্নালে ওই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

পাথরের ক্ষয় কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে জলবায়ু? এটি আসলে একটি চক্রাকার প্রক্রিয়া। পাথরের ক্ষয়কে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বলা চলে। কী ভাবে চলে এই প্রক্রিয়া? বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইড সহজেই জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। পরে সেই কার্বন ডাই অক্সাইড বৃষ্টির সঙ্গে ভূপৃষ্ঠে নামে আসে। এই বৃষ্টির জল যখন কোনও পাথরের উপরে, বিশেষ করে গ্রানাইটের মতো সিলিকেট শিলার উপরে পড়ে— তা এক রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায় এবং পাথর ক্ষয়ে যেতে থাকে।

তার পরে ওই ক্ষয়ে যাওয়া পাথর গিয়ে মেশে সমুদ্রে। ওই পাথরের সঙ্গে মিশে থাকা কার্বনও সমুদ্রে মিশে যায়। সমুদ্রের নীচে তা-ই ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে তৈরি করে চুনাপাথরের প্রবাল প্রাচীর। সমুদ্রগর্ভে তা জমতে থাকে। এবং লক্ষ লক্ষ বছর ধরে কার্বনকে সমুদ্রগর্ভে আটকে রাখে। ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমে যায়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষকদলের প্রধান অ্যান্ডি রিজ়ওয়েলের কথায়, “পৃথিবী যত উষ্ণ হবে, পাথরও তত দ্রুত ক্ষয় হবে। ফলে আরও বেশি পরিমাণে কার্বন সমুদ্রে জমা হবে। এতে পৃথিবী আবার শীতল হয়ে যাবে।”

বস্তুত, পৃথিবীতে এখনও পর্যন্ত অনেকগুলি তুষারযুগ এসেছে। বিশ্বের প্রাচীনতম হিমযুগগুলি অনেক বেশি তীব্র ছিল। ওই সময়ে প্রায় গোটা পৃথিবীই বরফ এবং তুষারে ঢেকে গিয়েছিল। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই প্রশ্ন থেকেই এই গবেষণার সূত্রপাত। এত দিন গবেষকদের ধারণা ছিল, শিলাক্ষয়ের মাধ্যমে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের এই প্রাকৃতিক ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় ভাবে তাপমাত্রার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। তবে প্রাচীন হিমযুগগুলি কেন এত চরম ছিল, সেই ব্যাখ্যা মেলেনি শিলাক্ষয়ের মাধ্যমে জলবায়ু নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা থেকে। সেই সূত্র ধরেই গবেষণায় নতুন তথ্য উঠে আসে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের হাতে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:১৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৬


কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে  মুক্ত হলো স্বদেশ?

কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত  তারা?

কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

তিনি বাংলাদেশী জাতির জনক

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



বঙ্গবন্ধৃ শেখ মজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে বাংলাদেশী নাগরিকগণের একাংশ। ১৯৭১ সালের পূর্বে বাংলাদেশী নামে কোন জাতি ছিল না। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণের একাংশ পশ্চিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×