somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিরপুরঃ এ কোন মগের মুল্লুক!!

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনা-১

নিজেদের পিতৃভূমিতে ভালোই ছিল চাকুলী এলাকার হিন্দু পরিবার গুলো। সব মিলিয়ে শতাধিক পরিবার। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নিজেদের বাড়ী-ঘর, জায়গা জমিতে সুখেই বসবাস করছিল তারা। তেমন কোন অভাব ছিলনা, ছিল সচ্ছলতার ছোঁয়া।

কিন্তু তাদের এই সুখ সইলো না বেশি দিন।
শুরু হলো চেনা অচেনা নানা রাক্ষসের আনাগোনা। লোলুপ দৃষ্টি পড়লো সহজ সরল হিন্দুদের বাড়ি ঘর, জায়গা জমির উপর।
জনৈক জহিরুল ইসলাম নামক কোন একজন ব্যক্তি তার ভিতরের বীভত্স রূপ সযত্নে ঢেকে দয়ালুর মুখোশ পরে হাজির হলো। শুরু হলো নানা প্রলোভন, সাহায্য এবং সহায়তার আশ্বাস আর দিনের দিন, রাতের রাত গাড়ি ভরে অচেনা লোকদের নিয়ে আনাগোনা। ভীতসন্ত্রস্ত এই সকল হিন্দুরা এদের কাওকেই চিনেনা, শুধু চিনে জহিরুল ইসলাম সাব কে।
নানা প্রলোভন আর সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তাদের বোঝানো হোল এসব পেতে হলে এর জন্য দস্তখত দিতে হবে।
অবশেষে এলাকার তৎকালীন চেয়ারম্যান এর সহায়তায় শুরু হলো সাদা কাগজে দস্তখত আর টিপসই নেয়া। তারা যত না সাহায্যের আশায় তার চেয়ে বেশি ভয়েই সাদা কাগজে টিপসই দিয়ে দেয়।
আর এভাবেই রাতের অন্ধকারে তাদের বাপদাদার ভিটা, জায়গা জমিন সব হাতছাড়া হয়ে গেল, লেখাপড়া না জানা অভাগারা সেটা জানতেও পারলো না। নিজেদের জায়গায় নিজেরা হয়ে গেল অবৈধ।

পরবর্তীতে সরকার ওই সব জমি এ্যাকোয়ার করলে তারা উচ্ছেদ হয় তাদের ভিটা থেকে। হয়ে যায় বাস্তুহারা।
আজ তারা সহায় সম্বলহীন, মাথা গোঁজার ঠাই নেই। কোথাও কুঁড়ে বানিয়ে থাকা শুরু করলে কিছুদিন পর উঠিয়ে দেয়া হয়, আবার অন্য কোথাও কুঁড়ে বানিয়ে থাকে, সেখান থেকেও আবার উঠিয়ে দেয়া হয়। এভাবেই পার হচ্ছে তাদের দিন, মাস, বছর এবং যুগ।
এখন তারা যেখানে আছে, শুনলাম নোটিশ দেয়া হয়েছে, সামনে জানুয়ারি তে তাদের আবার উচ্ছেদ করা হবে।
আজ তাদের বুক ভরা হাহাকার, এরপর কোথায় যাবে তারা!


ঘটনা-২

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মিরপুরে এই হিন্দুদের জমি যেভাবে দখল হল, আজ স্বাধীনতার ৪১ বছর পর এখনও অবৈধ ভাবে জমি দখল প্রভাবশালী মহলের নিয়মে পরিনত হয়েছে। শুধু ধরনটা একটু ভিন্ন।
আগে নিয়েছে ছল চাতুরী করে , এখন তার জায়গায় যোগ হয়েছে প্রভাব আর গায়ের জোর।

মিরপুরের বাউনিয়া এলাকা। এখনো অনেক খানি এলাকা জুড়ে পানি জমে থাকে, অনেকটা বিল এর মত।
সেই জায়গার উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে একটি মহল এর।
আশেপাশে সামান্য কিছু জমি কিনে পুরো এলাকা জবর দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে বি এন পি এবং আওয়ামী লীগ উভয় সরকারের সময়ই অত্যন্ত ক্ষমতাশালী একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।
মিরপুরে যাদের ব্যবসায়িক এবং পারিবারিক প্রভাব ও আধিপত্য অত্যন্ত প্রবল, শুধু মাত্র অর্থ ও রাজনৈতিক কারনে। বড় দুই দলেই রয়েছে তাদের শক্ত খুটি। আমি নাম বললেই সবাই চিনতে পারবেন।

সেই জায়গার যারা আসল মালিক, তাদের জন্য সেখানে জমি ক্রয় বিক্রয় কিংবা মাটি ভরাট করে বাড়ি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে।
এই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান টি বিভিন্ন ঝামেলা সৃষ্টি করে, ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে তাদের কে বাধা প্রদান করে। কেউ পাইপ দিয়ে বালু ভরাট করতে চাইলে রাতের অন্ধকারে তা খুলে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এমন কি লোকজন নিয়ে এসে মারধর করা হয়।
কিন্তু কেউ এ ব্যাপারে মামলা করা তো দূরের কথা, থানায় জিডি করারও সাহস পায়না।

কিন্তু ইতোমধ্যে তারা নিজেদের জমির সাথে আশেপাশের অন্যান্য জমি ভরাট করে অবৈধ দখল করে ফেলেছে।


আমার কথাঃ উপরের ঘটনা দুইটি আমার কোন অনুমান নির্ভর লেখা নয়।
হিন্দুদের দূরাবস্থার কথা আমার তাদের নিজেদের মুখে শোনা ও বর্তমান অবস্থা নিজের চোখে দেখা, পরবর্তী টাও তাই।
কোন সাংবাদিক ভাই যদি লেখাটা পড়ে থাকেন, খোঁজ নিয়ে দেখবেন, এগুলো সত্য নাকি মিথ্যা। পারলে মিডিয়া তে প্রচার করবেন।

আমার ব্যর্থতা, আমি নাম উল্লেখ করা সহ ঘটনার বিষদ বিবরন দিতে পারলাম না, হোক সেটা ভয়ে কিংবা ব্লগের নিয়মের কারনে।

এই ঘটনা দুটিই শেষ নয়, প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা এখন সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, এমন কি গ্রাম-গঞ্জেও ঢুকে পড়েছে। গ্রামের মানুষেরও আজ নিস্তার নাই। আর সব কিছুর সাথে জড়িয়ে আছ রাজনীতির প্রভাব। সবাই জানে এরা কারা, কিন্তু কেউ কিছু বলছে না।


রাজনীতির এমনই খেলা, এসব দেখার কেউ নেই। এই হল স্বাধীন বাংলাদেশ।
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা: আমরা সবাই ইনসাফের লোক—যতক্ষণ না নিজের স্বার্থ ছাড়ার প্রশ্ন আসে!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

একজন মানুষ অসুস্থ বোধ করছেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাতর কণ্ঠে বলছেন, একটু বসতে দেবেন? শরীরটা ভালো লাগছে না। আশপাশে মানুষ আছে, আসন আছে, চলমান ট্রেন আছে—শুধু তাঁর জন্য একটু জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×