somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নকল নিয়ে কয়েক ছত্র

০১ লা জুলাই, ২০১৪ রাত ১০:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নকল নিয়ে এত হা হাকারের কারণ বুঝতে পারছি না। নকল আমাদের পরীক্ষা সিস্টেমেরই এটি অংশ। ৭২ সালের ম্যট্রিক পাশ নিয়ে অনেক গল্প আছে। আমি প্রথমবার নক্লের সাথে পরিচিত হই সম্ভবত ১৯৭৪ সালে । আমার বড় বোনের জুনিয়ার বৃত্তি পরীকষা। আব্বার সাথে গিয়েছি, পানিটানি নিয়ে। হঠাত আমাদের পাড়ার পরিচত এক ভাই আমাকে পাশে ডেকে নিয়ে বললো নার্গিসের পরীক্ষা কেমন হচ্চছে? বললাম এখনও তো শেষ হয়নি। সে বললো, শেষ হোক না হোক , খুব কঠিন একটা অংক এসেছ, কেউ পারছেনা। নারগিসও মনে হয় পারবে না। আমি ফরিদ ভাইকে দিয়ে অংকটা করিয়ে এনেছি। এখনই পাঠাতে হবে। আমি বললাম, আপনার মাথা খারাপ? হলে ঢুকতে দেবে? তিনি বললেন, তোর মাথায় গোবর নাকি? হলে ঢুকতে দেয়? অর সিট কোনদিকে বল, আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি, এই সময় আব্বার চোখ পড়লো আমদের দিকে। আববার দিকে তাকিয়ে আমার প্রায় প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলার অবস্থা, আমি বল্লাম। আমি কিছু বলিনি। আব্বা আমদের দুজনের কথা শুনতে পেরছিলেন কীনা জানিনা। শুধু গম্ভীর গলায় বললেন। এদিকে আয়। কাছে যাবার পর বললেন আর যেন কখনও ওর সাথে না দেখি।

নকলের সাথে সরাসরি পরিচয় হলো, ১৯৭৮ সালে, আমার মামার এইচ এসসি পরীক্ষার সিট পড়েছে, এম এম কলেজ। মামা আমাদের সবার প্রিয়। তিনি আমাদের বাড়ি এসেচছেন পরীকষা দিতে। আমার সাথে তাঁর শোয়ার ব্যবসথা হয়েছে, ইংরেজি পরীকষার আগের দিন মামা দেখি ছোট ছোট টুকরা কাগজ, ছোট ছোট করে লিখছেন। বললাম মামা শুধু তো লিখেই যাচ্চছো পড়বা কখন? তিনি বললেন পড়া পড়ির সময় নেই। দেখে আয় দুলাভাই কোথায়, আর বু’রে বুলে আসবি, আমি পড়া লেখায় ব্যস্ত আমাকে যেন না ডাকে। ফিরে আসার পর তিনি দরজা বন্ধ করে আমার দিকে নোট বই আর চিরকুট এগিয় দিলেন আমি মন প্রাণ দিয়ে তাঁর নকল, লিখলম। নকল গুলি তিনি জা্মা প্যান্টের বিভিন্ন পকেটে রাখলেন। তারপর বললেন একট সূচী পত্র বানাতে হবে, কোন পকেট কোনট থাকলো, মনে থাকবে না আমি যত্ন করে তাও বানিয়ে দিলাম। সকাল বেলায় বোন, দুলাভাইকে সালাম দিয়ে তিনি রওনা হলেন। পরীকষা শেষ হবার কথা ১টায় তিনি বারোটার মধ্ে ফিরে এসেই, ব্যাগ গুছিয়ে ফললেন। আব্বা বাসায় ফেরার আগেই তিনি চলে যাবেন, মা বললেন, কোথায় যাস? কাল পরীক্ষা নেই? মামা বললেন, এভাবে পরীক্ষা দেওয়া যায়? আমাকে অন্যায় ভাবে এক্সপেল্ট করে দিয়েছ। মন খারাপ হয়ে গেলো মার। তার মামাতো ভাইটাকে এক্সপেল্ট করে দিলো তাও অন্যায় ভাবে। বললেন, তুই কিছু বললিনে? মামার মন আরো খারাপ হয়ে গেলো, কত জন নকল করছে, আমি তো কেবল সূচী পত্র বের করেছিলাম, বললাম স্যার দ্যাখেন এর মধ্যে কোন নকল আছে? স্যার বললেন বেয়দবি করলে পুলিশে দিয়ে দেবো।

এবার আমর কথায় আসি। ক্যাডেট কলেজ রাত ভর পড়ার নিয়ম নেই। এসএসদি পরীক্ষার সময়, ফিজিক্স পরীক্ষার আগের রাতে, কমন রুমে পড়তে পড়তে টেবিল টেনিসের টেবিলের উপর ঘুমিয়ে পড়েছি, সকালে ঘুম ভাংলো, ল্যাব এসিসট্যান্ট , মান্নান ভাইএর ডাকে, ওনাকে দেখে অবাক হয়ে গেলাম। তিনি বললেন, চোখ ডয়াব ড্যাব করে তাকিয়ে না থেকে। হলে যাও। সবাই চলে গেছে, তুমারে পাওয়া যাচ্ছে না বলে খুঁজতে পাঠিয়েছে। আমি হন্ত দন্ত হয়ে কোন মতে ইউনিফর্মটা প্রে দৌড় দিলাম, ডাইনিং হলে পাউরুটির একটা টুকরা মুখে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছি, সিদ্ধ ডিম হাতে দৌড়ে এলেন হেড বাটলার ভঁুইয়া ভাই, বললেন এই খেয়ে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছো ( আমাদের জন্যে এই লোক গুলোর টানের কথা মনে হলে চোখ ভিজে আসে) । ঝট পট ডিমটা খাই ফ্যালো। গরম ডিম পকেটে নিয়েই দৌড়ে গেলাম পরীকষার হলে, ততকষণে প্রশণ পত্র দেওয়া হয়ে গিয়েছে। লেখা শুরু করে বারবার পকেটে হাত দিচ্ছি, পকেটের ডিমের গরমে পা পুড়ে যাবার অবস্থা। রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ্ থেকে এক্সটারনাল এসেছিলেন মোস্ফা আজিজ স্যার। বিখ্যাত চিত্র শিল্পি, কাগজ পেন্সিল সব সময় তাঁর হাতে, পরীক্ষার হলে বসেও স্কেচ আঁকছেন। তিনি হঠাত পাশে এসে আমাকে দাড় করালেন, দেখি পকেটে কী! আমি ভয় ও লজ্জায় কাচু মাচু, হলের সবাই আমারদিকে তাকিয়ে আছে, নীতি বাগিসরা ভাবছে আমার জন্যে কলেজের বদনাম হতে যাচ্ছে। এমনিতেই দেরি করে এসেছি আবার পকেটে নকল। আমি পকেট থেকে হাত বের করিনা। একটু পরে কলেজের একজন স্যার এসে বললেন, পকেট দেখাও, কী আর করা, পকেট থেকে হাত বের করলাম । মোস্তফা আজিজ স্যারের চোখ কপাল উঠে গেছে। ‘এতদিন ধরে, ছাত্র চরাচ্ছি, ডিম্ নিয়ে কাঊকে পরীক্ষার হলে আসতে দেখিনি।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×