somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চোখের আলোয়

০৬ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ১০:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কয়েকদিন ধরে ডান চোখটা লাফাচ্ছিল। যে সে লাফ নয়। নিজে নিজে বন্ধও হয়ে যায়। পরিচিত এক ডাক্তারের কাছে গেলাম। তিনি বললেন ব্যাথা করে?
- না
- আর কোন আসুবিধা?
- যখন বেশি লাফালাফি করে পড়তে আসুবিধা হয়।
আজকাল চোখ দেখার জন্যে চোখের ডাক্তারদের অনেক যন্ত্রপাতি আছে। তার মধ্যে একটি হলো টুলে বসে মাইক্রোস্কোপের মত একটি যন্ত্রে চোখ লাগিয়ে বসা। অন্যপ্রান্তে ডাক্তার বসে রোগীর সাথে চোখা চোখি করেন বেশ রোমান্টিক একটা ব্যাপার। ডাক্তার সাহেব বেশ আবেগ নিয়ে বললেন তোমার চোখে কিছু ময়লা জমেছে। পরিষ্কার করে দিচ্ছি। যদি ঠিক না হয়। বুঝবো চোখের পেছন দিকে ময়লা জমেছে। তার জন্যে অন্য ব্যবস্থা। আমি তখন ফুল টাইম এমবিএর ছাত্র। MISTতে যখন তখন টিউটোরিয়াল হয়। একটি ক্লাশ মিস হওয়া মানে জীবন শেষ। ডাক্তারের কাছ থেকে চলে এলাম। তবে ক্লাশে এসে পড়লাম আরেক ঝামেলায়। সহপাঠিনীরা আমার দিকে সরাসরি তাকিয়ে কথা বলে না। গ্রুপ এসাইনমেন্টের সময় এক সতীর্থ বললেন ভাই আপনি সাধারণ কথা বারতার সময়ও দেখি চোখ মারেন। আমি আবার ছুটলাম ডাক্তারের কাছে। এবার আর সেনাবাহিনীর ফ্রি ডাক্তার নয়। পিজি হাসপাতালের এক চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে। প্রাথমিক প্রশ্নোত্তর আগের মতই। উনি বললেন তা আপনার আসল অসুবিধাটা কী? বললাম আসুবিধা আমার চেয়ে আমার সহপাঠিনীদের বেশি। সব শুনে উনি বললেন আজ কাল হয়েছে এক ফ্যাশন সবাই এমবিএ পড়ে। কয়েকদিন পর একজন সনাম ধন্য শিক্ষক আমাকে বললেন আমাদের ছোটবেলায় আমরা অনেক ধরণের দুষ্টামি করেছি। কিন্ত সব কিছু সব বয়সে মানায় না। আর দেরি না করে আবার ছুটলাম ডাক্তারের কাছে তিনি বললেন সমস্যাটা সম্ভবত চোখের নয়। একবার ইএনটি স্পেশালিশটকে দেখাবে নাকি? নাক, কান গলার ডাক্তার আমাকে ভালো করে পরীক্ষা করে কয়েকটি ওষুধ লিখে বললেন আপনার কোন আসুবিধা নেই
- তাহলে ওষুধ দিলেন যে!
- ওষুধ তো আর কিনে খেতে হচ্ছে না, খেয়ে দেখেন। কোন সাইড ইফেক্ট নেই।
-
চোখের দুঃখ ভুলে লেখা পড়ায় মন দেবার চেষ্টা করলাম। মেয়েরা বললো বাবা তমার একটা চোখ ছোট হয়ে যাচ্ছে। অনেকদিন পর মা এসেছিলেন। আমার চোখ দেখে মহা দুশ্চিন্তায় পড়লেন। তার রাজপুত্রের মত ছেলেটির চুল আগেই পড়ে গিয়েছিলো, এখন চোখও পুরো দুইটা রইলো না। তিনি বললেন এসব ডাক্তার কোন ডাক্তারই নয়। তুই বিদেশে যা।

মা’র জোরাজুরি আর মহিলাদের কাছে নিজের চরিত্র নিষ্পাপ প্রমানের লোভে সিএমএইচে যেয়ে দেখি ডাক্তার নিজেই মহিলা। ডান চোখের উপর আমার কোন দখল নেই। সেটি যখন তখন বন্ধ হয়ে যায়। আমি চোখ খুলে রাখার জন্যে বড় বড় চোখ করে মহিলার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। তিনি আদ্যান্ত শোনার পর বললেন রোগটা আসলে আপনার নার্ভের। আপনি ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন। সম্ভবত এটার নাম হেমিফেসিয়াল স্পাজম। চোখ খোলা বন্ধ করতে যে নার্ভটি কাজ করে সেটি কাজ করছে না। আপনি নিউরো সার্জনকে দেখান।

নিউরো সার্জন আমাকে দেখে খুশিই হলেন। বললেন একটি দুর্লভ রোগ বাধিয়েছেন দেখছি। এই রোগটা আমেরিকায় লাখে পনের জনের হয়। আপনাকে বটুলিনাম দিতে হবে। তবে ওষুধটি অনেক দামি। আমরা রাখি না। আপনি আপাতত ক্যালসিয়াম জাতীয় কিছু ওষুধ আর নার্ভ সামলানোর ট্যাবলেট খান। যদি আরও কয়েকজন রোগী পাই একটি ইনজেকশন এনে সবাইকে একসাথে দিয়ে দেবো। একটি ইঞ্জেকশন চার পাঁচ জনকে ভাগ করে দেওয়া যায়। আমি আশায় বুক বেধে ওষুধ নিয়ে গেলাম। এবার নতুন উপসর্গ শুরু হলো। এতদিন এক চোখ বন্ধ হত। ওষুধ খাবার পর দুই চোখই বন্ধ হয়ে যায়। শুধু ঘুম আসে।

সিএমএইচ থেকে ডাক পড়লো। ইঞ্জেকশন পাওয়া গেছে। ডাক্তার নিজে ফোন দিয়েছেন। তিনি যত্ন করে আমার ডান চোখের বিভিন্ন কোনায় পাঁচ বার সুঁই ফুটালেন। আমি বললাম ঠিক হবে তো স্যার। টিস্যু পেপার দিয়ে হাত মুছতে মুছতে তিনি বললেন। আশা তো করি। যদি ঠিক হয় আমাকে মনে করে জানাবেন। আমরা এই ইঞ্জেকশন আরও কিছু এনে রাখবো।

২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×