somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উনিশশ’ একাত্তর ১০

১০ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ১১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২৫ মার্চ সকাল সাড়ে আটটায় ব্রিগেডিয়ার মজুমদার জয়দেবপুরে রওয়ানা হবার সময় ক্যাপ্টেন আমীন আহমেদ চৌধুরীকে বললেন, ‘হাতে আর সময় নেই। তুমি চট্টগ্রামে ফিরে যাও। আর কর্নেল চৌধুরিকে বল, লাল ফ্ল্যাগ উড়িয়ে দিতে’। আমীন কথাটা ঠিক মত বুঝতে পারলেন না। তিনি সকালে মজুমদারের সাথে দেখা করতে লেঃ কর্নেল মোহিতের বাসায় এসেছিলেন তাঁর মামার গাড়িতে চেপে। ইএমই ( কোর অব ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারস) কোরের অফিসার লেঃ কর্নেল মোহিতের বাড়ি সিলেট। মজুমদারের সাথে তাঁর পারিবারিক পর্যায়ের জানাশোনা। মিসেস মোহিত তাদের নাস্তা না খাইয়ে ছাড়লেন না। নাস্তার সময় খুব বেশি আলোচনা হয়নি। হঠাত করে লাল ফ্ল্যাগের কথায় একটু হকচকিয়ে গেলেন তিনি।
কাল হেলিকপ্টারে ওঠার সময় মনে হলো, কিউএমজি (কোয়ার্টার মাষ্টার জেনারেল) জেনারেল জাঞ্জুয়া, মজুমদারকে একটু ধাক্কা দিয়ে সিটে বসিয়ে দিলেন। সেই থেকে মজুমদারের একটু বিচলিত লাগছিলো। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর প্রথমে মজুমদারের সাথে তাঁর কোর্সমেট জাহাঞ্জেব আরবাবের বাসায়* উঠেছিলেন আমীন। বাসার ভেতরের লনে, তাঁবু খাটিয়ে অনেক বেসামরিক লোককে থাকতে দেখে একটা খটকা লেগেছিলো তার মনে। তিনি গুলশানে তাঁর মামার বাসায় চলে যেতে চেয়েছিলেন। আবরার বললেন, ‘বাচ্চু দ্য সিটি ইস নট সেইফ ফর ইউ’। শুনে, মজুমদার বললেন, ‘ ইজ দেয়ার এনিথিং ভেরি সিরিয়াস ইন দ্য সিটি?’ আবরার উদ্ধত ভঙ্গিতে, নাথিং লাইক দ্যাট, গিভ মি টু কোম্পানি, আই উইল স্ট্রেইটেন এভরিথিং ইনক্লুডিং য়োর বঙ্গবন্ধু’ বলতে বলতে অন্যদের সাথে হাত মেলাতে চলে গেলেন । মজুমদার আমীনকে, ‘ফিসফিসিয়ে বললেন, দে কুড নেভার থিঙ্ক বিয়োন্ড দ্য রেসপন্সিবিলিটি অব এ কোম্পানি’। ততক্ষণে আমীনের মামা গাড়ি নিয়ে চলে আসায় তিনি চলে গিয়েছিলেন গুলশান। যাওয়ার পথে শুনেছেন, তাজুদ্দিন তাঁর আল্টিমেটাম জানিয়ে দিয়েছেন। ‘নাথিং লেস দ্যান এ কনফেডারেশন’। চট্টগ্রামে কর্নেল চৌধুরিকেও তাই টেলিফোনে তিনি একথায় জানিয়েছেন। উপরন্তু রফিককে ‘আপাততঃ ধীরে চলো’র জন্যেও বার্তা পাঠিয়েছেন কর্নেল চৌধুরির মাধ্যমে। এর সাথে মজুমদারের সকালের আদেশটা মিলছে না। এসব ভাবতে ভাবতে তিনি তাঁর মামার গাড়িতেই পৌছালেন এয়ারফোরসের মেডিক্যল ইউনিটে। সেখান থেকে বলা হলো ২৭ তারিখে রিপোর্ট করতে। এর পর আমীন, তার মামা শাহ আলম চৌধুরির মতিঝিলের হক ম্যানসনের অফিস থেকে ফোন করলেন চট্টগ্রামে। প্রথমে কোন বাঙালি অফিসারকে পাওয়া গেলোনা। তিনি মিসেস মজুমদারকে ফোন করে বললেন, ‘স্যার কর্নেল চৌধুরিকে একটা ম্যাসেস দিতে বলেছেন’। মিসেস মজুমদার বুঝতে পারলেন না তাঁর কথা। আমীন বললেন, ভাবী আমি যা বলছি হুবুহু তাই লিখে কর্নেল চৌধুরিকে পাঠান। খুবই জরুরী। তিনি লিখলেন, ‘লাল ফ্ল্যাগ উড়িয়ে দাও’।
একটু পরে আমীন ক্যাপ্টেন এনামের এক আত্মীয়, শহিদ কে ফোন করলেন। শহীদের কাছে জানাগেলো চট্টগ্রামের অবস্থা খারাপ। তিনি যদি ঢাকা থেক কোন মতে হাজীক্যাম্প পর্যন্ত আসতেও পারেন ক্যান্টনমেন্টে ঢুকতে হবে, পাহাড়ের গায়ে গায়ে ভেসপা চালিয়ে নতুন পাড়ার কাঁচা রাস্তা দিয়ে। কর্নেল চৌধুরির কাছে কমান্ডান্টের বার্তাটি পৌছালো কি না জানতে তিনি এবার তিনি ফোন করলেন ক্যাপ্টেন মোহসিনকে**। মোহসিন মারশালল’ অফিসে স্টাফ অফিসার। সেখানে পাওয়া গেল কর্নেল চৌধুরীকেও, তিনি বললেন, ‘ষোল শহরের দিকে ওয়াগান ফেলে জনতা সেনানিবাসের সাথে শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে’।
- স্যার বস লাল ফ্ল্যাগ উড়িয়ে দিতে বলেছেন’।
- তাতো বুঝলাম! কিন্তু এসব কথা তিনি নিজে বললে ভালো হয়। আমীন বললেন, তাঁকে দিয়ে বিকেল নাগাদ বলানো যাবে। উনি আগে জয়দেবপুর থেকে ফিরে আসুক।


সাড়ে দশটার দিকে ক্যাপ্টেন আমিন ধানমন্ডিতে এলেন কর্নেল ওসমানীর সাথে দেখা করতে। বললেন, ‘স্যার গাড়ি নিয়ে এসেছি, আজই চট্টগ্রামে শিফট করতে হবে’। ওসমানী তাঁকে বসিয়ে রেখে বিভিন্ন যায়গায় যোগাযোগ করে তারপর বললেন, ‘ President is going to announce something very important by 8’0 clock in the evening, or latest by tomorrow noon.’

*বর্তমানে ৫৬ বাশার রোড
** ১৯৮১ সালে অভ্যুত্থানের পর নিহত

সূত্রঃ Time; Flames of Freedom, আমীন আহমেদ চৌধুরিঃস্মৃতিচারণঃ অগ্নিঝরা মার্চ ১৯৭১ সালের সেই উত্তাল দিনগুলো, গেডিয়ার চৌধুরি খালেকুজ্জামানঃ সামরিক
জীবনের স্মৃতি, মেজর জেনারেল আমীন আহমেদের সাথে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট ও হালিশহরে আমার কথপকথন ১৯৯৩
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×