somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উনিশশ’ একাত্তর ১১

১২ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ৩:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



২৫ মার্চ সকাল এগারোটার দিকে ৮ বেঙ্গলের ক্যাপ্টেন চৌধুরি খালেকুজ্জামানকে পাঠানো হল বায়েজিদ বোস্তামী রেল ক্রসিংএ ব্যারিকেড সরানোর জন্যে। নতুন স্টেশন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার আনসারিকে আগের দিন ঢাকা থেকে পাঠানো হয়েছে সোয়াত যেকোন মূল্যে সোয়াত জাহাজ থেকে গোলাবারুদ আনলোড করার দায়িত্ব দিয়ে। জেনারেলরা যখন মজুমদারের অফিসে তাকে কথা বার্তায় ব্যস্ত রেখেছিলেন, ততক্ষণে, বেশিরভাগ বাঙালি অফিসারদের অলক্ষে আনসারি পোর্টে রওনা হয়েছিলেন। আনসারির ক্যারিয়ার প্রোফাইল খুব ভালো নয়। তার জুনিয়াররা একে একে জেনারেল হওয়া শুরু করলেও তিনি উপরে উঠতে পারছিলেন না। সোয়াত জাহাজ খালি করাটা তাঁর জন্যে হয়ে দাঁড়িয়েছে পুলসিরাত পার হবার পাথেয়। ২৪ তারিখ রাত থেকেই তিনি লেগে পড়েছিলেন সোয়াত জাহাজ খালি করার চেষ্টায়। চট্টগ্রামের বাঙালিরা যেহেতু বিহারি বাঙালি দাঙ্গার পর থেকেই পাঞ্জাবিদের সহ্য করতে পারছিলো না, তাই তিনি বালুচ ইউনিটকে এই কাজে না লাগিয়ে ৮ বেঙ্গলের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন এই কাজ। ৮ বেঙ্গলের অবাঙালি অধিনায়ক, লেঃ কর্নেল জাঞ্জুয়া উঠে পড়ে লেগেছেন সোয়াতের পেছনে। মেজর মীর শওকত আলীকে দেওয়া হয়েছে জাহাজ খালি করার সময় পাহারাদারির দায়িত্ব। এদিকে ষোল শহর রেল স্টেশন থেকে ৪০০ গজ পশ্চিমে নাসিরাবাদ রেল ক্রসিঙের উপর একটি মাল গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিয়ে ক্যান্টনমেন্টে যাবার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় বাঙালিরা। শুধু এখানেই নয় নাসিরাবাদ, ষোল শহর, আগ্রাবাদ সহ আরও অনেক জায়গায় বসানো হয়েছে ব্যরিকেড। ২৪ তারিখ রাত থেকে সে সব সরানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইবিআরসি আর ৮ বেঙ্গলকে। বাঙালি অফিসাররা পাঞ্জাবি অধিনায়কের আদেশে সেসব জায়গায় গেলেও ব্যরিকেড সরানোর ব্যাপারে খুব একটা গা লাগাতে দেখা যায়নি কাউকে।
অধিনায়কের আদেশে ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান ১০ জন সৈনিক নিয়ে নাসিরাবাদ রেল ক্রসিংএ পৌছালেও, তাঁর নিরাসক্ত ভাব দেখে সৈনিকরাও নিষ্ক্রিও হয়ে রইলো। তিনি ব্যারিকেড না সরানোর একটা অজুহাতও খুঁজে পেলেন। বগি গুলো একটির সাথে আরেকটি এমন ভাবে লাগানো যে সামনের বা পিছনেরটি না সরিয়ে রেল ক্রসিঙের উপরেরটি সরানো সম্ভব না। সৈনিকদের ট্রেনের উপর নজর রাখতে বলে ব্যাটালিয়নে ফিরে গিয়ে বললেন, যন্ত্রপাতি আর কারিগরী জ্ঞান না থাকায় তাঁর পক্ষে এই ব্যরিকেড সরানো সম্ভব না। অধিনায়কের পছন্দ হলো না তাঁর কথা। তিনি বললেন, ‘ইউ হ্যাভ জাস্ট কাম উইথ এ লেইম এক্সকিউজ। ওকে ইউ ফল ব্যাক উইথ য়োর ট্রুপস লেট মি সেন্ড সামোয়ান এলস’। এর পর মেজর মীর শওকত আলীকে পাঠানো হল, ব্যারিকেড সরাতে।

খালেকুজ্জামান ফিরে এসে, কিছুক্ষণ পর উপ অধিনায়কের অফিসে গেলেন। জিয়া সেখানে একা একা কাজ করছিলেন। খালেকুজ্জামানকে দেখে একটু খুশিই হলেন মনে হয়। ইশারায় চেয়ার দেখিয়ে একটি মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, ‘সো ইউ কেইম ব্যাক উইথ এ লেইম এক্সিউজ’। সে কথার উত্তর না দিয়ে খালেক পাল্টা জিজ্ঞেস করলেন, ‘ স্যার, হোয়াট’স গোয়িং টু হ্যাপেন? ফাইল থেকে চোখ না তুলেই জিয়া বললেন, ‘লেটস ওয়েট এন্ড সি’।


বেলা ১টার দিকে ফাইল বন্ধ করে উঠলেন তিনি। বললেন, সিও বলেছেন গার্ড চেক করতে চলো দেখে আসি কোথায় কী করছে ওরা’। খালেকুজ্জামানকে নিয়ে
একটি জীপে করে সরা সরি ক্যান্টনমেন্টের দিকে রওনা দিলেন তিনি। বায়জিদ বোস্তামি রোডে ঢোকার মুখে নাসিরাবাদ রেল ক্রসিঙের উপর থেকে মালগাড়ির বগীটা ততক্ষণে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। খালেকুজ্জামানের একটু অভিমান হলো মীর শওকত আলীর উপর, তিনি জিয়া কে বললেন, দেখেছেন স্যার, শওকত স্যার ক্লিয়ার করে দিয়েছেন! জিয়া বললেন His father used to serve in the Railway, that experience might have helped him. একটু দূরে কোকাকোলার সামনে লেফটেন্যান্ট শমসের মুবিনের সাথে দেখা হলো। তাঁর খোঁজ খবর নিয়ে আবার এগিয়ে চললো জীপ। ক্যান্টনমেন্ট থেকে একই পথে ফিরে এসে নিউমারকেট, কোর্ট হিল, আন্দরকিল্লা, চকবাজার হয়ে তারা ফিরে এলেন নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকায়। পথে অসংখ্য ব্যারিকেড সরাতে হলো নিজেদেরই। দুই এক জায়গায় বাঙালিরা কাছে এগিয়ে উকি দিলো জীপে। তাদের দেখে বেরিকেড সরানোর কাজে হাতও লাগালো দুই এক জন। বলল, আমাদের জীপ। কেউ কেউ জিজ্ঞেস করলো, কী হতে যাচ্ছে। জিয়া খুব একটা কথা বললেন না। চকবাজারে দেখা হলো দেখা হলো ছাত্রনেতা মোহাম্মাদ হোসেনের সাথে চিটাগং কলেজে খালেকুজ্জামানের সহপাঠি ছিলেন তিনি। জিয়ার সাথে পরিচিত হয়ে খুশি হলেন তিনি। বললেন, ‘যদি ওরা আক্রমণ করে আমরা কী করবো? স্যার আপনারা আমাদের সাথে আছেন তো?’ জিয়া কথা বলতেন কম। শুনতেন মনযোগ দিয়ে। মুচকি হেসে বললেন। ‘ওয়েট এন্ড সি’। খাল্কুজ্জামান বললেন, ‘বন্ধু সময়ে দেখবা তবে তোমরা রেডি থেকো’। সিরাজুদ্দৌলা রোডে দেখা হলো, ছাত্রনেতা হারূন খানের সাথে। তাঁর সাথেও পরিচয় ছিলো খালেকুজ্জামানের। তিনি এগিয়ে এলেন গাড়ির দিকে, বললেন আমরা কিন্তু রাজপথে আছি। জিয়াকে বললেন, স্যার আপনারা আমাদের লোক। জিয়া শুধু মুচকি হেসে মাথা নাড়লেন।
নাসিরাবাদে নামার সময় জিয়া বললেন, কী মনে হলো? খালেকুজ্জামান বললেন স্যার, সময় খুব খারাপ।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×