somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম): পর্ব-১:“ঈদের সংজ্ঞা ও ঈদ কি শুধু দুটিই???”

২৬ শে নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ১০:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পর্ব-১:“ঈদের সংজ্ঞা ও ঈদ কি শুধু দুটিই??
-------------------------------------------------
পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বিরোধী সম্প্রদায়ের নেতারা বলে থাকে ইদুল ফিতর ও ইদুল আযহা ছাড়া আর কোনো ঈদ নেই। তারা নিজেদের এই মনগড়া মন্তব্য প্রমাণের জন্য এই হাদীসটি উল্লেখ করে-
"সাহাবী আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলে কারীম সা. যখন মদীনায় আসলেন তখন দেখলেন বছরের দুটি দিনে মদীনাবাসীরা আনন্দ-ফুর্তি করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন এ দিন দুটো কি? তারা বলল যে আমরা ইসলামপূর্ব মুর্খতার যুগে এ দুদিন আনন্দ-ফুর্তি করতাম। রাসূলুল্লাহ সা. বললেনঃ 'আল্লাহ তাআলা এ দু’দিনের পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুটো দিন তোমাদের দিয়েছেন। তা হল ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর'।" ( আবু দাউদ)
সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ, ভালমত লক্ষ করুন এখানে ইদুল ফিতর ও ইদুল আযহা কে দুটি ঈদের দিন হিসেবে বলা হয়েছে কিন্তু কোথাও কি বলা হয়েছে এই দুটি দিন ছাড়া আর কোনো ঈদ নেই? উত্তর হল না। যার কারণেই পবিত্র কুর’আন ও আরও অসংখ্য হাদীসে আরও অনেক দিনকে ঈদ এর দিন হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।

# পবিত্র কুর’আনেঃ-
সূরা মায়িদাহ এর ১১৪ নং আয়াতটির যারা আরবী পড়তে পারেন তারা আরবী পাঠের দিকে নজর দিন ভালমত। দেখবেন আরবীতেই ঈদ বলা হয়েছে আল্লাহ এর নিয়ামত লাভের দিনকে।
قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَآئِدَةً مِّنَ السَّمَاء تَكُونُ لَنَا عِيداً لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
114
বঙ্গানুবাদঃ “ঈসা ইবন মারিয়ম বললেন- হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা নাযিল করুন। এ দিন আমাদের জন্য আনন্দোৎসব(ঈদ) হবে। আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার জন্যও তা হবে ঈদের দিন। আপনার পক্ষ থেকে এটি হবে একটি কুদরতি নিদর্শন”। [সূরা মায়িদাহ ১১৪]
ভালমত লক্ষ করুন পাঠকবৃন্দ। খুব সহজেই বুঝা যায়, আল্লাহ এর নিয়ামত লাভের দিনকেও ঈদের দিন হিসেবে উদযাপন করা যায়। আর হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) কে দুনিয়াতে রহমত হিসেবে প্রেরণ করা তো আরও বড় নিয়ামত। সেটা ঈদের দিন হবে নাই বা কেন? ? ?

এছাড়াও লাইলাতুল বারাত ও লাইলাতুল কদরকেও ঈদের দিন হিসেবে বলা হয়েছে। হযরত আব্দুল কাদীর জিলানী (রঃ) বলেন-
“ফেরেশতাদের জন্য লাইলাতুল বারাত ও লাইলাতুল ক্বদর দুটি ঈদের দিন”। [গুনিয়াতুত তালেবীন (উর্দু) পৃঃ ৩৬৫]

# হাদীস গ্রন্থসমূহেঃ-
১. জুম্মার দিনকে ঈদের দিন বলা:-
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন- রাসূলুল্লাহ (দঃ) ইরশাদ করেন, নিশ্চয় এ দিন (জুমুআর দিন) আল্লাহ তা’আলা মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি জুমুয়া পড়তে আসবে সে যেন গোসল করে ও সুগন্ধি থাকলে উহা লাগায় এবং তোমাদের উপর মিসওয়াক করা আবশ্যক। [ইবন মাজাহ পৃঃ ৭৮]
অনেক হাদীসে এই দিনটিকে ইদুল ফিতর ও ইদুল আযহা থেকেও শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। [দেখুনঃ- ইবন মাজাহ পৃঃ ৭৭ ও মিশকার শারীফ পৃঃ ১২০]

২. আরাফার দিন (৯ই জিলহজ্ব) ঈদের দিন:-
অনেক রেওয়াতে ৯ই জিলহজ্ব অর্থাৎ আরাফার দিনটিকেও ঈদের দিন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। [দেখুনঃ – মিশকাত শারীফ পৃঃ ১২১ ও তিরমিযী শারীফ পৃঃ ১৩৪]

এরকম আরও অসংখ্য প্রমাণ দেখানো যায় যেখানে আরও অনেক দিনকে ঈদ হিসেবে বলা হয়েছে। পোষ্ট বড় হয়ে যাবে দেখে তা আর দিচ্ছি না।
এখন আমাদের প্রশ্ন যারা সারা দিন কুর’আন-সহীহ হাদীস ইত্যাদি চিত্তাকর্ষক কথা বলে লাফালাফি করেন তারা কি জীবনেও উপরের কুর’আনের আয়াতের এবং হাদীসগুলোর আরবী পাঠ পড়েন নি? নাকি না পড়েই নিজেদের পছন্দমত কিছু সংখ্যক কুর'আনের আয়াত ও হাদীস পড়েই ফতওয়া দিয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন?

ঈদের সংজ্ঞাঃ
এখন আমরা ঈদের সংজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করব
১. ঈদের সংজ্ঞা বর্ণনা করতে গিয়ে আরবী অভিধানের অন্যতম কিতাব ‘আল মুজামুল ওয়াসীত’ এর ৬৩৫ পৃষ্ঠায় আছে-
“ঈদ বলা হয় কোন দুশ্চিন্তা বা কোন রোগ অথবা কোন আকাংখ্যা বা এ ধরণের অন্যান্য বিষয় যা বারবার ফিরে আসে এবং এমন প্রত্যেক দিনকে ঈদের দিন বলা হয় যে দিন কোন সম্মানীত বা প্রিয়তম ব্যক্তির স্মরণে মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়”।

২. ঈদের সংজ্ঞা বর্ণনা করতে গিয়ে ‘মেসবাহুল লুগাত’ এর ৫৮৩ পৃষ্টায় লিখা আছে-
“ঈদ এমন প্রত্যকে দিনকে বলা হয় যে দিন কোন সম্মানীত মহান ব্যক্তির অথবা কোন গুরুত্বপূর্ণ বড় ঘটনার স্মরণে কোন সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঈদকে এ জন্য বলা হয় কারণ তা প্রত্যেক বছর ফিরে আসে”।

৩. ‘ফিরজুল লুগাত’ এর ১২৭ পৃষ্ঠায় বলা আছে-
“ঈদ হল মুসলমানদের আনন্দের দিন, খুশির কোন অনুষ্ঠান ও খুবই আনন্দিত হওয়া”।

উপরে বর্ণিত অভিধান সমূহে ঈদের সংজ্ঞার আলোকে সংক্ষেপে বলা যায়, ঈদ হল কোন সম্মানীত প্রিয়তম ব্যক্তির অথবা কোন গুরুত্বপূর্ণ মহান ঘটনার স্মরণে অনুষ্ঠিত মাহফিল যা প্রতি বছরই নতুন নতুন আনন্দ নিয়ে আমাদের নিকট ফিরে আসে।

আর ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী বলতে নবী কারীম (দঃ) এর পৃথিবীতে আগমনকেই বুঝানো হয়েছে। উনা (দঃ) এর আগমন উপলক্ষে আমরা খুশী হই, আনন্দিত হই। এখানে আমরা উনার (দঃ) এর জন্মদিন বা জন্মবৃত্তান্ত(*) সম্পর্কিত ঘটনাগুলোসহ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করি যা আমাদের নিকট আল্লাহ তা’আলা তাঁর সমস্ত নবীদের (আঃ) সাথে নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা ইব্রাহিম (আঃ) ও ঈসা (আঃ) তাঁদের নিজ নিজ উম্মতদের নিকট আলোচনা করেছেন। এসব আলচনা করলে একটি সম্প্রদায়ের নেতারা আমাদের মুশরিক, বিদ’আতি, বিধর্মী, ভন্ড ইত্যাদি বলে গালাগালি করে থাকেন।
ইবন কাসির এর আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ২য় খন্ড, ১৬৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছেঃ
♣♣ইবলিশ শয়তান জীবনে ৪ বার খুব বেশি কেঁদেছে♣♣

أن إبليس رن أربع رنات حين لعن وحين أهبط وحين ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم وحين أنزلت الفاتحة
১. আল্লাহ যখন তাকে অভিশপ্ত হিসেবে ঘোষণা দিলেন,
২. যখন তাকে বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত করা হল,
৩. নূর নবীজীর ﷺ দুনিয়াতে আগমনের সময় এবং
৪. সূরা ফাতিহা নাযিল হবার সময়

আমাদের খুবই জানতে ইচ্ছা করে স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা যখন তাঁর প্রিয় রাসূল (দঃ) এর মিলাদ তথা জন্মবিবরণ নিয়ে পবিত্র কুর'আনে অসংখ্যবার আলোচনা করেছেন তখন বিরোধীরা কি ফতওয়া দিবেন? আরও জানতে ইচ্ছা করে ইব্রাহিম (আঃ) ও ঈসা (আঃ) যখন তাঁর উম্মাতদের কাছে রাসূল (দঃ) এর মিলাদ তথা জন্মবিবরণ নিয়ে আলোচনা করতেন তখন এই সম্প্রদায়ের নেতারা কি ফতওয়া দিবেন?


পরবর্তী পর্ব সমূহ ..........................
পর্ব-২: আল-কুর'আনের আলোকে ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
পর্ব-৩: আল-হাদীসের আলোকে ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
পর্ব-৪: খোলাফায়ে রাশেদীন (রাঃ) এর মতে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
পর্ব-৫: প্রখ্যাত আলেমগণের দৃষ্টিতে ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
পর্ব-৬: মক্কা-মদীনা শারীফে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
পর্ব-৭: বর্তমানে যারা পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বিরোধীতা করেন তাদের অতীত আলেমদের মন্তব্য

আরও আসছে...........................
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:১৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×