somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনি যে এতো বড় ভাগ্যবান সেটা জানেন?

০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভাই ব্রাদার একটু এই দিকে আয়েন না!

আমরা কতো টা ভাগ্যবান সেটা কি কখনো বুঝার চেষ্টা করি? করি না রে  পাগলা! আমার এই লেখা টা আপনি দেখে দেখে সুন্দর করে পড়তে পারতাছেন তাই না ভায়া? একটু চোখ বন্ধ করে  রাখুন তো কিরাম দেখায় অন্ধকার না? আমার লেখা দেখা যায় হি হি দেখা যায় না তাই না? এই সুন্দর পৃথিবীর প্রতিটা দৃশ্যশান বস্তু আপনি একই সাথে দেখতে ও অনুভব করতে পারছেন.. এতো ভাগ্যবান হবার পর ও যদি কালো আর ফর্সা হিসেব করে হীনমন্যতায় ভোগেন বলেন তো এটা কি ঠিক হলো? ধরেন আপনি অনেক ফর্সা একেবারে ধবধবে ফর্সা আল্লাহ গো যে কোন মেয়ে দেখলে অনায়াসে আপনার উপর ক্রাশ খেয়ে যাবে তাই না? কিন্তু আপনি যদি আয়নার সামনে আপনার চোখ দিয়ে এতো কিউট চেহারা খানা না দেখতে পান? ভাবছেন কখনো?

আবার অনেকে এই রকম আছে সারাক্ষণ বন্ধুদের বলে বেড়ায় উফ আমার অনেক কষ্টরে খুব আফসোস লাগে ইশ আরেকটু যদি লম্বা হতাম উফ উফ, ভাইরে এই কথা গুলো যে বন্ধুদের সুধাও একবার কি ভাবছো?যে আপনি সুস্থ মতো হাঁটতে পারতাছে ভালোই মতো দৌড়াইতে পারেন কারো সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে চলতে পারতাছে ঘুরতে পারতাছে , কলিজার টুকরা প্রেমিকার হাতে হাত রেখে যে হারিয়ে চলে যান সপ্নের দেশে, আবার হাত ধরে ধরে ভালবাসা গল্প করে বেড়ান,একটু পর পর যে প্রেমিকার সাথে সেল্ফি তুলে নিজের ফেবু ওয়ালে দেন যে আমি আর আমার জান্টু যাস্ট সেল্ফি (হাসির ইমো)  এইগুলো কি  কম সৌভাগ্য রে ভায়া?  আচ্ছা বাদ দেন আরেকবার ভাবুন তো আপনার ইয়া মুটা সুঠাম দেহের অধিকারী কিন্তু আপনাকে ক্রাচে ভর করে হাটতে হয়, কিংবা হুইল চেয়ারে? তাইলে ইয়া মস্ত বড় দামড়া বডি দিয়ে কি হতো?

আচ্ছা আবার  ভাবুনতো আপনি গরীব... নিজেকে নিজের ভাগ্যকে পারলে নিজের বাবা মাকে দিনে রুটিন করে বকাঝকা দেন, হীনমন্যতায় ভোগেন, নিজেকে নিজের কাছে ছোট করে রাখেন, কিন্তু কেন রে ভায়া গরীব করে বাবায় জন্ম দিছে বইলা ? তাইলে এরা কারা?


আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন মুচির দোকানে কাজ করতেন।আবুল কালাম (ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি) ছিলেন গরীব ঘরের সন্তান। তাঁর বাবা ছিলেন একজন মাঝি। তবুও তিনি একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী হতে পেরেছিলেন।নিকোলাস ক্রেজ ফেয়ারফ্যাক্সথিয়েটারে পপকর্ন বিক্রি করতো।বিখ্যাত গায়ক বন জোভি প্রথম জীবনে বাড়িঘর সাজানোর ডেকোরেটরের কাজ করতো।হলিউড অভিনেতা ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো খ্যাত জনি ডেপ ছোটো বেলায় রাস্তায় রাস্তায় বল পয়েন্ট কলম বিক্রি করতো!বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খান মুম্বাইতে এসে বেঞ্চে ঘুমাতেন, প্রতিদিন কাজ খোজার জন্য বের হওয়ার আগে বন্ধুর কাছে ২০ টাকা করে ধার নিতেন।আন্ড্রু কার্নেগী প্রচুর গরীব ঘরের ছেলে ছিলেন। তিনি একটি খামারে কাজ করতেন। পরে তিনি আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তি হয়েছিলেন।হলিউড অভিনেতা ব্রাড পিট প্রথম জীবনে এল পল্লো লোসো নামের এক রেস্টুরেন্টে মোরগের ড্রেস পরে হোটেলবয় এর কাজ করতো।থমাস এলভা এডিসনকে ছোটবেলায় সবাই বোকা, গাধা বলে রাগাত। তিনি পড়াশোনায় ভালো ছিলেন না। তবু তিনি একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী হতে পেরেছিলেন।

গরীব হয়ে জন্ম নেয়া দোষের নয় রে পাগলা গরীব হয়ে মারা যাবাই দোষের,

 আচ্ছা বুঝলাম আপনার মানিব্যাগ হয়তো ফুলে পকেট ফেটে বেরিয়ে আসে না, দামী প্রাডো গাড়ি থেকে চোখে রোদচশমা লাগিয়ে হয়তো নামেন না রাস্তায়, নামীদামী রেস্তোরাঁ তে গিয়ে চেক ইন দিয়ে খাওয়া হয়না আপনার বাট....

ভাবুনতো আপনি তো তবু ডাল ভাল আর সপ্তাহে একদিন গোশত ভাত খাচ্ছেন, বাট যারা দিনে একবার খাবার খেতে পারেনা ঠিকমতো।.. তারা কাদের বকবে? সৃষ্টিকর্তা কে? আপনি সুস্থ আছেন, দু চোখ ভরে পৃথিবী দেখতে পারছেন.. আপনি ফিট আছেন, যেখানে ইচ্ছে যেখানে চলে যেতে পারছেন, আজ কক্সবাজার তো কাল সিলেট... আপনি রোজ মুখে অন্তত ডাল ভাত হলেও খেতে পারছেন.... মাঝেমাঝেই মনে হয় আমার কেনো গানের গলা ভালোনা পরক্ষনেই মনে হয় আমি তো কথা বলতে পারি আমি সৌভাগ্যবান... আপনিও আমাদের সৃষ্টিকর্তা চাইলেই অন্ধ করে পাঠাতে পারতো, আমাদের চাইলেও খোঁড়া করে পাঠাতে পারতো.. আমাদের বোবা বানিয়ে পাঠাতে পারতো... আমাদের চাইলেই রেলষ্টেশনের পাশের ওই বস্তির একটা শিশু বানিয়ে পাঠাতে পারতো... প্রকৃতি আমাদের অনেক দিয়েছে... অনেক অন্তত কালো, বেটে, মোটা, গরীব এই শব্দগুলা মুখে এনে এতো বড় পাওয়াটাকে কেন এতো ছোট ছোট করে দেখি?  একটু ভাবুনতো একটু,
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৪৬
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ফোনে কয়টি গান সেভ করা আছে? #:-S

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



কদিন আগে একটা ফোন নিতে হয়েছে। আগের ফোনটা তিন বছরের মত সার্ভিস দিয়েছে। তবে টাচস্ক্রিনে সমস্যা দেখার কারণে সেটা ঠিক মত ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। নতুন ফোন বলে সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×