somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বায়নের কাল: নির্বাচনে অভিবাসন ও সাম্প্রদায়িক বিতর্ক

০৫ ই মে, ২০১৪ সকাল ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের রাজনীতিতে, বিশেষ করে নির্বাচনী রাজনীতিতে ভারত বিরোধিতা বরাবরই একটা বড় ইস্যু। কিন্তু ভারতের নির্বাচনে বাংলাদেশ কোনো ইস্যু হয়েছে, এটা আগে তেমন শোনা যায়নি। এবার বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি ও সভাপতি রাজনাথ সিং নির্বাচনী প্রচারণায় বারবার বাংলাদেশ প্রসঙ্গ তুলেছেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে একটা বিষয়ই তাঁদের বক্তব্য-বিবৃতিতে এসেছে; তা হলো কথিত অবৈধ অভিবাসন।
অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগি, ব্যবসা-বাণিজ্যে বৈষম্যমূলক বাধা অপসারণ, সমুদ্র ও সুন্দরবনের মতো প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির বিকাশে সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক পরিসরে অভিন্ন আঞ্চলিক স্বার্থরক্ষাসহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক। কিন্তু এত সব বিষয়ে অস্পষ্টতা রেখে ভারতের একমাত্র বিবেচ্য কথিত অবৈধ অভিবাসন।
বিজেপি আগেরবার ক্ষমতায় থাকার সময়ও কথিত অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিষয়টি সামনে এনেছিল। ভারতের নানা শহর থেকে শত শত বাংলাভাষীকে ধরে ধরে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টায় সীমান্তে এক অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছিল। তখন বিজেপির জোটসঙ্গী ছিলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তিনি অবশ্য এখন বলছেন ‘বাংলাভাষী হলেই তারা বাংলাদেশি নয়।’ গত ২১ এপ্রিল দ্য হিন্দু পত্রিকায় শুভজিৎ বাগচি এক প্রতিবেদনে দেখিয়েছেন গঙ্গার গতিপথ পরিবর্তনের কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যে বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষের ভোটাধিকার কীভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি লিখেছেন যে পশ্চিমবঙ্গের দুটি জেলা মালদহ ও মুর্শিদাবাদের দুই-তৃতীয়াংশ বাংলাভাষী মুসলমান। তারা ভারত বিভাগের আগে থেকেই সেখানে বসবাস করেন, অথচ অনেকেই তাদের বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করতে চান।
এই কথিত অবৈধ অভিবাসন বন্ধের যুক্তিতেই ভারত বাংলাদেশের সীমান্তে গড়ে তুলেছে বিশ্বের দীর্ঘতম কাঁটাতারের বেড়া। পরিবারের বন্ধন, চাষাবাদের জমি, এমনকি ঘরের উঠানও কাটা পড়েছে এই কাঁটাতারের বেড়ায়। আর তাদের সীমান্তরক্ষীদের গুলি চালানোর কারণে এই সীমান্ত ‘বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সীমান্তের’ খ্যাতি পেয়েছে। বিজেপি নেতারা এখনো দাবি করে চলেছেন যে প্রায় দুই কোটি বাংলাদেশি সেখানে অবৈধভাবে অভিবাসী হয়েছে। ২০০৩ সালেও তারা এই সংখ্যাটিই বলত। কিন্তু, সংখ্যাটি যে বিভ্রান্তিমূলক, সে কথা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানিই স্বীকার করে নিয়েছেন। ভারত সরকারের পরিসংখ্যান (সূত্র: সেন্সাসইন্ডিয়া ডট গভ ডট ইন) বলছে, ২০০১ সালে সে দেশে মোট অভিবাসী ছিল ৫১ লাখ, যার মধ্যে বাংলাদেশি ৩০ লাখ, পাকিস্তানি নয় লাখ ও নেপালি পাঁচ লাখ। ভারতীয় আদমশুমারির ওই প্রতিবেদন বলছে, এসব অভিবাসীর দুই-তৃতীয়াংশ কুড়ি বছরের বেশি আগে সম্ভবত বাংলাদেশের জন্মের সময় বা ভারত বিভাজনের সময়ে দেশান্তরিত হয়েছে। ভারতের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোয় যে হারে নেপালি পাচকের দেখা মেলে, তার কিন্তু কোনো পরিসংখ্যান নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। ভারত নেপালের সঙ্গে সীমান্তেও কিন্তু কোনো কাঁটাতারের বেড়া দেয়নি। কিন্তু ভারতে এবারের নির্বাচনে বিজেপির বক্তব্যে মনে হয় যেন সে দেশে অবৈধ অভিবাসনের একমাত্র উৎস বাংলাদেশ।
১৬ মের পর ভারতে অবস্থানরত কথিত সব বাংলাদেশিকে দেশত্যাগের জন্য গাঁট্টিবোঁচকা বেঁধে রাখতে বলা এবং ‘বাংলাদেশি সেটলারদের জায়গা করে দিতে আসামে গন্ডার ধ্বংস করার চক্রান্ত হচ্ছে’ বলে যেসব হুঁশিয়ারি মোদি দিয়েছেন (সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, মার্চ ৩১, ২০১৪), তা দেশটির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য কোনোভাবেই মঙ্গলজনক নয়।

Click This Link
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×