somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিনি আছেন স্মৃতির পাতায়

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তিনি এখন নেই।কিন্তু যখন তিনি ছিলেন তখন আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটা জুড়ে ছিলেন।আমি সারা জীবন তার অত্যন্ত আদর ও ভালবাসা পেয়েছি।তার সৎ চরিত্র, সুন্দর ব্যবহার ও ধার্মিকতার জন্য তিনি সকলের নিকট প্রিয় ও বিশ্বাসযোগ্য মানুষ ছিলেন।তিনি ছিলেন অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী।যিনি বন্ধুর মতো সব সময় আমার পাশে ছিলেন।শিক্ষকের মতো শিক্ষা দিতেন। এবং অভিভাবকের মতো লালন পালন করেছেন।তার ঋণ কোন দিনই শোধ করতে পারব না। এই মাননীয় ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হলেন আমার নানা।

যখন ছোট ছিলাম তখন বাবা-মায়ের কাছ থেকে খুব বেশি আদর-যত্ন পাইনি।কারণ,বাবা চাকুরীক্ষেত্রে দূরে থাকতেন।আর মা গৃহের কাজে বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকতেন। তাই তিনিও আমাদের খুব বেশি সময় দিতে পারতেন না। শিশুকাল থেকেই নানা আমাদের কোলে পিঠে করে মানুষ করেছেন।আদর যত্ন করে বড় করেছেন।তিনি প্রতিদিন আমাদের দেখতে আমাদের দাদার বাড়ি চলে আসতেন।আর আমাদেরকে নিয়ে তার বাড়িতে চলে যেতেন।আমাদেরকে একদিন না দেখে তিনি থাকতেই পারতেন না।যখন বিদ্যালয়ে পড়তাম তখন প্রতিদিন আমার জন্য টিফিন নিয়ে যেতেন।আমাদেরকে নানান জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যেতেন এবং পছন্দমত খেলনা ও পোশাক কিনে দিতেন।রাতে গল্প বলতে বলতে ঘুম পাড়িয়ে দিতেন।সকল আত্মীয় স্বজন আমাদের ভালোবাসলেও নানার মতো কেউই ভালবাসত না।মনের গভীর থেকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবাসতেন।

কিন্তু যখন আমি পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলাম, তখন আমরা সপরিবারে আব্বুর চাকুরীস্থলে চলে আসলাম।নানা আমাদের জন্য অস্থির হয়ে উঠলেন।আর সব সময় বলতেন গ্রামের বাড়ি চলে আসতে।কিন্তু পড়ালেখার স্বার্থে সেটা আর সম্ভব হল না।গ্রামের বাড়ি অনেক দূরে ছিল তাই বছরে একবারের বেশি যাওয়া হত না। এভাবে দু বছর কেটে গেল।নানা অসুস্থ হয়ে পড়লেন।এভাবে কয়েক বছর অসুস্থই থাকলেন।কিন্তু দূরে থাকায় আমরা তার সেবা যত্ন করার কোনো সুযোগ পেলাম না।

আমার এইচ.এস.সি পরিক্ষা চলাকালীন সময়ে হঠাৎ একদিন শুনলাম তিনি ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন।তারপর থেকে বিছানা ছেড়ে আর উঠতে পারেন নি।এক দুঃখজনক রাতে শুনলাম তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল।তারপর বুঝলাম,আমি পুরো নিস্তব্ধ হয়ে গেছি।মুখ দিয়ে একটি শব্দ ও বের হলো না।রাতটা এভাবেই কেটে গেল। পরদিন সকালে সবাই অনেক বুঝিয়ে পরীক্ষা দিতে পাঠাল।পরীক্ষার জন্য তাকে শেষ বারের জন্য ও দেখতে পারলাম না।তার দাফন হয়ে গেল।মনের মধ্যে সব সময় প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনা অনুভব করছি।আর আফশোশ করে যাচ্ছি তার জন্য কিছুই করতে পারি নি।এখন শুধু আল্লাহর কাছে একটাই প্রার্থনা করি, নানার পরকাল যেন অতি সুখের সাথে অতিবাহিত হয়। আর প্রত্যাশা করি যেন সকলের নানা যেন আমার নানার মত ভাল মানুষ হয়।

ছবিঃ গুগল
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৩৮
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×