
আমি তখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি, পাশের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছিলাম-বাড়ি ফেরার পথে ওয়াজ মাহফিলের উদ্দেশ্য বসা এক দোকান থেকে এক বন্ধুর অনুরোধে একটি উপন্যাস কিনে নিয়ে আছি। উপন্যাসটির নাম ছিল " প্রেমের নাম বেদনা " লেখকের নাম মনে নেই। বইটি পড়ার পর থেকে উপন্যাস পড়ার নেশা ধরে যায়-সেই শুরু তারপর " শরতচন্দ্র" "বঙ্গিমচন্দ্র" "রবীন্দ্রনাথ" "হুমায়ুন আহমেদ" আরও কত লেখকের বই পড়েছি তার হিসাব নেই।
এক সময় নিজের লেখার খুব ইচ্ছে হল-কিন্তু এত বড় লেখার ধৈয্য আমার ছিল না, তাছাড়া গ্রাম থেকে ঢাকায় পত্রিকা অফিসে লেখা পাঠিয়ে আবার দিনের পর দিন পত্রিকার পাতায় লেখা খুঁজা খুবই অসম্বভ ছিল, তাই সেই স্বপ্ন তখন বাদ দিয়েছিলাম।
২০০৫ সালে ০৩রা ডিসেম্বর ঢাকায় এলাম জীবনের তাগিদে, তখন আবার মাথায় এল লেখার কথা, নয়া দিগন্তের বুধবারের রম্য ম্যাগাজিন " থেরাপি " তে লেখা পাঠাতে শুরু করলাম, বুধবার এলে ম্যাগাজিনটি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়তাম আমার লেখা খুঁজতে, এপাশ-ওপাশ খুঁজেও আমার লেখার হদিস নেই -বুঝলাম লেখক হওয়া অতটা সহজ নয়, তবে আমি হাল ছাড়িনি-লেখা পাঠাতে থাকি সপ্তাহের পর সপ্তাহ।
অবশেষে এল আমার স্বপ্ন পূরণরের দিন, দিনটি ছিল ৭ই মার্চ ২০০৭ সাল, বুধবার। আমার লেখা দেখে আমি এত খুশি হয়েছিলাম তা আমি হয়তো কখনও ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এরপর থেকে নিয়মিত আমার লেখা প্রকাশ হত " থেরাপি" ও "অবকাশে"
আমার প্রথম লেখাটির নাম ছিল- "জুতা নিয়ে সাতকাহন"
দুইটি লাইন মনে আছে-
১। জুতা আবিস্কার করেন মি: জুতাই নামের এক আবিস্কারক, তার নাম অনুসারে জুতার নামকরণ করা হয়।
২। জুতা খুশি হয় তখন যখন তাকে দিয়ে মানুষরুপী শয়তানগুলোরে পিটায়।
প্রায় দুই বছর একাধারে লিখি- তারপর আবার আগ্রহ কমে যায়, এখন আবার ইচেছ করে তবে আগের সেই চিন্তা মাথায় আসে না।
তবে ৭ই মার্চ এলে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনলে আমার সেই দিনের কথা খুব মনে পড়ে।
( কেউ পড়ে বিরক্তি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন )
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০১৭ সকাল ১০:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



