
এখানে এসেছি প্রায় দু'বছরের কাছাকাছি। এখানে মুক্ত মনে লেখা যায় তাই লিখি, মনের বাইরে জোর করে কিছু করিনি কখনও। মন যা বলে যা বিশ্বাস করি তাই সবার সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করি। তবে এমন কাজ করার চেষ্টা করিনা যা আরেকজনকে কষ্ট দেয়। এখানে আমার অল্প সময়ে যা বুঝলাম- দেশের বড় দুই দলের উল্লেখযোগ্য অতি অন্ধ সমর্থক রয়েছে, আছে ধর্মীয় ব্ক্তা, আছে ধর্মনিরেপক্ষতাবাদী। রাজনীতির মাঠের মত এখানেও চলে কাঁদা ছুঁড়াছুঁড়ি। কারো লেখা নিজের মতের বাহিরে গেলে তাকে অশিক্ষিত, অমুক দলের দালালী করেন, রাজাকার, এই বিষয়ে নিয়ে লিখেছেন এই বিষয়ে আপনার জ্ঞান আছে এরকম নানান অপমান সূচক মন্তব্য করে থাকে। এখানে এক জন বিখ্যাত ব্লগার আছেন তিনি মতের বাহিরে গেলে মন্তব্য করেন- তেনা পেছা, হেন তেন ইত্যাদি।
আচ্ছা, মানুষ কি জন্মের সাথে পন্ডিত হয়ে আছে? যদি বিশ্বাস করি না, পৃথিবীতে এসে তাকে প্রতিকূল ডিঙিয়ে কিছু অর্জন করতে হয় তাহলে ব্লগে যারা মনের কথা লেখার হাতেখড়ি দিচ্ছে তাদেরকে কেন ব্যঙ্গ করছি আমরা, কেন তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি। সিনিয়রদের কি উচিত নয় তাদের ভূল ধরিয়ে দেওয়া।
অামি যা বিশ্বাস করি দেশের সব মানুষকে তাই বিশ্বাস করতে হবে, যদি এরকম মন-মানসিকতা থাকে তাহলে আমার মতে কোন কমিনিউটিতে যোগ না দেওয়া ভাল। আমার আদর্শ ব্যাক্তিকে সবাই আদর্শ হিসাবে নিবে এরকম চিন্তা থাকলে তার একা চলা উচিত নয় কি?
শুধু ব্লগ নয় যে কোন কমিনিউটিতে যোগ দিতে চাইলে সেই কমিনিউটিতে থাকা সবার কিছু মেীলিক শর্ত নিজের থেকে মেনে চলা উচিত তাহলে সুন্দর কিছু করার যে স্বপ্ন নিয়ে সবাই যোগ দেয় তার ব্যাতয় সহজে হয় না।
আমার মতের মিল হল না, আমি সেই বিষয়ে আমার মতের পক্ষে যুক্তিসহ তাকে বুঝানো চেষ্টা করতে পারি- সেই যুক্তি মানা-নামানা তার ব্যাপার কিন্তু না মানলেই তাকে কটু কথা বলা কি আমার ঠিক হবে, সুযোগ পেলে সেও আমাকে কটু কথা বলবে, ধীরে ধীরে বড় হবে, কমিনিউটি দুষিত হবে। তাই আমাদের সবার উচিত মার্জিত ভাষা ব্যাবহার করে নিজের যুক্তি তুলে ধরা, না হয় আস্তে কেটে পড়া।
তর্ক যদি একান্ত করতে হয় তা কেন মার্জিত ভাষায় করছি না, অরুচিকর শব্দ কেন ব্যাবহার করছি, এতে কি নিজের চরিত্র ফুটে তুলছি না। এক ছাদের নিচে অনেক মানুষ থাকলে কিছু তর্ক হবে, তবে তা মার্জিত, রুচিকর ভাষায় হলে ছাদের নিচের অন্যদের অসুবিধা কম হবে।
মানুষ মাত্র ভুল করে আবার ভুল বুঝার মত জ্ঞান সৃষ্টিকর্তা আমাদের দিয়েছে তাই ভুল বুঝতে পারার সাথে সাথে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া উচিত, তাহলে আর অনাকাঙ্খিত কোন ঘঠনা ঘঠার সম্ভবনা থাকে না। যদি কেও বলে আমার ভুল হয় না, তাহলে আমার দৃষ্টিতে সে আল্লাহর ফেরেস্তা না হয় অভিশপ্ত শয়তান।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



