
প্রথমে আমি ক্ষমা চাচ্ছি শিরোনামে বড় ভুল হওয়ার জন্য।
আমি শিরোনাম লিখতে চেয়েছিলাম মাওলানা ইলিয়াস সাহেব মুসলিম উম্মাহর জন্য রেখে গেছেন নানা কিচ্ছা ভরা "ফাজায়েলে আমাল" আর তার নাতি ধর্ম নিয়ে করছে উদ্ভট মন্তব্য, তাবলীগ জামাত নিয়ে আমার ব্যাক্তিগত কিছু কথা।
রেখে গেছেন বলার কারণ তাঁর নির্দেশই এই কিতাবটি শাইখুল হাদিস জাকারিয়া সাহেব লিখেছেন। তাছাড়া তাবলীগ জামাত না থাকলে এরকম একটি কিতাব কখনও এত প্রচারিত হত না।
নতুন নকিব মন্তব্য করেছে- কোন কিছু নিয়ে লিখতে হলে সে বিষয়ে অন্তত: কিছু ধারনা তো নিয়ে নিতে হয়। ফাজায়েলে সাদাকাত, পাঁচ খন্ডে সমাপ্ত বৃহত এবং নির্ভরযোগ্য হায়াতুসসাহাবাহ, ৬ খন্ডের বিষয়ভিত্তিক বিশাল হাদিস সংগ্রহ মুনতাখাব হাদীস সহ তাদের অনেক কিতাব রয়েছে যেগুলো নির্ভরযোগ্য।
খুবই সুন্দর বলেছেন তিনি,
এখন আমার কিছু প্রশ্ন,
১) এই কিতাবগুলিতে ফাযায়ালে আমলের মূল টপিকের বাহিরে কি আলোচনা আছে? সব কিতাবগুলির মূল টপিক এক।
২) ইসলামের দৃষ্টিতে কোরআন আগে নাকি হাদিস?
৩) আজ পর্যন্ত কোরআনে কি কোন ভূল ধরেছেন কোন আলেম? হাদিসে কি জাল নেই? (শাইখুল হাদিস আল্লামা ইসমাঈল বুখারী (র) কয়েক লক্ষ জাল হাদিস পুড়িয়ে দিয়েছেন)
৪) পৃথিবীতে কি নির্ভরযোগ্য কোরআনের তাফসির নাই? "তাফসিরে ইবনে কাসীর" তাফসীরে মারেফূল কোরআন" কি নির্ভরযোগ্য কিতাব নয়, তাছাড়া আল্লামা তর্কী উসমানীর করা তাফসিরটি কি নির্ভরযোগ্য নয়?
যদি নির্ভরযোগ্য হয়, তাহলে কেন তাবলীগ জামাত কোন তাফসির তাদের পাঠ্যে যোগ করছে না, বা দাওয়াতী কাজে ব্যাবহার করছে না? জাল হাদিস থাকা সম্ভবনা সত্বেও তারা হাদিস শুনাচ্ছে কিন্তু কোরআনের তাফসির নিয়ে যাচ্ছে না মানুষের কাছে। কিন্তু কেন?
নতুন নকিব আরে বলেছেন--
মাওলানা সাদ তাবলীগের একজন কর্মী বৈ কিছু নন।
সত্যি আপনি আমারে হাসাইলেন, নিজামুদ্দিন মারকাজের আমিরকে আপনি বলছেন একজন সামন্য কর্মী, যাকে বিশ্ব তাবলীগের অঘোষিত আমির বলা হয়।
এবার আমার প্রশ্ন,
১) আপনি তার কির্তকিত মন্তব্যগুলো পড়েছেন? যদি না পড়েন, তাহলে একটু পড়ুন, আর পড়ে বলেন তিনি এখনও আমির থাকার যোগ্য?
রিদওয়ান হাসান মন্তব্য করেছেন-
আচ্ছা, ইসলাম কি ওমুক বুযূর্খ, মুরব্বি কথা মত চলে, নাকি কোরআন, সহীহ হাদিস অনুসারে চলে? একটি সুন্দর প্রশ্ন। তবে বুযুর্গরা যদি কোরআন হাদিসের কথাই নিজ নিজ ব্যাখ্যানুপাতে বলে থাকে, তাহলে তাতে কোনো সাংঘর্ষিকতা দেখি না।
আপনার জন্য ফাযায়েলে নামায অধ্যায় থেকে একটু তুলে ধরছি--
তৃতীয় অধ্যায়, সম্ভবত পৃষ্টা ১২৫-- হযরত যয়নুল আবেদিন (রহঃ) দৈনিক এক হাজার রাকাত নামায পড়তেন। বাড়ীতে বা সফরে কখনও তাঁহার তাহাজ্জুদ ছুটে নাই।
এবার আপনি হিসাব মিলান, রাসুল (সঃ) নামায কিভাবে পড়তেন, নিশ্চই দীর্ঘ কিয়াম করে, রুকু সিজদাহ এমন করত যে কখনও মনে হত বুঝি আল্লাহর দিদারে চলে গেছেন।
এই বুর্যর্খ ব্যাক্তি নিশ্চই রাসুল (সঃ) মত নামায চেষ্টা করতেন,
তাহলে তাঁর প্রতি রাকাত নামায পড়তে নিম্নতম ২ মিনিট লাগত,
আসুন এবার অঙ্কে মিলায়, ১০০০ রাকাত নামায পড়তে লাগত ২০০০ মিনিট, ২০০০ কে ৬০ দ্বারা ভাগ করলে কত ঘন্টা হয়?
৩৩.৩৩ ঘন্টা!!!
এরকম উদ্ভট অনেক লেখা আমি আপনাকে বলতে পারব।
এখন দুইটা প্রশ্ন-
১) সফরে ফরজ নামায কছর করতে বলেছেন আল্লাহ তাঁর হযরত যয়নুল আবেদিন (রহঃ) সফরে তাহাজ্জুদ পড়তেন কেন?
২) ফাযায়েলে আমলের ঐ লেখা থেকে আপনি কি শিখবেন বা আমাদের মত আমপাবলিক কি শিখব?
মোঃ মাইদুল সরকার মন্তব্য করেছেন-
ভালভাবে না জেনে-বুঝে তাবলীগ নিয়ে আপনার পোস্ট করা ঠিক হয়নি।
আমি তাবলীগ নিয়ে পড়তে গিয়ে পড়েছি--
১) তাবলীগ কি ও কেন
২) সহীহ আক্বিদাহ মানদন্ডে তাবলীগ নিসাব
৩) তাবলীগ আমার কাজ
৪) তাবলীগ জামাত ও দেওবন্দ
৫) তাবলীগ বিরুধী অপ্রচারের জবাব
আপনার কাছে এর বাহিরে কোন বই থাকলে নাম জানাবেন, উপকার হবে আমার।
একটু অন্য টপিক বলি--
একজন মুসলিম অবশ্যই চায় রাষ্ট্রে ইসলামী শাসন কায়েম হোক, কিন্তু কিভাবে হবে? নিশ্চই একদল সংগ্রামী মানুষের মাধ্যমে যারা বাতিলের জুলুম অত্যাচার সহ্য করে দ্বীন কায়েমের জন্য লড়াই করবে।
আমাদের দেশেও এরকম কিছু দল আছে যারা লড়াই করছে, সেখানেও তাবলীগ প্রত্যক্ষ বা প্ররোক্ষভাবে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
কিভাবে?
২০ বছর আগেও তাবলীগে ইয়ং জেনারেশন তেমন না থাকলে এখন প্রায় ৫০% তাঁরা। আছে কলেজ পড়ুয়া, ভার্সিটি পড়ুয়া, আছে ডাক্তার, শিক্ষক।
সংগ্রামী দলটি যখন মানুষের কাছে গিয়ে বলছে যে আল্লাহর হুকুমত সর্বত্ত আনতে হবে এই জন্য প্রয়োজনে জিহাদ করতে হবে, তখন তাঁরা বলছে- তাবলীগ জামাত তো তা বলে না। আজ ইয়ং জেনারেশন ভুলেই গেছে সবকিছুই শুধু সত্তা জান্নাতের পথ পেয়ে।
তাবলীগ জামাত যখন বলছে দাওয়াতই হল মূল কাজ, বাতিলের বিপক্ষে জীবন বাজি রেখে লড়বে কোন পাগলে?
সর্বশেষ একটা কথা বলি তাবলীগের ভাষায়, জৈনিক বুযূর্খ বলেছেন- হক পথে দাওয়াতে ক্ষেত্রে যদি বাতিলের পক্ষ থেকে বাঁধা না আসে তাহলে বুঝতে হবে
এই পথে বড় ধরণের ভুল আছে।( এখন বাতিল দেখি সাহায্য করে)
(আমি কখনও চাই না আমার দ্বারা ইসলামের এক তিল পরিমাণ ক্ষতি হোক কারণ আমি বিশ্বাসী মুসলিম ও পালনকারী, তবুও আমি মানুষ আমার ভুল হওয়া স্বাভাবিক, আপনাদের সবার মন্তব্য থেকে আমি যেন ভালট শিক্ষা নিতে পারি দোয়া করবেন)
আমার লেখার লিংক মাওলানা ইলিয়াস সাহেব মুসলিম উম্মাহর জন্য রেখে গেছেন নানা কিচ্ছা ভরা "ফাজায়েলে আমাল" আর তার নাতি ধর্ম নিয়ে করছে উদ্ভট মন্তব্য, তাবলীগ জামাত নিয়ে আমার ব্যাক্তিগত কিছু কথা।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



