somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নির্বাচন নির্বাচন খেলা

১৮ ই মে, ২০১৬ সকাল ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বয়স তখন সাত, আট বছরের মধ্যে হবে। চোট্ট একটি গ্রামে আমরা বাস করতাম। গ্রামের একটি অংশে বিশ-পচিঁশটার মত হিন্দু পরিবার বাস করত, অপর অংশে আমরা চল্লিশের মত মুসলিম পরিবার বাস করতাম।
আমাদের পাড়ায় আমরা ছােট-বড় মিলে বিশ জনের মত ছেলে ছিলাম, প্রায় সবাই একসাথে স্কুলে যেতাম, আবার ফিরে বিকালে একসাথে মাঠে খেলতাম।
এখনকার মত তখন নির্বাচন নিয়ে অতি মতামাতি হত না। টাকার খেলা ছিল না। যতটুকু মনে পড়ে- মাইক দিয়ে জারি গান বাঁজিয়ে প্রার্থীর পক্ষে ভােট চাইত আর সাথে থাকত প্রার্থীর মার্কার ”ছাঁচ” তা দিয়ে মাঠির দেয়ালে প্রতিকের ছাপ এঁকে দিত। নির্বাচনের আগের রাতে এসে বড়জোড় চিড়া-গুড়, সাথে ”ইনতাজ বিড়ি” দিয়ে যেত। ভােটের দিন সকালে বাবা-মায়ের সাথে ভােট কেন্দ্রে যেতাম, দেখতাম কত সুন্দর করে পােস্টার রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে- কত মানুষ, কত আনন্দ করছে। বাবা-মার ভােট দেওয়া শেষ হলে বাড়ি ফিরতাম সাথে অবশ্যই দুই-একটা খেলনা নিয়ে। সন্ধ্যায় যখন বাবা এসে মাকে বলত- যাক ভাল মানুষটা পাশ করেছে তখন মনে মনে ভাবতাম ভাল মানুষকে সবাই ভালবাসে আমিও ভাল-মানুষ হব।
একদিন বিকালে এক বড় ভাই খেলার মাঠে এসে বলল- আমরা নির্বাচন করব তোমরা ভােটার, ভােট দিবে। আমরা ছােটরাতো খুবই খুশি, বাবা-মায়ের মত আমরাও ভােট দিতে পারব। দুইজন প্রার্থী হল, একজন আমার চাচাত ভাই, আমি তার পক্ষে মিছিল করতাম, ভােট চাইতাম। খুব আনন্দ করেছিলাম। ভােটের দিন এল-ভোট দিলাম, যেহেতু ভােটার সংখ্যা কম তাই একজন তিনবার করে ভােট দিলাম। ফলাফল ঘােষনা হল- আমার চাচাত ভাই পনের ভােট বেশি পেয়ে চেয়্যারম্যান হল। আমরা মিছিল করতে করতে চাচার কাছে এলাম চাচা আমাদের বিস্কুট কিনে দিলেন।
কিন্তু পরের দিন জানলাম - ভােটের আগে আমার চাচাত ভাইয়ের পক্ষে সিল মেরে বিশটা ভােট বক্সে রাখা ছিল। সেদিনের পরাজিত, নির্বাচনে দায়িত্ব থাকা সেই ভাইকে বলেছিল-অযথা আমার একশত টাকা নষ্ট করলি।
আজ পঁচিশ বছর পরে সেই কথাগুলো মনে পড়ল বর্তমান দেশের নির্বাচন দেখে।
নির্বাচন কমিশনের কাছে আজ আমার প্রশ্ন- কেন এই নির্বাচন নির্বাচন খেলা, আর কেনইবা আমার কষ্টের ট্যাক্সের টাকার অপচয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১৬ সকাল ১১:০৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×