somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের শরীরের মধ্য যে ১০টি জীবন্ত প্রাণী নিয়ে আমরা বেঁচে আছি!

০৮ ই মে, ২০১৪ সকাল ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিজের শরীরের ব্যাপারে ঠিক কতটুকু জানেন আপনি? আপনি কি জানেন, যে শরীরটির ওপরে আপনার এত কর্তৃত্ব, তাতে বাস করছে আরও অনেকগুলো প্রাণী? হ্যাঁ, মানুষের শরীরে এত এত প্রাণী বাস করে যে একে পুরোপুরি একটা বাস্তুসংস্থান এমনকি একটি গ্রহের সাথে তুলনা করা যায়! বেশিরভাগ সময়ে এদের উপস্থিতি আমরা টেরও পাই না। তবে মাঝে মাঝে এরা শরীরে তৈরি করে অস্বস্তি এবং রোগ। ভাবছেন উকুনের কথা বলছি? না, উকুন ছাড়াও আরও অনেক প্রাণী আছে যা আপনার অজান্তেই বাস করে আপনার শরীরে। আসুন দেখে নেই এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া যারা আমাদের শরীরকে বাসাবাড়ি মনে করে দিব্যি বাস করে যাচ্ছে।

১) অ্যাথলিট’স ফুট ফাঙ্গাসঃ Trichophyton এবং Epidermophyton নামের ফাঙ্গাসগুলো ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় একজনের শরীর থেকে অন্যের শরীরে ছড়িয়ে যায়। এরা পায়ের নখের ভেতরে গিয়ে লুকিয়ে যায়, এমনই অনেক সময়ে মাথার তালুতেও ছড়িয়ে যেতে পারে।


২) ভ্যাজাইনাল ফ্লোরাঃ কিছু উপকারি ব্যাকটেরিয়া বাস করে নারীদের জননাঙ্গে এবং উৎপাদন করে ল্যাকটিক এসিড, যার ফলে কিছু ক্ষতিকর জীবাণু যেমন Candida albicans জন্মাতে পারে না।
৩) ফার্মিকিউট এবং ব্যাকটেরয়েডঃ কমপক্ষে ৫০০ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া বাস করে মানুষের পেটের ভেতরে যাদের ওজন প্রায় ৩.৩ পাউন্ড। এরা কার্বোহাইড্রেট এবং অন্যান্য কিছু পুষ্টি উপাদান ভেঙে ফেলে এবং হজমে সহায়তা করে। এদের উপস্থিতির কারণে ক্ষতিকর কিছু ব্যাকটেরিয়া পেটের ভেতরে জন্মাতে পারে না।
৪) হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসঃ শতাধিক হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) মানুষের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। এদের মাঝে টাইপ ১৬ এবং ১৮ বেশি ক্ষতিকর, যাদের কারণে বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার হতে দেখা যায়।
৫) মাথার উকুনঃ Pediculus humanus capitis হোলো আমাদের খুব পরিচিত এবং বিরক্তিকর উকুন। এরা এতই পুরনো যে ১০ হাজার বছর পুরনো একটি চুলের সাথে আটকে থাকা অবস্থাতেও একটি উকুন পাওয়া গেছে। চ্যাপ্টা, উড়তে অক্ষম এসব ক্ষুদ্র প্রাণী আমাদের রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে এবং এদের ডিম পারে আমাদের চুলের মাঝে।
৬) ডেন্টাল স্ট্রেপ্টোকক্কাসঃ নিয়মিত ব্রাশ না করলে আমাদের দাঁতের ওপরে একটা ব্যাক্টেরিয়ার স্তর পড়ে যায়। এদের মাঝে বেশিরভাগই হলো Streptococcus sanguis এবং S. mutans। নিয়মিত ব্রাশ করলেও এরা কিছু পরিমাণে দাঁতে থেকেই যায়। দাঁত ওঠার সাথে সাথে এরা আবির্ভূত হয়, আর থাকে দাঁত খসে না যাওয়া পর্যন্ত।



৭) ডেমোডেক্স মাইটঃ এরা বাস করে আমাদের চোখের পাপড়ির গোড়ায়। এখানেই খাওয়া দাওয়া বংশবৃদ্ধি সব করে এরা আর বের হয় না সচরাসর। মাঝে মাঝে আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি তখন আমাদের মুখের ওপরে চলাফেরা করে। এরা হয়ে থাকে ০.৩ মিলিমিটারের মতো লম্বা। বয়স যত বাড়তে থাকে, এদের দ্বারা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা তত বাড়ে।
৮) শিংগলসঃ একবার যদি আমাদের চিকেন পক্স হয়ে থাকে তবে varicella-zoster নামের ভাইরাসটি আমাদের শরীরে থেকেই যায়। মেরুদণ্ডের কাছে স্নায়ুতে থেকে যায় এরা। বয়স বাড়লে বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে এই ভাইরাস আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। তখন এরা ব্যাথা এবং ত্বকে র‍্যাশ তৈরি করে যাকে বলা হয় শিংগলস।
৯) ফসিল ভাইরাসঃ আপনি কি জানেন, আপনার ডিএনএর ভেতরেও যে কিছু পরিমাণে অন্য পরজীবী প্রাণীর অংশ আছে? আমাদের পূর্বপুরুষকে যেসব ভাইরাস আক্রমণ করেছিলো তারা এসব আবর্জনা রেখে গেছে আমাদের শরীরে। এসব ডিএনএ টুকরো নিজেরাই সময়ের সাথে উন্নত হয়েছে এবং তারা আমাদের ডিএনএর ভেতরে নিজেদের কপি রেখে যেতে পারে। এর থেকে তৈরি হতে পারে মানবদেহের বিভিন্ন জেনেটিক রোগ।
১০) স্ট্যাফাইলোকক্কাসঃ শুধু যে আমাদের পেটের ভেতরে ব্যাকটেরিয়া রয়েছে তাই নয়, আমাদের ত্বকেও রয়েছে ট্রিলিয়নের মতো ব্যাকটেরিয়া। এরা ঘাম থেকে তৈরি করে দুর্গন্ধ। এসব ব্যাকটেরিয়া হয়ে থাকে ১৮২ প্রজাতির। এসবের বেশিরভাগ ব্যাকটেরিয়া অবশ্য ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে।
তথ্যসূত্রঃ দেশবিদেশে.কম
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ
একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

একদিন সকালবেলা, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জাতি খবরের কাগজ খুলে দেখল, দেশের সবচেয়ে বড় পদটির জন্য মনোনীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×