somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ মঞ্চনাটক ওয়ানগালার প্রদর্শনী

২২ শে জুন, ২০১৪ সকাল ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সাহিত্য বাজারের সম্মানে আজ ২২ জুন রবিবার বিকালে ওয়ানগালা নাটকের মঞ্চায়ন করছে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়-এর নাট্যকলা অনুষদ। ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নাট্যমঞ্চে এ নাটকের ২২তম প্রদর্শনী করছে শিক্ষার্থীরা।
ওয়ানগালা। আদিবাসী জীবনের এক চমকপ্রদ কাহিনী। গারোদের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব।
কেন, কিভাবে এই ওয়ানগালা যুক্ত হলো গারোদের জীবনে তারই তথ্যচিত্র নিয়ে ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়র থিয়েটার এন্ড পারফর্ম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ মঞ্চায়ন করছে নাটক ওয়ানগালা।
এ নাটকের নির্দেশক সৈয়দ মামুন রেজা জানান, ওয়ানগালা মূলত গারো আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষায় রচিত একটি সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব। মি. দান সিং সাংমা কতৃক রচিত আপাসান আগানা (গারো ভাষায় লিখিত) গ্রন্থে এটি প্রথম সংকলিত হয়েছে। উপজাতীয় কারচারাল একাডেমি বিরিশিরির পরিচালিকা বিভা সাংমা ওয়ানগালার এই কাহিনীটি প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন একাডেমি থেকে প্রকাশিত গ্রন্থে। পরবর্তীতে তাদের সহযোগিতা নিয়ে নাট্যকলা অনুষদ এটির মঞ্চায়নে সক্ষম হয়েছে। নাটক ওয়ানগালার রচনা করেছেন অরণ্যচারী।



প্রযোজনা ১১
রচনা: অরণ্যচারী
অনুবাদ: বিভা সাংমা
নির্দেশনা: সৈয়দ মামুন রেজা
গারো মিথোলজীর এক চমকপ্রদ কাহিনীর অংশ এই ওয়ানগালা আদিবাসী গারোদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সামাজিক উৎসব। প্রাচীন গারোদের মাঝে এই ওয়ানগালা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবেও প্রচলিত ছিল। এই অনুষ্ঠানের উৎপত্তি সম্মন্ধে গারোদের প্রাচীন-লোক বিশ্বাস নিয়েই ওয়ানগালার কাহিনী।
গারো ভাষায় এই (Oral tradition)-টি মি. দান সিং সাংমা কর্তৃক আপাসং আগানা ( গারো ভাষায় লিখিত) পুস্তকে প্রথম সংকলিত হয়। কাহিনীটির মূল কত্থক ধারন সিং সাংমা (শিলং, গারোহিল্স)।
মিস্ বিভা সাংমা, পরিচালিকা, উপজাতীয় কাল্চারাল একাডেমী, বিরিশিরি ওয়ানগালার এই কাহিনীটি প্রথম বাংলা রূপান্তর করেন গারো উপকথা (একাডেমী থেকে প্রকাশিত) পুস্তকে।

নির্দেশক মামুন রেজা আরো বলেন,
গারো সমাজ ও সংস্কৃতির হাজার বছরের ঐতিহ্য ওয়ানগালা উৎসব। ওয়ানগালা গারোদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবও বটে। আবহমান গারো সংস্কৃতির পরিμমায় ‘ওয়ানগালা’ গারোদের একটি বিশেষ এবং অবশ্য পালনীয় কৃত্য রূপে বিবেচিত। গারো মিথ অনুযায়ী; ‘তাতারা রাবুগা’ বিশ্বসৃজনের পর পৃথিবীতে সূর্য ও ফসলের দেবতা ‘মিসি সালজং’কে পাঠালেন। মিসি সালজং ফসলের ফরমান নিয়ে পৃথিবীতে আসলেন এবং এক দল মানুষকে ফসল ফলাবার বীজ প্রদান করলেন, সালজং দেবতার আশীর্বাদে ধরণীতে ফসল ফলে উঠলো। ফসলের এক ভাগ সালজং এর নামে উৎসর্গ করে যাবার প্রতিশ্রুতি পালিত হলো। নাচে, গানে আর পানে শুরু হলো সালজং এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাহেন্দ্রক্ষণ। আর এই থেকে প্রচলন ঘটলো ওয়ানগালা উৎসবের। গারো সমাজে প্রচলিত এই মিথকে অবলম্বন করে যে উৎসব, তাকে অবলম্বন করেই আমাদের আজকের এই নাট্য উপস্থাপন।
গারোদের জীবন ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, তাদের সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল সম্পর্কে পঠন-পাঠনের মাধ্যমে এবং পারষ্পরিক বিনিময় প্রথাতেই গড়ে উঠেছে “ওয়ানগালা” প্রযোজনা। কৃত্যাশ্রিত আমাদের এই পরিবেশনাটি দীর্ঘ দিনের গবেষনার ফসল। দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রতি ভালবাসার নিদর্শন স্বরূপ আমাদের এই ওয়ানগালা নাট্য পরিবেশন।

ওয়ানগালা নাটকের দৃশ্যায়নে যাদের পরিশ্রম আর একাগ্রতা এটিক সফল মঞ্চনাটকে পরিণত করেছে - ইউসুফ মুনসুর, বিলকিছ, মাহ্ফুজুর রহমান অর্নব, পাপিয়া সিংহ, তারেকুল ইসলাম, তানজিনা পিয়াস মিষ্টি, মনির হোসেন, তাহমিনা হোসেন বৃষ্টি, গ্রীতু মানখিন, ডালিয়া আক্তার, উদ্দীপন ম্রং, মুনকাসির হোসেন, সজল কুমার ভৌমিক, চন্দন রবি দাস মিঠুন, বাঁধন চন্দ্র পাল, হুমায়ুন কবীর, সায়মা আফরোজ নিশি, শামসুন্নাহার মুক্তা, কাউসার আহম্মেদ তুষার, শাহনাজ আক্তার ইতি, হাবিবুর রহমান জনি, সঞ্জয় সরকার হীরা, আফরোজা হোসেন কনিকা, এস এম হাসান মাহমুদশবনম মুস্তারী স্বর্ণা, শুভ আচার্য্য প্রমূখ।

চমৎকার কোরিওগ্রাফী ও কস্টিউম ডিজাইনের দায়িত্ব পালন করেছেন ইমরান হাসান শিমূল, সাদ্দাম হোসেন, চৈত্রী তৃতীয়া ঘাগরা, নেপথ্যে কণ্ঠ ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়েছেন নুসরাত জাহান শিমু, আফসানা আক্তার নওরীন, রনাল্ড সুবীর রখো। অঙ্গসজ্জায় ছিলেন দীপংকর বৈরাগী এবং নির্দেশনা সহযোগীর দায়িত্ব পালন করছেন ইমরান হাসান শিমূল।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×